shono
Advertisement
Olympics

অলিম্পিকের আগে সিদ্ধান্ত আইওসি'র, মহিলা বিভাগে আর নামতে পারবেন না রূপান্তরকামীরা

‘বায়োলজিক্যাল ফিমেল’ বা জন্মসূত্রে নারী নন, তাঁরা আর মহিলা বিভাগে প্রতিযোগী হিসেবে গণ্য হবেন না। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রধান ক্রিস্টি কভেন্ট্রি এই ঘোষণা করেন।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 12:05 PM Mar 27, 2026Updated: 12:06 PM Mar 27, 2026

অলিম্পিকের মহিলা বিভাগে এবার থেকে লড়তে পারবেন না রূপান্তরকামী অ্যাথলিটরা। অর্থ্যাৎ ‘বায়োলজিক্যাল ফিমেল’ বা জন্মসূত্রে নারী নন, তাঁরা আর মহিলা বিভাগে প্রতিযোগী হিসেবে গণ্য হবেন না। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রধান ক্রিস্টি কভেন্ট্রি এই ঘোষণা করেন। আসন্ন লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকেই এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

Advertisement

ক্রীড়াবিশ্বে দীর্ঘদিন ধরেই মহিলা বিভাগকে ‘বায়োলজিক্যাল ফিমেলদের’ জন্য নির্দিষ্ট করার দাবি উঠছে। অর্থাৎ রূপান্তরকামী অ্যাথলিটদের সঙ্গে নারী হিসেবে জন্ম নেওয়া অ্যাথলিটদের এক মঞ্চে লড়াই বন্ধের জন্য সরব হয়েছেন অনেকেই। প্যারিস অলিম্পিকে আলজিরিয়ার বক্সার ইমানে খেলিফির কাছে ইতালির অ্যাঞ্জেলা কারিনির হারের পর সেই বিতর্ক দাবানলে পরিণত হয়। এক মিনিটেরও কম সময়ে রিং ছেড়ে যাওয়ার সময় কারিনি অভিযোগ করেন, খেলিফি আদতে পুরুষ। এমনকী তার আগের বছর শারীরিক পরীক্ষায় ‘ফেল’ করা আলজিরিয়ান বক্সারকে নির্বাসিতও করেছিল আন্তর্জাতিক বক্সিং সংস্থা।

তবে সেসময় আইবিএ'র উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল আইওসি-র। ফলে অলিম্পিক কর্তৃপক্ষ সেই নির্বাসন উপেক্ষা করেই খেলিফিকে প্যারিসে খেলার ছাড়পত্র দেয়। সেই অলিম্পিকে চিনের লিন ইউটিংয়ের লিঙ্গ পরিচয় নিয়েও একই রকমের বিতর্ক হয়। সম্প্রতি মহিলা বিভাগকে শুধুমাত্র ‘বায়োলজিক্যাল ফিমেল’ অ্যাথলিটদের জন্য বলে জানিয়ে দেয় ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স’। আবার দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আপত্তির কথা প্রকাশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শহর লস অ্যাঞ্জেলেস পরবর্তী অলিম্পিকের আয়োজক। পারিপার্শ্বিক চাপের মুখেই আইওসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইওসি? এখন থেকে কোনও অ্যাথলিট জন্মসূত্রে নারী কি না দেখার জন্য জিন পরীক্ষা করা হবে। যার পোশাকী নাম ‘এসআরওয়াই জিন টেস্ট’। এর মাধ্যমে এসআরওয়াই জিন খোঁজা হয়, যা ‘ওয়াই’ ক্রোমোজোমে থাকে। একমাত্র জন্মসূত্রে পুরুষদেরই ‘ওয়াই’ ক্রোমোজম থাকে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে মহিলা অ্যাথলিটদের ‘ডিসওর্ডার অফ সেক্স ডেভলপমেন্ট’ অর্থাৎ লিঙ্গ পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নির্ণয় করা সম্ভব। প্রত্যেক মহিলা অ্যাথলিটকে কেরিয়ারের কোনও না কোনও পর্যায়ে অন্তত একবার এই পরীক্ষা দিতে হবে বলে জানিয়েছে আইওসি। ফলে রূপান্তরকামীরা আর মহিলা বিভাগে খেলতে নামার সুযোগ পাওয়া যাবে না। এর ফলে মহিলা বিভাগে লড়াইয়ে সাম্য আসবে বলে মনে করছেন আইওসি প্রধান ক্রিস্টি।

“প্রাক্তন অ্যাথলিট হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি, অলিম্পিক সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। যে সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি তা বিজ্ঞানসম্মত এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এর নেতৃত্ব দেবেন। অলিম্পিকে সামান্য ব্যবধানে পদকের রং বদলে যায়। তাই আমরা মনে করি, জন্মসূত্রে পুরুষ অ্যাথলিটদের কোনওভাবেই মহিলা বিভাগে খেলা উচিত নয়। তাতে নারী অ্যাথলিটদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় আশঙ্কাও থাকে। তাই এই টেস্ট সব নারী অ্যাথলিটকে অন্তত একবার করাতেই হবে”, বার্তা আইওসি প্রধানের। তবে বেশ বহুমূল্য এই টেস্টের খরচ কে বহন করবে তা জানাননি ক্রিস্টি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement