দু’চাকার বাজারে মন্দার মেঘ কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিল ওলা ইলেকট্রিক। ২০২৬ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে নজিরবিহীন ব্যবসায়িক সাফল্যের খতিয়ান পেশ করল সংস্থাটি। খরচ কমিয়ে মুনাফার পথে হাঁটাই এখন মূল লক্ষ্য ভাবিশ আগরওয়ালের সংস্থার।
ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের শেষে ওলা ইলেকট্রিকের গ্রস মার্জিন দাঁড়িয়েছে ৩৪.৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় যা ১৫.৭ শতাংশ বেশি। শিল্প মহলের মতে, বৈদ্যুতিক দু’চাকার দুনিয়ায় এই মার্জিন কার্যত রেকর্ড। সংস্থার দাবি, গত কয়েক মাসে ব্যবসায়িক মডেলে খোলনলচে বদল আনা হয়েছে। অযথা খরচ কমিয়ে কার্যক্ষমতা বাড়ানোর কৌশলেই মিলেছে এই সাফল্য।
এক সময় সংস্থার খরচ বা ‘ওপেক্স’ আকাশ ছুঁয়েছিল। ২০২৫ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে যা ছিল ৮৪০ কোটি টাকা। বর্তমান ত্রৈমাসিকে তা নামিয়ে আনা হয়েছে ৪৮৪ কোটিতে। আগামী দিনে এই খরচ ২৫০-৩০০ কোটিতে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন মাসে মাত্র ১৫ হাজার গাড়ি বিক্রি করলেই সংস্থা লোকসান কাটিয়ে ‘ব্রেক ইভেন’ পয়েন্টে পৌঁছে যেতে পারবে। বর্তমানে ওলার পরিকাঠামোয় উৎপাদন ক্ষমতা চার গুণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
পরিষেবা নিয়ে গ্রাহকদের ক্ষোভ কমাতে তৎপর হয়েছে সংস্থা। তাদের ‘হাইপারসার্ভিস’ কর্মসূচির মাধ্যমে এখন ৮০ শতাংশ অভিযোগের সমাধান হচ্ছে একই দিনে। আগের তুলনায় বকেয়া কাজের চাপও কমেছে প্রায় অর্ধেক। এদিকে তামিলনাড়ুর গিগাফ্যাক্টরিতে ব্যাটারি সেলের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘৪৬৮০ ভারত সেল’ ইতিমধ্যেই গ্রাহকদের গাড়িতে ব্যবহার শুরু হয়েছে।
সংস্থার মুখপাত্রের মতে, এই ত্রৈমাসিক আদতে ওলার জন্য এক ‘রিসেট’ বা নতুন শুরুর সময়। গত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সব মিলিয়ে ৩২,৬৮০টি গাড়ি গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দিয়েছে তারা। সংস্থার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৪৭০ কোটি টাকা। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং পরিকল্পিত সাশ্রয়ের হাত ধরে ওলা এখন ভারতের ইভি বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
