Advertisement
ভাঙল তৃণমূল-উদ্ধব সেনা, শক্তিবৃদ্ধি এনডিএর, কেমন হবে লোকসভায় বাদল অধিবেশনের ছবি?
আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। সরকার কী কী বিল আনছে সেদিকে নজর রয়েছে। কিন্তু সেটার চেয়েও বেশি নজর রয়েছে সংসদের দুই কক্ষের রাজনৈতিক সমীকরণে।
আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। সরকারি সূত্রের খবর, তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অধিবেশন চলবে। সব ঠিক থাকলে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত অধিবেশন চলার কথা। সব মিলিয়ে মোট ১৯টি অধিবেশন বসবে সংসদের দুই কক্ষেই। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার এই অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল আনতে চলেছে।
সরকার কী কী বিল আনছে সেদিকে নজর রয়েছে। কিন্তু সেটার চেয়েও বেশি নজর রয়েছে সংসদের দুই কক্ষের রাজনৈতিক সমীকরণে। বিশেষ করে লোকসভায়। কারণ বাজেট অধিবেশন থেকে বাদল অধিবেশন পর্যন্ত মাঝখানে এই মাস তিনেক সময়ে জাতীয় রাজনীতি আমূল বদলে গিয়েছে। একাধিক দলে ভাঙন ধরেছে। একাধিক দলের জোট বদল হয়েছে। ফলে লোকসভায় সাংসদদের বসার জায়গা এবার অনেকটা অন্যরকম হবে।
দুই অধিবেশনের মাঝখানে এই তিন মাসে জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে পরিবর্তন হয়েছে বাংলায়। রাজ্যে শুধু যে পালাবদল হয়েছে তাই নয়। তৃণমূল কংগ্রেসে বিরাট ভাঙন ধরেছে। তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে কার্যত অস্তিত্বহীন দল ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে সংযুক্তিকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন। ওই নতুন দল সমর্থন করবে এনডিএ-কে। পালটা ওই ২০ সাংসদের পদ খারিজের দাবি জানিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল।
এখন স্পিকার ওম বিড়লা যদি তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের দাবি মেনে নেন, তাহলে লোকসভার সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট অনেকটা বদলে যাবে। বিরোধী শিবির থেকে ২০ জন সাংসদ রাতারাতি চলে যাবেন শাসক শিবিরে। মহুয়া মৈত্র, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা যে জনা কয়েক তৃণমূলের মূল অংশের সঙ্গে রয়েছেন, তাঁরা আরও খানিকটা সামনের সারিতেও চলে আসতে পারেন। অন্যদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা বসবেন ডানদিকে সরকার পক্ষের দিকে।
শুধু তৃণমূল নয়। একই রকম ভাঙন ধরেছে শিব সেনার উদ্ধব শিবিরেও। উদ্ধব ঠাকরের দলের ৬ সাংসদ এবার বসবেন একনাথ শিণ্ডের সঙ্গে। অন্যদিকে উদ্ধব শিবিরের সঙ্গে বিরোধী বেঞ্চে বসবেন মাত্র ৩ সাংসদ। অবশ্য সেটাও হবে স্পিকার ওম বিড়লা উদ্ধবের ৬ সাংসদের ভাঙনকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের সাংসদ পদ বাতিল না করলে।
বিরোধী শিবিরে আরও একটি বড় বদল হল, ডিএমকের অবস্থান। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর রাতারাতি স্ট্যালিনের সঙ্গ ছেড়ে টিভিকের বিজয়ের হাত ধরেছে কংগ্রেস। তাতে স্বাভাবিকভাবেই কংগ্রেসের উপর ক্ষুব্ধ ডিএমকে শিবির। এম কে স্ট্যালিনরা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, আর যাই হোক কংগ্রেসের সঙ্গে বসবেন না। সেই মর্মে স্পিকারকে চিঠিও দিয়েছেন তাঁরা। এখন স্পিকার যদি ডিএমকের আলাদা বসার ব্যবস্থা করেন, তাহলে বিরোধী শিবির আরও দুর্বল হবে।
ডিএমকে সরকারিভাবে ইন্ডিয়া জোট ছাড়লেও যারা তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিনের সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা কংগ্রেসের সঙ্গ ছাড়েনি। ফলে সিপিআই, সিপিএম, ভিসিকে আইইউএমএলের মতো দলগুলির সাংসদরা ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গেই বসবেন। থলপতি বিজয়ের টিভিকেও এর মধ্যে সরকারিভাবে ইন্ডিয়া জোটে যোগদানের কাছাকাছি। তবে যেহেতু লোকসভায় টিভিকের কোনও সাংসদ নেই, তাই তাঁদের সংসদে বসার কোনও প্রশ্ন নেই।
Published By: Subhajit MandalPosted: 04:57 PM Jul 03, 2026Updated: 04:57 PM Jul 03, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
