Advertisement
অনশনে মহাত্মা থেকে সোনম, করেছেন মৃত্যুবরণও! প্রতিবাদের অমোঘ ভাষায় বারবার গর্জে উঠেছে দেশ
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে দেশজুড়ে চর্চা।
দেখতে দেখতে কুড়ি দিন। নিট কারচুপির প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সোনম ওয়াংচুকের অনশন নিয়ে দেশজুড়ে চর্চা। বিখ্যাত শিক্ষাবিদ তথা পরিবেশপ্রেমীর এই অনশন স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে এদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মহাত্মা গান্ধী থেকে ভগৎ সিং, আন্না হাজারে থেকে আজকের সোনম... ফিরে দেখা যাক অনশনের ঐতিহ্য।
বৈষম্যের প্রতিবাদে সমাজের শান্তি ফেরাতে অনশন ছিল মহাত্মা গান্ধীর এক অনন্য অহিংস হাতিয়ার। বারবার তিনি এই অস্ত্র প্রয়োগ করেছেন ব্রিটিশদের নিরস্ত করতে। ১৯১৮ সালে প্রথমবার তিনি অনশন করেন আহমেদাবাদের সুতির কাপড়ের মিলের শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে। ১৯৩২ সালে পুণের ইয়েরওয়াড়া জেলে দলিতদের জন্য অনশন করার পর ১৯৪৮ সালে দাঙ্গাবিধ্বস্ত দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ফেরাতেও অনশন করেন মহাত্মা।
লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হন ভগৎ সিং, যতীন দাস। জেলের ভিতরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নোংরা পোশাক, জঘন্য খাবারের মতো একাধিক ইস্যুতে তাঁরা অনশন করেন। প্রথমে ভগৎ সিং। পরে যোগ দেন যতীন দাস। ৬৩ দিন অনশনের পরে প্রয়াত হন যতীন। ভগৎ অনশন করেন ১১৬ দিন। তাঁদের এই অনশন গোটা দেশের ইংরেজবিরোধী মনোভাবকে আরও তীব্র করে তুলেছিল।
নতুন সহস্রাব্দের একেবারে শুরুর কথা। ২০০০ সালের ২রা নভেম্বর। মণিপুরের মানবাধিকার কর্মী ইরম শর্মিলা চানু অনশন শুরু করেন রাজ্য থেকে আফস্পা বাতিলের দাবিতে। সেই অনশন চলেছিল ২০১৬ পর্যন্ত। অনশন শেষ করে তিনি 'পিপলস রিসারজেন্স অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স' নামে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করেন। শেষে রাজনীতিও ছেড়ে দেন নির্বাচনে সাফল্য না পাওয়ায়।
২০১১ সালে 'ইন্ডিয়া অ্যাগেইনস্ট করাপশন' ব্যানারে অনশন শুরু করেন আন্না হাজারে। গোটা দেশে সেই সময় তিনি এক বহুআলোচিত নাম। তাঁর ১৩ দিনব্যাপী অনশনেই জন লোকপাল বিল পাশ করতে বাধ্য হয় সরকার। তবে বিল পাশ হওয়ার পর তা বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে দেখে ২০১৮ সালে তিনি দিল্লিতে আবার আমরণ অনশন শুরু করেন। এর বাইরেও অনশনের নজির রয়েছে তাঁর।
২০০৬ সাল। নর্মদা নদীতে সর্দার সরোবর বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার পরিবারের পুনর্বাসনের দাবিতে ২০ দিন ধরে অনশন করেন সমাজকর্মী মেধা পাটেকর। পরে জলাভূমি ডুবে যাওয়ার কারণে মধ্যপ্রদেশে বাঁধের গেট খোলা ও পুনর্বাসনের দাবিতে তিনি প্রায় ৯ দিন অনশন করেছিলেন তিনি। পরে সরকারের আশ্বাসে অবশ্য অনশন প্রত্যাহার করেন তিনি।
২০০৬ সালে সিঙ্গুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনশন গোটা দেশের চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। টাটা মোটরসের কারখানার জন্য বামফ্রন্ট সরকারের উর্বর কৃষিজমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদেই ছিল তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর এই প্রতিবাদ। যা চলেছিল ২৬ দিন। পরবর্তীতে মমতার এই রাজ্যের মসনদে বসার ক্ষেত্রে যা বড় ভূমিকা নিয়েছিল।
অনশনের ইতিহাসের আরেক নাম পরিবেশবিদ গোপাল দাস আগরওয়াল। কর্মজীবনের শেষে সন্ন্যাস গ্রহণ করলে তাঁর নাম হয় স্বামী জ্ঞানস্বরূপ সানন্দ। ২০১৮ সালের জুন মাসে আইআইটির প্রাক্তন এই ছাত্র পরিবেশের ক্ষতিসাধনকারী প্রকল্প বন্ধ এবং গঙ্গার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবিতে একাধিকবার অনশনে বসেন। টানা ১১১ দিন অনশন করার পর, ৮৬ বছর বয়সে অনাহারজনিত কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পোট্টু শ্রীরামুলু। মহাত্মা গান্ধীর সবরমতী আশ্রমে যোগ দেন মাত্র ২৫ বছর বয়সে। গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত মানুষটি ১৯৫২ সালে অনশন করেন। পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের দাবিতে টানা ৫৬ দিন উপবাসের পর তাঁর মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুতে দেশজুড়ে সাড়া পড়ে যায়। এই আত্মত্যাগের পরেই ভারতের মানচিত্রে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়। দ্রুত জন্ম নেয় অন্ধ্রপ্রদেশ।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:30 PM Jul 17, 2026Updated: 08:35 PM Jul 17, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
