shono
Advertisement

Breaking News

Bengal athletes National Games

তৃণমূল জমানায় পুরস্কারের অর্থ গিয়েছে 'যুবসাথী'তে, বঞ্চিত বাংলার পদকজয়ীরা

জাতীয় গেমসের শেষ সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বছর দেড়েক আগে। উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন শহরে দুরন্ত পারফরম্যান্সে সোনা-রূপো-ব্রোঞ্জ জিতেছেন বাংলার বহু ক্রীড়াবিদ।
Published By: Subhajit MandalPosted: 10:30 AM Aug 07, 2026Updated: 10:36 AM Aug 07, 2026

জাতীয় গেমসের শেষ সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বছর দেড়েক আগে। উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন শহরে দুরন্ত পারফরম্যান্সে সোনা-রূপো-ব্রোঞ্জ জিতেছেন বাংলার বহু ক্রীড়াবিদ। কেউ কেউ জিতেছেন একাধিক পদক। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই গেমসে পদক জয়ের জন্য প্রাপ্য সরকারি পুরস্কারের অর্থ এখনও হাতে পাননি তাঁরা কেউই!

Advertisement

২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত জাতীয় গেমসের ৩৮তম সংস্করণ চলেছিল উত্তরাখণ্ডে। সবমিলিয়ে ৪৭পদক নিয়ে অষ্টম স্থানে শেষ করেছিল বাংলা। যার মধ্যে ছিল ১৬ সোনা, ১৩ রুপো এবং ১৮ ব্রোঞ্জ। এর মধ্যে জিমন্যাস্ট প্রণতি দাস, অ্যাথলিট মৌমিতা মণ্ডল, টেবল টেনিসে অনিকেত সেন চৌধুরী, সাঁতারু সৌবৃতি মণ্ডলের মতো অনেকেই একাধিক পদক জিতেছেন। গেমস শুরুর আগে সাংবাদিক সম্মেলনে তৎকালীন ক্রীড়া সচিব রাজেশ কুমার সিনহা ঘোষণা করেছিলেন, সোনা-রুপো-ব্রোঞ্জের জন্য যথাক্রমে তিন, দুই এবং এক লক্ষ টাকা দেবে রাজ্য সরকার। কিন্তু তারপর একবছরেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল সরকার এক টাকাও দেয়নি পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের। যা নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ এক ক্রীড়াবিদ বলছিলেন, "গত কয়েক বছরে বাংলার বহু ক্রীড়াবিদ অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছে। জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক, অ্যথলিট স্বপ্না বর্মন তাদের মধ্যে অন্যতম। আর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে গত সরকারের উপেক্ষা ছিল অন্যতম কারণ।"

উত্তরাখণ্ড গেমসে তিনটে সোনা এবং একটা রুপো জেতা প্রণতি বলছিলেন, "দেড় বছর হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের এক টাকাও দেওয়া হয়নি। এমনিতেই অন্য রাজ্যের থেকে আমাদের অনেক কম অর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়। কিন্তু সেটুকুও আমরা হাতে পাইনি এখনও। জানি না কবে পাব।" অ্যাথলেটিক্সে সোনা-রূপো জয়ী মৌমিতার কথায়, "বহুবার ক্রীড়া দপ্তরকে মেইল করেছি পুরস্কারের অর্থ চেয়ে। কিন্তু কোনও জবাব পাইনি!"

শেষ জাতীয় গেমসে পদকজয়ীদের সরকারি পুরস্কারের অর্থ না পাওয়ার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চন্দন রায়চৌধুরি। তাঁর কথায়, "বিষয়টি অজানা নয়। আমরা বহুবার পূর্বতন সরকারের দ্বারস্থ হয়েছি। একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও বারবার জানিয়েছি। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। কিন্তু ক্রীড়াবিদরা তো সেসব জানেন না। তাঁরা পুরস্কারের অর্থ না পেয়ে সংশ্লিষ্ট খেলার কর্তাদেরই ধরেছেন। আমরা ওঁদের প্রশ্নের মুখে পড়েছি।” সেই সঙ্গে তিনি বলছেন, "বিওএ কিন্তু নিজেদের কথা মতো পদকজয়ীদের আর্থিক পুরস্কার দিয়ে দিয়েছে।"

কিন্তু কেন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারি পুরস্কারের অর্থ পাননি শেষ জাতীয় গেমসে পদকজয়ীরা? বেসরকারি সূত্রের খবর, অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছিল ক্রীড়া দপ্তর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই তহবিল ব্যবহার করা হয় 'যুবসাথী' প্রকল্পের জন্য! অর্থাৎ রাজ্যের হয়ে পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের প্রাপ্য অর্থ খরচ করা হয় তৃণমূল সরকারের ভোটমুখী প্রকল্পের জন্য। আর তাতেই বঞ্চিত হয়েছেন প্রণতি-মৌমিতারা।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement