Advertisement
'কেচ্ছা'য় ভরা পিএসএল, এবার গালিগালাজ কোচের! আর কোন বিতর্কে পুড়ল পাকিস্তানের মুখ?
দিনে-দিনে যেন ‘সার্কাসে’ পরিণত হচ্ছে পিএসএল।
খেলার চেয়ে বিতর্কের কারণে চর্চায় থাকে পাকিস্তান সুপার লিগ। পিএসএলে সব সম্ভব! দিনে-দিনে যেন ‘সার্কাসে’ পরিণত হচ্ছে পিএসএল। তেমনই উদাহরণ ভূরি ভূরি। এই টুর্নামেন্ট ঘিরে একের পর এক বিতর্কে টুর্নামেন্টের পেশাদারিত্ব নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আজকের আলোচনা পিএসএলের বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা লাহোর কালান্দার্সের ওপেনার ফখর জামানকে ঘিরে। যার কেন্দ্রে লাহোর কালান্দার্স। মার্চের শেষে বল বিকৃতির অভিযোগে পাঁচ রান পেনাল্টি গুনতে হয় তাদের। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ম্যাচের ফলাফলে। তিন বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় করাচি কিংস।
করাচির ইনিংসে ১৯তম ওভারের ঘটনা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য কিংসের দরকার ছিল ১৪ রান। বল করতে আসেন হ্যারিস রউফ। রউফের সঙ্গে ছোট্ট আলোচনায় যোগ দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, ফখর জামান। সেখানে একাধিকবার হাতবদল হয় বল। নাটক এখানেই শেষ নয়। দেখা যায়, রউফের হাত থেকে বল নিয়ে তাতে কিছু একটা ঘষছেন ফখর। এর ঠিক পরেই হ্যারিসের হাতে বল তুলে দেন তিনি।
এই দৃশ্য নজর এড়ায়নি আম্পায়ারের। বল পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। অন্য আম্পায়ারের সঙ্গে আলোচনা করেন। খানিক পরে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, বলটি বিকৃতি করা হয়েছে। এরপর আইসিসির নিয়ম মেনে প্রতিপক্ষ করাচির ঝুলিতে যোগ হয় বাড়তি ৫ রান। বলও বদলে ফেলা হয়। ফখর জামানকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাই ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ফলে ফখর যেন ‘লাইভ টেলিকাস্টেই’ হাতেনাতে ধরা পড়ে যান।
যদিও এরপর গুরু পাপে লঘু দণ্ড পান তিনি। বল বিকৃতি করায় মাত্র ২ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয় ফখর জামানকে। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আচরণবিধির ২.১৪ ধারা অনুযায়ী ‘লেভেল থ্রি’ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তারপর ম্যাচ রেফারি রোশন মহানামা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান। সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করেন।
এরপরই আসে 'পিঙ্ক বল' কাণ্ড। লাহোর কালান্দার্স ও হায়দরাবাদ কিংসমেনের ম্যাচে সাদা বল আচমকা গোলাপি হয়ে যায়। পরে জানা যায়, নিম্নমানের জার্সির রং বলের ওপর লেগে গিয়েছিল। ঘটনাটি সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক ট্রোলিংয়ের জন্ম দেয়। আয়োজকদের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্কও কম হয়নি। শাহিন আফ্রিদি এবং সিকান্দর রাজাকে হোটেলের নিরাপত্তা বিধি ভঙ্গের দায়ে জরিমানা করা হয়। অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও তাঁরা অতিথি ডেকে আনেন, যা টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপরও প্রশ্ন তুলে দেয়।
এখানেই শেষ নয়। এবার সেখানে একটি আউটকে কেন্দ্র করে দুই দলের দুই ক্রিকেটার ঝামেলায় জড়িয়ে পড়লেন। তাঁদের রাগ এতটাই চরমে ওঠে যে, সেই ঝামেলা মেটাতে আসরে নামতে হল দুই দলের ক্রিকেটারদের। ঘটনার দুই কুশীলব ফাহিম আশরাফ এবং মহম্মদ আমির। ফাহিম খেলেন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে। রাওয়ালপিণ্ডি পিন্ডিজের হয়ে খেলেন আমির।
ঘটনাটি ঘটে ১৭তম ওভারের তৃতীয় বলে। আমিরের স্লোয়ারে থার্ড ম্যানের দিকে র্যাম্প শট খেলার চেষ্টা করেন আশরাফ। বলটি শেষ পর্যন্ত তাঁর গ্লাভস ছুঁয়ে সরাসরি উইকেটকিপারের কাছে চলে যায়। ৩২ বছরের ব্যাটারকে আউট করার পর তাঁর সামনে গিয়ে উল্লাস করেন আমির। এমন আচরণ মেনে নিতে পারেননি আশরাফ।
পরক্ষণেই আমিরের দিকে তেড়ে যান অলরাউন্ডারটি। ব্যাট উঁচিয়ে উত্তেজিতভাবে কিছু বলতেও থাকেন। আমির প্রথমে পাত্তা না দিলেও পরে পালটা জবাব দেন। যা মাঠের উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দেয়। অবশেষে রাওয়ালপিণ্ডিজের দু’জন খেলোয়াড় আশরাফকে শান্ত করেন। তাঁকে সাজঘরের দিকে এগিয়ে দেন। বাকিরা সেই সময় আমিরকে ধরে রেখেছিলেন। ঝামেলার সামাল দিতে আসরে নেমেছিলেন আম্পায়াররাও। ফলে ঝামেলা বেশি দূর গড়ায়নি।
এই ম্যাচ হারের পর ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হেডকোচ লুক রনকি মেজাজ হারান। এক সাংবাদিক বারবার অন্যের প্রশ্নের মাঝখানে বাধা দেওয়ায় বলেন, “আমরা একটা অর্ডার মেনে চলছি। উনি প্রশ্ন করবেন… আমি এসবের তোয়াক্কা করি না।” (মূল মন্তব্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন।) পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন সঞ্চালক। তিনি বলেন, “অনুগ্রহ করে সবাই প্রেস কনফারেন্সের শৃঙ্খলা বজায় রাখুন।”
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 05:21 PM Apr 24, 2026Updated: 06:36 PM Apr 24, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
