অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। আর সেদিনই বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতে লজ্জাজনক ঘটনা। 'পুরুষ' হয়েও 'মহিলা'দের বিভাগে প্রতিযোগিতা করতেন দু'জন। প্রচুর পদকও জিতেছেন। অবশেষে প্রমাণ পাওয়া গেল জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়, এই দুই ক্রীড়বিদ 'মহিলা'ই নন। তাঁদের সারাজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন।
বিতর্কের সুত্রপাত মূলত ২০২৪ সালে। সেবার জান্নাত ও কবিতার প্রতিযোগিতার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই অ্যাথলিটের পরীক্ষা করার জন্য পাঁচ সদস্যের বিশেষ মেডিকেল গঠন করা হয়। ২০২৫-র সেপ্টেম্বরে দু'জনের শারীরিক পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করে। যা চলতি বছরের মে মাসে শেষ হয় এবং চূড়ান্ত ফলাফল ফেডারেশনের হাতে জমা দেয়।
সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ বছরের জান্নাত ও ১৯ বছরের কবিতার হরমোন ও শারীরিক পরীক্ষায় এক্সওয়াই ডিএসডি (লিঙ্গ বিকাশের তারতম্য) ধরা পড়েছে। যা চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী তাদের পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দুই অ্যাথলিটের পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্পেডিয়াস রয়েছে এবং উভয় গোনাড (জননগ্রন্থি) ইনগুইনাল ক্যানেলে অবস্থিত। রক্তে টেস্টোটেরন পরীক্ষাতেও তাঁরা পাশ করতে পারেননি। জান্নাতের মাত্র ১৯.৬৬ ন্যানো মোল প্রতি লিটার। কবিতার মাত্রা ১৬.৫০। যা বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের সর্বোচ্চ সীমা ২.৫ থেকে কয়েকগুণ বেশি।
এই রিপোর্টের ভিত্তিতে মেডিক্যাল বোর্ড চিকিৎসা বিজ্ঞান ও বিশ্ব সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী 'পুরুষ' বলে চিহ্নিত করেছে। এর আগে জ্যাভলিন ও ডিসকাস থ্রোয়ে জান্নাত জাতীয় রেকর্ড-সহ আটটি সোনা, একটি রুপো, দু'টি ব্রোঞ্জ এবং কবিতা ১০০, ২০০ ও ৪০০ মিটার দৌড়ে একটি সোনা, একটি রুপো ও দু'টি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। সেগুলো বাতিল করা হয়েছে।
