লগ্নির বাজারে এখন একটাই আলোচনা— সোনা নাকি রুপো? গত কয়েক দশকে সোনা বরাবরই মধ্যবিত্তের প্রথম পছন্দ ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান সব হিসেব উলটে দিয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের শুরুতেও সেই ধারা অব্যাহত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার থেকে লগ্নিকারীদের ঝুলিতে সোনার চেয়ে রুপো থাকা বেশি জরুরি।
কেন রুপোর জয়জয়কার?
গত এক বছরে রুপোর রিটার্ন দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় তাবড় লগ্নিকারীদের। যেখানে সোনা মোটামুটি ৬০ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে, সেখানে রুপো দিয়েছে প্রায় ১০০ শতাংশ বা তার বেশি। মাত্র মাস আষ্টেক আগেও প্রতি কেজি রুপোর দাম ছিল প্রায় ৯৫,৭০০ টাকা। এখন মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সেই রুপোরই দর ১.৮০ লক্ষ থেকে ১.৯১ লক্ষ টাকার আশেপাশে ঘুরছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
নেপথ্যে কোন কারণ?
আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধির পিছনে নিছক ভাগ্য নয়, কাজ করছে নিরেট অর্থনৈতিক ও শিল্পগত কারণ। কী কী?
১) বিশ্বজুড়ে এখন সৌরবিদ্যুতের রমরমা। এই সৌর প্যানেল তৈরিতে রুপো অপরিহার্য। ফলে চাহিদাও গগনচুম্বী।
২) বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV) এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামে রুপোর ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে।
৩) গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্ববাজারে রুপোর সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। জোগান কম কিন্তু চাহিদা বেশি— এই সহজ সূত্রই রুপোর দামকে রেকর্ড উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
৪) মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়েছে। এর সরাসরি সুফল পাচ্ছে রুপো।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপোর এই দৌড় এখনই থামার নয়। যে ভাবে শিল্পক্ষেত্রে রুপোর প্রয়োজন বাড়ছে, তাতে খুব শীঘ্রই MCX-এ প্রতি কেজি রুপোর দাম ২ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
লগ্নিকারীদের জন্য বার্তা পরিষ্কার— শুধু গয়না হিসেবে নয়, সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে রুপো এখন সোনার চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী 'অ্যাসেট'। তবে বাজার সবসময়ই অস্থির থাকে, তাই বুঝে শুনে পা বাড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
