সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম দশা অনেকেরই। অনিয়মিত আয়ের জেরে মাঝপথেই থমকে গিয়েছে জীবনবিমার প্রিমিয়াম? বিমা সুরক্ষা হারিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে? তাহলে থামুন। গ্রাহকদের জন্য বড়সড় স্বস্তি নিয়ে এল লাইফ ইন্সিওরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (LIC)। ল্যাপস হয়ে যাওয়া পলিসি ফের চালু করার জন্য বিশেষ অভিযান শুরু করল সংস্থা। ১ জানুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই প্রচার।
সুযোগ কোথায়?
বিমা সংস্থা জানিয়েছে, মূলত দু’মাসের এই বিশেষ অভিযানে লেট ফি বা জরিমানার ওপর মিলবে আকর্ষণীয় ছাড়। সাধারণ নন-লিঙ্কড বিমার ক্ষেত্রে জরিমানায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে। তবে এই ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে নিম্নবিত্ত মানুষের বিমার ওপর। মাইক্রো ইন্সিওরেন্সের ক্ষেত্রে লেট ফি বা জরিমানায় ১০০ শতাংশ ছাড় মিলবে। অর্থাৎ, কোনও জরিমানা ছাড়াই বিমা ফের চালু করা যাবে।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
যাঁদের পলিসি প্রিমিয়াম দিতে না পারার জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বিমার মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি, তাঁরাই আবেদন করতে পারবেন। প্রথম প্রিমিয়াম দিতে না পারার দিন থেকে পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যে আবেদন করা আবশ্যিক। তবে এলআইসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, জরিমানায় ছাড় থাকলেও মেডিকেল পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনও শিথিলতা দেখানো হবে না। বিমার নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা গ্রাহককে করতে হবে।
পুরানো পলিসি কেন লাভজনক?
আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন বিমা কেনার চেয়ে পুরানো ল্যাপস পলিসি চালু করা বেশি বুদ্ধিমানের কাজ। কেন?
১) পুরানো পলিসিতে প্রিমিয়ামের অঙ্ক অনেকটা কম থাকে।
২) নতুন করে বিমা করার ক্ষেত্রে বয়সের কারণে প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
৩) পুরানো পলিসিতে অনেক সময় সুযোগ-সুবিধা ও বোনাস বেশি থাকে।
৪) নতুন পলিসি করার ক্ষেত্রে যে কড়া নজরদারির (আন্ডাররাইটিং) প্রয়োজন হয়, তা এখানে এড়ানো সম্ভব।
অভাব বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অনেকেই বিমার গুরুত্ব বুঝতে পারেন না। পলিসি ল্যাপস হলে বিমা সুরক্ষাও বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া না করার পরামর্শ দিচ্ছে সংস্থা। এই দু’মাসের মধ্যে নিকটবর্তী এলআইসি শাখা বা এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমা ফের চালু করা যাবে।
