Advertisement
১৩০০ কোটির সম্পত্তি, পূর্ণেন্দুর আপ্তসহায়ক থেকে অভিষেক ঘনিষ্ঠ! কীভাবে উত্থান 'যুবরাজ' দেবরাজের?
সাদামাঠা, মিষ্টভাষী দেবরাজের 'কীর্তি' শুনে চমকে যাচ্ছেন স্থানীয়রা।
ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই তোলাবাজি থেকে খুনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। তাঁর একটি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই মোবাইলের চ্যাট লিস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। কী এমন কথোপকথন হয়েছে, তা খতিয়ে দেখলে অপরাধের শিকড়ে পৌঁছনো সম্ভব বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। সে কারণে বিধাননগর পুলিশ একটি সিট গঠন করেছে।
সাদামাঠা, মিষ্টভাষী দেবরাজের 'কীর্তি' শুনে চমকে যাচ্ছেন স্থানীয়রা। গত এগারো বছরে রকেট গতিতে উত্থান ধৃত দেবরাজের। দোলা সেনের পরিচিত ছিলেন দেবরাজ। 'পিসি' বলে ডাকতেন তাঁকে। ২০১১ সালে রাজারহাট গোপালপুর আসনে জেতেন পূর্ণেন্দু বসু। দোলার মধ্যস্থতায় পূর্ণেন্দুর সঙ্গে আলাপ। তাঁকে 'জেঠু' বলে ডাকতেন। মন্ত্রীর আপ্তসহায়ক হওয়া দিয়ে রাজনীতির মাটিতে পা দেবরাজের। এরপর পুরভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেন।
দোলা এবং পূর্ণেন্দুর কাছে টিকিটের 'আবদার' করেন দেবরাজ। যদিও সেবার টিকিট পাননি। আর তারপরই জেঠু-পিসির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। কংগ্রেসে যোগ দেন দেবরাজ। অধীররঞ্জন চৌধুর হাত থেকে পতাকা নেন। রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হন দেবরাজ। সেবার ওই এলাকায় বেনজির হিংসা হয়। ভোটের আগের রাতে গ্রেপ্তার হন দেবরাজ। তবে সেবার ভোটের ফল হয় চমকপ্রদ। জিতে জেলবন্দি দেবরাজ হন কাউন্সিলর।
জামিনে ছাড়া পাওয়ার মাস ছয়েক পরই ভোলবদল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যোগ দেন তৃণমূলে। তারপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি দেবরাজকে। ক্রমশ ক্ষমতা বাড়তে থাকে। ইতিমধ্যে ২০১৮ সালে অদিতি মুন্সির সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। স্বামী দেবরাজের হাত ধরে রাজনীতিতে পা রাখেন কীর্তনশিল্পী অদিতি। শোনা যায়, দেবরাজের অনুরোধেই নাকি একুশের নির্বাচনে টিকিট পান। রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক হন।
রাজনৈতিক কেরিয়ারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাকি বিদ্যুতের গতিতে প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে দেবরাজের। হয়ে ওঠেন ক্যামাক স্ট্রিটের ক্ষমতার বৃত্তে থাকা অভিষেকের 'ডানহাত'। আর সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক অসামাজিক কার্যকলাপেও নাম জড়াতে থাকে তাঁর। তৃণমূল 'ঘনিষ্ঠ' সমাজবিরোধী স্বপন থেকে বুড়ো এবং বাবাই বিশ্বাসের খুনের ঘটনায় নাম জড়িয়ে যায় দেবরাজের। এছাড়াও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
সম্পত্তি নাকি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দাবি, সেই সম্পত্তিই বেড়ে বর্তমানে ১৩০০ কোটি ছুঁয়েছে। সূত্রের খবর, ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেনামে সরানো হয়েছে দেবরাজের। একাধিক গাড়ি, বাড়ির মালিক তিনি। অথচ নির্বাচনী হলফনামায় সে তথ্য নাকি গোপন করেছিলেন অদিতি। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির কালো টাকাও নাকি ঢুকেছে দেবরাজের অ্যাকাউন্টে।
বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদারের দাবি, গত ৫ বছরে অদিতি-দেবরাজ নাকি ১ কোটি টাকা আয় করেছেন। অথচ গাড়ি কিনেছেন ৬০-৭০ লক্ষ টাকার। এই হিসাব গরমিলে ভরা বলেই দাবি তাঁর। তদন্তকারীদের দাবি, 'ডিসি গ্লোবাল' নামে একটি সংস্থার খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। ওই সংস্থার নামে বেনামি সম্পত্তি কেনা এবং হস্তান্তর হয়েছে বলেই খবর। সম্পত্তির হিসাব খতিয়ে দেখছে ইডি।
ভিনরাজ্যে একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে যৌথভাবে বেশ কিছু সম্পত্তি ছিল দেবরাজের। তাঁদের আর্থিক সাহায্যেই সম্ভবত সাতদিন কালিম্পং থেকে অযোধ্যা পাহাড়তলিতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন দেবরাজ। শ'খানেক জায়গায় টাওয়ার লোকেশন পান তদন্তকারীরা। প্রযুক্তির সাহায্য়ে তাঁকে পাকড়াও করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। দেবরাজের সঙ্গে দুর্নীতি চক্রে আর কে কে যুক্ত, দুর্নীতির শিকড় কত গভীরে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
Published By: Sayani SenPosted: 08:00 AM Jul 04, 2026Updated: 09:54 AM Jul 04, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
