shono
Advertisement
Shooting World Cup

গেমসের মাঝেই শুটিং বিশ্বকাপে ইতিহাস, মনু ভাকেরকে টপকে সোনা জয়ী আরেক ভারতীয়

দিনের শেষে পোডিয়ামে দুই ভারতীয় কন্যাকে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে উঠলেন অনেকেই। 
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 04:49 PM Jul 27, 2026Updated: 05:22 PM Jul 27, 2026

কমনওয়েলথ গেমসের মাঝেই শুটিং বিশ্বকাপে ইতিহাস ভারতের মেয়েদের। চিনের হাংঝৌয়ে সোনার পদক জিতলেন এশা সিং। মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তল ইভেন্টে তিনি পরাস্ত করলেন অলিম্পিকে জোড়া ব্রোঞ্জ জয়ী মনু ভাকেরকে। দিনের শেষে পোডিয়ামে দুই ভারতীয় কন্যাকে দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে উঠলেন অনেকেই। 

Advertisement

ফাইনালে স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে পোডিয়ামের শীর্ষে ওঠেন ২১ বছরের তারকা শুটার। অন্যদিকে, মনুর ঝুলিতে ব্রোঞ্জ পদক। হাড্ডাহাড্ডি ডবল শুট-অফে উত্তর কোরিয়ার হিয়ন গিয়ং পাককে হারান তিনি। ভারতের শুটিং ইতিহাসে এশার এই পদক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এই বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই ভারতের প্রথম স্বর্ণপদক। মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তল ইভেন্টে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন এশা। বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ ও এশিয়ান গেমসের আগে দুই ভারতীয় শুটারের এই সাফল্য দেশের পদক প্রত্যাশাকে আরও বাড়িয়ে দিল।

যোগ্যতা পর্ব থেকেই ভারতীয় শুটাররা দক্ষতার পরিচয় দেন। মনু ৫৮৬-২০X স্কোর করে শীর্ষে ছিলেন। এশা ৫৮৫-১৮X স্কোর করে দ্বিতীয় স্থানে থেকে ফাইনালে ওঠেন। প্রাক্তন এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়ন রাহি সরনোবতও ৫৮২-১৬X স্কোর করে নজর কাড়েন। র‌্যাঙ্কিং পয়েন্টস ওনলি (আরপিও) বিভাগে খেলেও ভালো পারফরম্যান্স করেন সিমরনপ্রীত কৌর ব্রার ও অভিধন্যা অশোক পাটিল। ফাইনালে অবশ্য একেবারে অন্য মেজাজে দেখা যায় এশাকে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে ৫০টির মধ্যে ৪০টি সফর হিট করে সোনা জিতে নেন তিনি। চিনের ঝাংকে এশার চেয়ে ৩ পয়েন্ট পিছনে শেষ করে রুপো জেতেন। শুট-অফ জিতে লড়াইয়ে টিকে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২৮টি সফল হিটে ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন মনু।

চলতি মরশুমে শুরুতে এর আগে মিউনিখ বিশ্বকাপে ৪৩টি হিট করে সিনিয়র ও জুনিয়র, দুই বিভাগেই বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন এশা। অভূতপূর্ব সেই সাফল্যের পর প্রত্যাশার চাপ যে বেড়েছিল, তা স্বীকার করেছেন হায়দরাবাদের শুটার। তাঁর মন্তব্য, "মিউনিখে পদক জিতেছিলাম। তাই এই প্রতিযোগিতায় অনেকটাই চাপ ছিল। যত ভালো খেলি না কেন, ততই প্রত্যাশার চাপ অনুভব করি। সেই চাপ কাটিয়ে উঠতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।" হাংঝৌ তাঁর কাছে যে বিশেষ জায়গা। সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। "হাংঝৌতে খেলতে ভীষণ ভালোবাসি। এশিয়ান গেমসের স্মৃতি এখনও টাটকা। এখানেই চারটে পদক জিতেছিলাম। এখানকার পরিসর, আলো আর ফাইনাল হলের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত। যা কাজে লেগেছে।" মন্তব্য ২০২৩ সালের এশিয়ান গেমসে এই ভেন্যুতেই চারটি পদক জেতা এশার।

অন্যদিকে, সোনা হাতছাড়া হলেও ব্রোঞ্জ পদককে সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন মনু। তিনি বলেন, "এই পদকটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটাই সোপান হিসাবে কাজ করে। পাশাপাশি বুঝতে সাহায্য করে, ভবিষ্যতে কোন পথে এগোতে হবে।" বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপ ও এশিয়ান গেমসের আগে এই অভিজ্ঞতা যে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, তাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। মনুর কথায়, "পদক আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ঠিকই, তবে এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা। আগামী বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে সেটা অনেক কাজে দেবে।" মিউনিখের বিশ্বরেকর্ডের পর হাংঝৌতে সোনা জিতে এশা নিজের দুরন্ত ফর্ম ধরে রাখলেন। আর মনুর ব্রোঞ্জও স্পষ্ট করে দিল, ভারতের মহিলা পিস্তল শুটিং এখনও বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement