Advertisement
নেই সাংসদ, বিধায়ক মাত্র ২! তবু বারবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়, কেন এই 'অস্তিত্বহীন' শরিককে এত গুরুত্ব মোদির?
লোকসভায় শূন্য, বিধানসভাতেও নেই অথচ বারবার এই দলের নেতাকে রাজ্যসভায় পাঠান প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিত্বও দেন।
করোনা ভাইরাস তখন দেশজুড়ে দাপট দেখাচ্ছে। গবেষকরা ভেবে কূল পাচ্ছেন না কীভাবে এই মারণ ভাইরাসকে রুখে দেওয়া যাবে। প্রশাসন-সরকার সকলেই সন্ত্রস্ত। এর মধ্যেই কমিক রিলিফ। এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী করোনা বিরোধী মিছিল বের করে ফেললেন। মুখে স্লোগান, গো করোনা গো। হাতে ব্যানারেও লেখা গো করোনা গো।
ওই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর নাম রামদাস আঠাওয়ালে। ওই করোনা বিরোধী মিছিল করে দেশজুড়ে বেশ হাসাহাসি হয়েছিল, রসিকতার পাত্র হয়েছিলেন ওই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। অবশ্য ওই প্রথম নয়। আঠাওয়ালে মাঝে মাঝেই এমন উদ্ভট কাজকর্ম করে শিরোনামে থাকতে পছন্দ করেন।
একবার লোকসভায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ্য করে বলে দিয়েছিলেন, "আমি তো হাওয়া বুঝে চলি। আগে আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন, তখন আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। এখন বিজেপি ক্ষমতায়, এখন আমি বিজেপির সঙ্গে। আবার আপনারা জিতলে আপনাদের সঙ্গে চলে যাব।"
এই রামদাস আঠাওয়ালে ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রের সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের পর ফের তাঁকে মন্ত্রী করেন মোদি। ২০২৪-এর পর বিজেপির শক্তিক্ষয় হয়েছে, তাতেও মন্ত্রীপদ যায়নি আঠাওয়ালের। বস্তুত, সেই ১৯৯৯ সাল থেকে তিনি শাসক শিবিরে। দরকারে শিবির বদলান। কিন্তু শাসকের সঙ্গে থাকেন।
প্রশ্ন হল, এই রামদাস আঠাওয়ালে কে? যে তাঁকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়? এমনিতে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়ার তেমন জনসমর্থন নেই। অন্তত ভোট রাজনীতির নিরিখে সেভাবে সফল নয় আরপিআই। এই মুহূর্তে গোটা দেশে লোকসভায় তাঁর পার্টির সাংসদ সংখ্যা শূন্য। ২০১৯ সালেও তাই ছিল।
আঠাওয়ালের দল আরপিআই মূলত মহারাষ্ট্রের দল। অথচ সেখানেও তাঁর দলের কোনও বিধায়ক নেই। এমনকী গোটা রাজ্যে খুঁজলে কাউন্সিলর সংখ্যাও হাতে গোণা। তাৎপর্যপূর্ণভাবে নাগাল্যান্ড বিধানসভায় জনা দুয়েক বিধায়ক আছেন ওই দলের। আর কোথাও সেভাবে জনপ্রতিনিধি নেই।
সেদিক থেকে দেখতে গেলে সাগরের সমান ভারতীয় রাজনীতিতে আঠাওয়ালে চুনোপুঁটিও নন। ভোট রাজনীতিতে কোনও জনভিত্তিই তাঁর নেই। তা সত্ত্বেও তাঁকে গুরুত্ব দেন মোদি। পরপর ৩ বার তাঁকে মন্ত্রী করা হয়েছে। পর পর দু'বার রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছে। বুধবার ফের রাজ্যসভার যে প্রার্থী তালিকা বিজেপি ঘোষণা করেছে তাতে নাম আছে আঠাওয়ালের।
কিন্তু কেন আঠাওয়ালের গুরুত্ব এতটা? আসলে ভোট রাজনীতিতে ইদানিং বেশি প্রভাব না থাকলেও জননেতা হিসাবে তিনি বেশ গ্রহণযোগ্য। তাঁর সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট, তিনি দলিত। দলিতদের উত্থান নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছেন। একটা সময় মহারাষ্ট্রজুড়ে আম্বেদকরের মতাদর্শ নিয়ে কাজ করেছেন। গোটা রাজ্যে একাধিক আন্দোলনও করেছেন।
কমবেশি গোটা রাজ্যে রামদাস আঠাওয়ালের সমর্থক রয়েছেন। তিনি যে দলের নেতা সেই রিপাবলিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা খোদ বাবাসাহেব আম্বেদকর। যদিও আঠাওয়ালে পরে সেই দল থেকে বেরিয়ে নিজের নামে আলাদা করে রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া (আঠাওয়ালে) তৈরি করেন। সেই দলটিই এখন মূল আরপিআইয়ের সবচেয়ে বড় অংশ। সেদিক থেকে দেখতে গেলে আম্বেদকরে লিগ্যাসি বহন করছেন তিনি।
একটা সময় পর্যন্ত নিয়মিত লোকসভায় নির্বাচিত হতেন তিনি। বিধানসভাতেও প্রতিনিধি থাকত। ইদানিং সংগঠন দুর্বল হয়েছে। তাছাড়া ২০১৫ সালে আর্থিক বেনিয়মের জন্য দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছিল কমিশন। সেটা ওই ক্ষুদ্র দলের জন্য বিরাট ধাক্কা হিসাবে কাজ করেছে। পরে আরপিআইয়ের বহু নেতা বিজেপি বা শিব সেনার টিকিটে ভোটে লড়েছেন।
Published By: Subhajit MandalPosted: 05:12 PM Mar 04, 2026Updated: 09:41 PM Mar 04, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
