shono
Advertisement
Birbhum

মিনারের বাড়িতে লুকানো ২৮ কোটির উৎস কী? অনুব্রত ঘনিষ্ঠ টুলুর বিশাল 'সাম্রাজ্যে' হানা পুলিশের

বিপুল এই টাকা উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় খোঁজ নেই তাঁর। গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন টুলু?
Published By: Kousik SinhaPosted: 03:20 PM Jul 30, 2026Updated: 04:18 PM Jul 30, 2026

বুধবার মধ্যরাত থেকে সময় যত গড়িয়েছে, বীরভূমের (Birbhum) মিনার মণ্ডলের বাড়ির বিভিন্ন জায়গা থেকে বেরিয়েছে থরে থরে নোট! পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুব্রত মণ্ডল ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মিনারের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। যদিও মিনারের স্ত্রীয়ের দাবি, বিপুল এই টাকা তাঁদের নয়। এমনকী পুলিশেরও দাবি, বিপুল অর্থের পিছনে রয়েছেন টুলু মণ্ডল। তাঁরই বিপুল টাকা লুকানো ছিল মিনারের বাড়িতে। কিন্তু এই কোটি কোটি টাকার উৎস কী? তা জানতে এবার পাথর এবং বালি ব্যবসার ‘বেতাজ বাদশা’ টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের একাধিক ঘাঁটিতে হানা দিল পুলিশ। যদিও বিপুল এই টাকা উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় খোঁজ নেই তাঁর। গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন টুলু?

Advertisement

বীরভূমের মাটিতে বিপুল টাকা এবং সোনার 'খনি'র খোঁজ সামনে আসতেই আসল ঘটনা সামনে আনার দাবি জানান হাঁসন বিধানসভার বিধায়ক কাজল শেখ।

জানা গিয়েছে, মিনার মণ্ডলের টাকার উৎস খুঁজতে টুলু মণ্ডলের সিউড়ির সুভাষপল্লির বাড়িতে জেলা পুলিশের একটি দল হানা দেন। ডিএসপি (ডিইবি) সুরজিৎ মণ্ডল, ডিএসপি (সদর) সৌরভ ভট্টাচার্য, সিউড়ি থানার আইসি শৈলেন্দ্র উপাধ্যায়-সহ পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা এই মুহূর্তে সেখানে তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে খবর। একইসঙ্গে টুলুর সোঁতশালের একটি বাড়িতে এবং মহম্মদবাজারের একটি পার্কিংয়েও পুলিশের বিশাল টিম তল্লাশি চালাচ্ছেন বলে খবর। মূলত, তাঁর বিপুল সম্পদের উৎস সন্ধানেই এই তল্লাশি চলছে বলে খবর।

টুলু মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশের বিশাল টিম।

কিন্তু কে এই টুলু মণ্ডল? বীরভূম জুড়ে কীভাবে হল তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য? স্থানীয়দের কথায়, টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নাজিবুদ্দিনের পিছনে রয়েছে অনুব্রত মণ্ডল। জানা যায়, তৃণমূল আমলে পাথরের ডিসিআর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিপ্ট) জালিয়াতি করেই টুলু মণ্ডলের রকেটের গতিতে উত্থান। দিনমজুরির কাজ করতে করতেই গাড়িতে পাথর চাপানোর ইজারা নেন টুলু। সেখান থেকে কিছুটা টাকা রোজগার করে ধাপে ধাপে কয়েকটি লরি কিনে নিজেই হাত পাকান পাথর পরিবহণের ব্যবসায়। ধীরে ধীরে আর্থিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে শুরু করেন তিনি। দ্বিতীয় ধাপে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলের জেলা ও রাজ্য স্তরের নেতারা বুঝতে পারেন, মহম্মদবাজারে মাটির তলায় পাথরের নয় বরং টাকার খনি রয়েছে। সেখান থেকে বিপুল রোজগার করা সম্ভব। স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকার উপর নজর পড়ে নেতাদের, আর আবারও নিজের শিক্ষিত মাথাকে কাজে লাগিয়ে নেতাদের সঙ্গে পাথর ব্যবসায়ীদের সখ্যতার নিরিখে প্রথম স্থানে চলে আসেন টুলু মণ্ডল। এতে টুলুর উত্থানের পথ আরও প্রশস্ত হয়। তবে ২০১৬ সালে অনুব্রত মণ্ডলের স্নেহধন্য হওয়ার সুবাদে ডিসিআরের টোল গেট পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। শুরুতে বাড়ির এলাকা সোঁতশাল টোলগেটের। পরে ওই এলাকার আরও ছ’টি টোলগেটের। সেখান থেকেই তাঁর ফুলে ফেঁপে ওঠা।

বীরভূমের মাটিতে বিপুল টাকা এবং সোনার 'খনি'র খোঁজ সামনে আসতেই আসল ঘটনা সামনে আনার দাবি জানান হাঁসন বিধানসভার বিধায়ক কাজল শেখ। তিনি বলেন, ''কোনও একজনের বাড়িতে বিপুল পরিমান কালো টাকা উদ্ধার হল। সোনা উদ্ধার হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটির মতো। কিন্তু কীভাবে এই টাকা এল? গচ্ছিত রাখার পিছনে কার হাত হাত রয়েছে, কে কে যুক্ত রয়েছে তা সামনে আনা প্রয়োজন। শুধুমাত্র গরমবার্তা ছড়িয়ে দিলে হবে না।''

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement