দেশের আর্থিক মানচিত্রে এক মহাবিপ্লবের সাক্ষী থাকল ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী। স্রেফ বিনিয়োগ নয়, এক লপ্তে ভারতের বৃহত্তম বহুজাতিক এনবিএফসি (NBFC)-র অভিভাবক বদলে গেল। আবুধাবির অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানি’ (IHC) এখন থেকে ভারতের ‘সম্মান ক্যাপিটাল’-এর নতুন কাণ্ডারি। আইএইচসি-র এই পদক্ষেপে কেবল একটি কোম্পানির ভোলবদল হচ্ছে না, বরং ভারতের ঋণ পরিষেবা ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে।
মুম্বইয়ের এই সংস্থার ভোলবদলটি স্রেফ অঙ্কের খেলা নয়। এটি এক দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনার অঙ্গ। আইএইচসি তাদের সহযোগী সংস্থা ‘অ্যাভেনির ইনভেস্টমেন্ট’-এর মাধ্যমে সম্মান ক্যাপিটালের ৪১.৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব গ্রহণ করেছে। এই চুক্তির ফলে আইএইচসি এখন থেকে সম্মান ক্যাপিটালের প্রোমোটার বা প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। ইতিমধ্যেই প্রাথমিক ধাপে প্রায় ৫,৬৫২ কোটি টাকা সংস্থার ভাঁড়ারে এসেছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে সেই বিনিয়োগের পরিমাণ আরও ৩,১৯৮ কোটি টাকা বাড়বে। সব মিলিয়ে আইএইচসি-র হাতে এই সংস্থার প্রায় ৬৩.৩ শতাংশ পর্যন্ত মালিকানা যেতে পারে।
আইএইচসি বিশ্বজুড়ে তাদের আর্থিক পরিষেবাকে এক ছাতার তলায় আনতে ‘জুদান ফিন্যান্সিয়াল’ নামে একটি গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। সম্মান ক্যাপিটাল হতে চলেছে এই বিশাল সাম্রাজ্যের ভারতীয় স্তম্ভ। মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল পুঁজি এবং উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির মিশেলে সম্মান ক্যাপিটালকে ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতের প্রথম তিনটি এনবিএফসি-র তালিকায় নিয়ে যাওয়াই এখন একমাত্র লক্ষ্য।
এতদিন সম্মান ক্যাপিটাল মূলত আবাসন ঋণের জন্য পরিচিত ছিল। কিন্তু অভিভাবক বদলের পর তাদের রণকৌশলেও বড় পরিবর্তন আসছে। এবার তারা মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ব্যক্তিগত ঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (MSME) ঋণ এবং গোল্ড লোন বা স্বর্ণ ঋণের মতো পরিষেবাও দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২০০-র বেশি শাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেবে।
সম্মান ক্যাপিটালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর গগন বাঙ্গার মতে, এই অংশীদারিত্ব কেবল আর্থিক শক্তি বাড়াবে না, বরং সংস্থার পরিচালন ব্যবস্থা এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাকেও বিশ্বমানে পৌঁছে দেবে। ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে এই বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আবুধাবির এই সংস্থার হাত ধরে সম্মান ক্যাপিটাল এখন স্রেফ একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ভারতের সাধারণ মানুষের স্বপ্নপূরণের এক বিশ্বস্ত কারিগর হতে চলেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে এই যাত্রা হবে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত।
