সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান (Paris Olympics 2024) নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক। 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ'-এর আসর বসেছে প্যারিসে। তবে শুরুতেই বিতর্কের কালো মেঘ ঘনিয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে। কোথাও ভারতীয় ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের পোশাক নিয়ে তরজা, তো আবার কোথাও বা ফ্রান্সের অতিথি আপ্যায়ণের সহবৎ না থাকার অভিযোগ তুলে তোলপাড় বিশ্ব। এর মাঝেই
জিশুর 'লাস্ট সাপার'কে ব্যঙ্গ করার অভিযোগ উঠেছে অলিম্পিক কমিটির বিরুদ্ধে। সেই প্রসঙ্গেই এবার সুর চড়ালেন তারকা সাংসদ কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut)।
কঙ্গনার অভিযোগ, ২০২৪ অলিম্পিক সমকামিতার প্রদর্শন ছাড়া কিছুই নয়! তাঁর কথায়, "প্যারিস অলিম্পিকে 'দ্য লাস্ট সাপার'কে মারাত্মক যৌনতার মোড়কে পরিবেশন করা হয়েছে। বিশেষ করে, একটা শিশুকেও এই অতিনায়টকীয়তার অংশ করা হয়েছে। যার জেরে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়। শুধু তাই নয়, একটি নগ্ন ব্যক্তিকে নীল রং মাখিয়ে জিশু হিসেবে দেখিয়ে খ্রিস্টান ধর্মকে উপহাস করেছে ওরা। এই দোষ সম্পূর্ণ বামপন্থীদের। অলিম্পিক ২০২৪-কে বামপন্থীরা পুরো নিজেদের মতো করে তুলে ধরেছে। ছিঃ লজ্জার!"
ঠিক কী দেখানো হয়েছে অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে? কেন এই বিতর্ক? জিশু ও তাঁর বারো শিষ্যের নৈশভোজের যে জগদ্বিখ্যাত ছবি লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি এঁকেছিলেন সেই ফ্রেমের আদলই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু সেখানে জিশুর পরিবর্তে এক মহিলাকে দেখা যাচ্ছে। তাঁর মাথার পিছনে রুপোলি শিরোপা, যা জ্যোতির্বলয়কেই ইঙ্গিত করছে বলে মত। পাশাপাশি এক ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে, যাঁর সারা শরীরে নীল রঙে রঞ্জিত। কেবল ফুল ও ফলের একটি স্ট্রিং দিয়ে মাথা ও কোমর ঢাকা। দেখানো হয়েছে, এখানে তিনি যেন ‘লাস্ট সাপারে’ পরিবেশিত খাদ্য। এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বহু নেটিজেনই একে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের অপমান বলে দাবি করেছেন। যদিও অলিম্পিক কমিটির দাবি, এটি জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই ‘লাস্ট সাপার’-এর একটি ব্যঙ্গাত্মক সংস্করণ। মানুষে মানুষে হিংসার প্রতীক হিসেবেই ওই নীল রঙের মানুষটিকে 'খাদ্য' হিসেবে দেখানো হয়েছে। তবে এমন ব্যাখ্যা, সাফাইয়েও বিতর্ক থামেনি। এবার সেই বিতর্কযজ্ঞেই ঘৃতাহূতির মতো কাজ করল কঙ্গনা রানাউতের মন্তব্য।
[আরও পড়ুন: যিশু নেই! দুই মেয়েই এখন সব, সন্তানদের হাত আরও শক্ত করে ধরলেন নীলাঞ্জনা]
আরেকটি ইনস্টা স্টোরিতে তারকা সাংসদের প্রশ্ন, "২০২৪ সালের অলিম্পিকের জন্য ফ্রান্স এভাবেই গোটা বিশ্বকে স্বাগত জানাল! এবং এই ধরনের কাজের মধ্যে দিয়ে কী বার্তা দিল ওরা? যে শয়তানের জগতে স্বাগত? এটাই কি তারা দেখাতে চায়?" কঙ্গনার সংযোজন, "অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সবটাই ছিল সমকামিতাকে ঘিরে। আমি সমকামিতার বিরুদ্ধে নই, কিন্তু এটা বুঝলাম না যে, অলিম্পিকের সঙ্গে যৌনতা কীভাবে জুড়ে গেল? কেন খেলাধুলা থেকে সমগ্র জাতির অস্তিত্বের মধ্যে যৌনতাকে এভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে? কেন সেক্স শুধু বেডরুমের চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না! এটাকেই কেন জাতীয় পরিচয়ের হিসেবে তুলে ধরা হবে? আজব তো!"