রাতারাতি বদলে গিয়েছে ভারতীয় দলের জার্সি। নীলের বদলে গেরুয়া রঙের জার্সি পরে বিশ্বকাপ খেলতে নামবে পুরুষ এবং মহিলা হকি দল। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয় সমালোচনা। এমনকী জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরেন রাসকুইনহাও প্রশ্ন তোলেন জার্সির রংবদল নিয়ে। এবার গোটা বিষয়টি নিয়ে সাফাই দিয়েছে হকি ফেডারেশন।
আগস্ট মাসে নেদারল্যান্ডস এবং বেলজিয়ামে বসছে হকি বিশ্বকাপের আসর। তার আগে পুরুষ এবং মহিলাদের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন জার্সি উন্মোচনের ভিডিওটিও প্রকাশ করে ফেডারেশন। সেখানেই দেখা যায়, চিরাচরিত নীল জার্সি নয়, ভারতীয় হকি তারকাদের পরনে গেরুয়া রঙের জার্সি। এই ভিডিও ভাইরাল হতেই সমালোচনার ঝড়। কিন্তু হকি ফেডারেশনের দাবি, হকির মাঠ সাধারণত নীল রঙেরই হয়। সেখানে মাঠের সঙ্গে জার্সির রং একেবারে মিশে যায়। খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে আলোচনার পরই জার্সির রং বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু অন্যান্য যাবতীয় রংকে অগ্রাহ্য করে গেরুয়াটাই কেন বেছে নেওয়া হল জার্সির জন্য? হকি ইন্ডিয়ার উত্তর, বেশ কয়েকটি রঙের মধ্যে হলুদ এবং গেরুয়ার পক্ষেই বেশি ভোট পড়েছিল। দীর্ঘ আলোচনার পর গেরুয়া রং বেছে নেওয়া হয় কারণ দেশের জাতীয় পতাকায় রয়েছে এই রংটি। সাহস, ত্যাগ এবং জাতীয় গর্বের প্রতীক এই গেরুয়া রং। হকি ফেডারেশন মনে করিয়ে দিয়েছে, এর আগে ২০১৪ এবং ২০১৮ বিশ্বকাপের আগেও জার্সির রং বদলেছিল। যথাক্রমে হলুদ এবং আকাশি রঙের জার্সি পরেছিলেন হকি তারকারা।
তবে এই প্রথম নয়, সাম্প্রতিক অতীতে ভারতের ক্রীড়ামহলে একাধিকবার গেরুয়া জার্সি দেখা গিয়েছে। ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্র্যাকটিস জার্সি ছিল গেরুয়া। তারপর মহিলা ফুটবলারদেরও গেরুয়া জার্সি পরে অনুশীলন করতে দেখা গিয়েছে। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক খেলার ময়দানে দেশের প্রতিনিধি হিসাবে গেরুয়া জার্সি পরে নামছেন ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা-এমন ঘটনা এই প্রথম। ক্রীড়াদুনিয়ায় ভারত মেন ইন ব্লু, ব্লু টাইগ্রেস এমন নামে পরিচিত। এবার কি তাহলে সেই পরিচয় মুছে ফেলার পালা?
