Advertisement
রাম দরবারের প্রাণপ্রতিষ্ঠার আগে রাজসজ্জায় অযোধ্যানগরী, আমন্ত্রিতদের তালিকায় কারা?
সোমবার সরযূ নদী থেকে একটি কলস যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
রাম দরবারের প্রাণপ্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে সেজে উঠেছে অযোধ্যা। মঙ্গলবার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে পুজো। তবে মূল অনুষ্ঠানটি হবে আগামী ৫ জুন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার।
বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে রামমন্দিরের রাম দরবার এবং মন্দির চত্বরের গড়ে ওঠা আরও ছ’টি নতুন মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তার আগে গর্ভগৃহের মাথায় বসানো হয়েছে স্বর্ণচূড়া। যা ইতিমধ্যেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার সরযূ নদী থেকে একটি কলস যাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। প্রাণপ্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা অযোধ্যা নগরীকে। মন্দির চত্ত্বরে মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশও।
মঙ্গলবার থেকেই ১০১ জন বৈদিক পণ্ডিত প্রাণপ্রতিষ্ঠার পুজো শুরু করে দিয়েছেন। প্রথম পর্যায়ে হবে প্রায়শ্চিত্ব পুজো। যার নেতৃত্বে থাকবেন পণ্ডিত জয়প্রকাশ এবং আচার্য অমরনাথ। ট্রাস্টের সম্পাদক চম্পত রায় এই সময়ে সাধারণ মানুষকে মন্দির পরিদর্শন না করতে আহ্বান জানিয়েছেন। ৩ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত মন্দিরে সমস্ত পাশ বাতিল করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের মূল অতিথি হিসাবে থাকবেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাছাড়ও বিশেষ অতিথি হিসাবে টেসলাকর্তা ইলন মাস্কের বাবারও আসার কথা।
কিছু দিন আগেই ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র জানিয়েছিলেন, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে বিভিন্ন ধর্মের আধ্যাত্মিক গুরুদের। তবে কোনও নেতা-মন্ত্রীদের প্রবেশে অনুমতি থাকবে না বলেই জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত? এ প্রসঙ্গে নৃপেন্দ্র বলেন, “রাম মন্দির নির্মাণের নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। ৫০০ বছরেরও বেশি সংগ্রামের পর এই মুহূর্তটি এসেছে।”
মন্দির চত্বরে মোট সাতটি নতুন মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রাম দরবারের ভিতর মার্বেল পাথরের সিংহাসনে ভগবান রাম এবং সীতার মূর্তি। সিংহাসনের ঠিক পিছনেই রয়েছেন ভরত এবং শত্রুঘ্ন এবং দরবারের সামনে রয়েছেন হনুমান এবং লক্ষণের মূর্তি।
জেলাশাসক নিখিল টিকারাম ফান্ডে জানিয়েছেন, রামমন্দির এবং হনুমানগড়ি উভয় স্থানে দর্শনার্থীদের জন্য বসবার জায়গা, পানীয় জল, ওআরএস-সহ আরও বেশকিছু ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলাজুড়ে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের বেড সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার গৌরব গ্রোভার বলেন, “মন্দির চত্ত্বরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ড্রোন দিয়ে চালানো হবে নজরদারিও।” প্রাণপ্রতিষ্ঠার এক সপ্তাহের মধ্যেই মন্দিরের নতুন অংশটি খুলে দেওয়া হবে জনসাধারণের জন্য।
২০২০ সালের ৫ আগস্ট যে রামমন্দির নির্মাণের সূচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ২০২৪-এর ২২ জানুয়ারি সেই মন্দিরের উদ্বোধন করেন তিনি। ওই দিনই হয় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম হিন্দু মন্দিরের মূল নকশা ১৯৮৮ সালে আমেদাবাদের আশিস সোমপুরার তৈরি করেন। ঐতিহ্যবাহী নাগারার আদলে (উত্তর ভারতের মন্দির শৈলী) তৈরি করা হয় অযোধ্যার রামমন্দির। পূর্ব-পশ্চিমে রামমন্দিরের দৈর্ঘ্য ৩৮০ ফুট। চওড়া ২৫০ ফুট। উচ্চতা হল ১৬১ ফুট। অযোধ্যার রামমন্দিরে মোট ৩৯২টি পিলার এবং ৪৪টি দরজা রয়েছে। ২.৭ একর জমিতে রামমন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। রামমন্দির নির্মাণে খরচ পড়েছে মোট ১৮০০ কোটি টাকা। আট ফুটের রামলালার মূর্তি নির্মাণ করেন ভাষ্কর অরুণ যোগীরাজ। রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের সেলিব্রিটিদের উপস্থিতিতে গত বছর ধুমধাম করে হয় রামমন্দিরের উদ্বোধন।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 08:20 PM Jun 03, 2025Updated: 08:20 PM Jun 03, 2025
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
