আমেরিকার মাটিতে এবারের বিশ্বকাপ যে বিতর্কে ভরপুর হতে চলেছে, সে ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই মিলেছে। এবার বিতর্কের তালিকায় নয়া সংযোজন কাতার সুইজারল্যান্ড ম্যাচে রেফারির একটি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত। সুইজারল্যান্ডের আদৌ ওই পেনাল্টিটি পাওয়া উচিত ছিল কিনা, সেই নিয়ে কাটাছেঁড়া চলেছে নেটদুনিয়ায়। প্রশ্ন উঠছে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির ভূমিকা নিয়েও।
ঠিক কী হয়েছিল?
কাতারের বিরুদ্ধে ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় সুইজারল্যান্ড। কাতার গোলরক্ষক সুইস ফরোয়ার্ড রেমো ফ্রেলুরকে ধাক্কা মেরে বক্সের ভিতরে ফেলে দেওয়ায় ওই পেনাল্টি দেওয়া হয়। VAR-ও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত বহাল রাখানে। বিতর্ক শুরু হয় রিপ্লে দেখার পর। রিপ্লে দেখে মনে হয়েছে, কাতার গোলরক্ষক সুইস ফরোয়ার্ড ফ্রেলুরকে ফাউল করেছেন ঠিকই কিন্তু তার আগেই ফ্রেলুর অফসাইড ছিলেন। সেদিক থেকে দেখতে গেলে সুইজারল্যান্ডের ওই পেনাল্টি পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি ফাউল দিয়েছেন।
আসলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি অফসাইড চেক করার জন্য সেমি অটোমেটেড অফসাইড গ্রাফিক্স ব্যবহার করেন। কোনও ফুটবলারের শরীরের সামান্যতম অংশ অফসাইড থাকলেও ওই প্রযুক্তিতে ধরা পড়ে। কিন্তু এক্ষেত্রে টেলিভিশন রিপ্লে-তে ওই প্রযুক্তি ব্যবহারই করা হয়নি। যা নিয়ে গ্যারি নেভিল থেকে শুরু করে ইয়ান রাইটের মতো কিংবদন্তিরা প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের বক্তব্য, 'এটা তো পুরো অন্ধকারে রাখা হল। যা ইচ্ছা তাই করা হচ্ছে।' যদিও পরে ফিফা বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে, ভারের সিদ্ধান্তে কোনও ভুল নেই। ওই পেনাল্টি দেওয়ার আগে অফসাইডও যাচাই করা হয়েছে। সেমি অটোমেটেড অফসাইড গ্রাফিক্স ব্যবহার করে টেলিভিশনে রিপ্লে দেখানো হয়নি ঠিকই, কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি নিজে ওই রিপ্লে দেখেছেন। যদিও ফিফার বিবৃতির পরও বিতর্ক থামছে না। শেষমেশ ওই ম্যাচে কাতার সুইজারল্যান্ডকে ১-১ গোলে আটকে দিয়েছে।
এদিকে ফিফা বিশ্বকাপে ৩৬ বছর পর জয়ের মুখ দেখল স্কটল্যান্ড। দীর্ঘদিন বাদে বিশ্বকাপ খেলতে আসা হাইতির বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জিতল স্কটিশরা। স্কটল্যান্ডের হয়ে গোল করলেন ম্যাকগিন। শেষবার ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে সুইডেনের বিরুদ্ধে জয়ের মুখ দেখেছিল স্কটল্যান্ড। অবশ্য ১৯৯৮ সালের পর আর বিশ্বকাপে সুযোগও পাননি স্কটিশরা।
