১৬ বছর আগে বাবা দাঁড়িয়েছিলেন পোডিয়ামে। পরিবারের সেই ধারা বজায় রাখলেন ছেলে। কেবল পদক জেতাই নয়, বাবার পারফরম্যান্সকেও ছাপিয়ে গেলেন। সোমবার ভারোত্তোলনে রুপো জিতেছেন ভাল্লুরি অজয় বাবু। পুরুষদের ৭৯ কেজি বিভাগে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। অজয়কে দেখে অনেকেরই মনে পড়ছে তাঁর বাবার কথা, যিনি ২০১০ সালে কমনওয়েলথ গেমসে পদক জিতেছিলেন।
মাত্র এক কেজির জন্য সোনা হাতছাড়া হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের এই ভারোত্তোলক। ২১ বছর বয়সি অজয় প্রথম চেষ্টাতেই স্ন্যাচে ১৪৫ কেজি ওজন তুলে ফেলেন। একবার ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত ১৪৯ কেজি ওজন তুলে স্ন্যাচ পর্ব সমাপ্ত করেন। কমনওয়েলথ গেমসের এটাই রেকর্ড। তখনও পর্যন্ত সোনা জয় নিশ্চিত ভারতীয় ভারোত্তোলকের। ক্লিন অ্যান্ড জার্ক পর্বে এসে প্রথম চেষ্টায় ১৮১ কেজি ওজন তোলেন অজয়। কিন্তু তার বেশি ওজন তুলতে পারেননি। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৮৪ কেজি ওজন তুলে ফেলেন মালয়েশিয়ার এরি হিদায়াত মহম্মদ। মাত্র এক কেজির ব্যবধানে সোনা হাতছাড়া হয় ভারতীয় অ্যাথলিটের।
অন্ধ্রপ্রদেশের একটি ছোট্ট গ্রামে অজয়ের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। মূলত বাবাকে দেখেই ভারোত্তোলনের প্রতি ভালোবাসা জন্মায় তাঁর। ২০১০ সালে দিল্লিতে আয়োজিত কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন অজয়ের বাবা ভাল্লুরি শ্রীনিবাস। ৫৬ কেজি বিভাগে ভারতকে পদক এনে দেওয়ার পর শ্রীনিবাস এখন ফুলের চাষ করেন। পাশাপাশি ছেলেকে ভারোত্তোলনে প্রাথমিক প্রশিক্ষণও দিয়েছেন। সেই পরিশ্রমের ফল মিলেছে কমনওয়েলথ গেমসে এসে।
উল্লেখ্য, চলতি কমনওয়েলথ গেমসে মোট ৬ জন ভারোত্তোলক পদক জিতেছেন। সোনা জিতেছেন মীরাবাঈ চানু। এছাড়াও রুপো এসেছে অজয়ের পাশাপাশি জ্ঞানেশ্বরী যাদব, মুথুপান্ডি রাজা এবং ঋষিকান্ত সিংয়ের ঝুলিতে। ব্রোঞ্জ জিতেছেন বিন্দিয়ারানি দেবী।
