Advertisement
নয়ের দশকে যে ১০ জিনিস পেতে ফেলতে হত চোখের জল, Gen Z'রা ভাবতেও পারবে না আজ!
নয়ের দশকের খুদেদের কাছে ছেলেবেলা মানে সাইকেল, জেল পেন, দীর্ঘ আবদারের পর আধ ঘণ্টা টিভি দেখার অনুমতি, আরও কত কী!
একটা বয়সের পর ছেলেবেলার কথা ভাবলে নিজের অজান্তেই মুখে হাসি ফোটে। বর্তমানে যারা তিরিশ পেরিয়েছে অর্থাৎ নয়ের দশকের খুদেদের কাছে ছেলেবেলা মানে হইহই করে বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়া, বিকেলে খেলা, দীর্ঘ আবদারের পর আধ ঘণ্টা টিভি দেখার অনুমতি, আরও কত কী! বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় আজও তাঁরা মনে করে পছন্দের স্কুল ব্যাগের জন্যও কতই না অনুনয়-বিনয় করতে হয়েছিল। কতশত শর্ত পূরণের পর মিলেছে পছন্দের জিনিস। নয়ের দশকের কচিকাঁচাদের যে ১০ জিনিস পেতে চোখের জল ফেলতে হত, জেন জির কাছে তা সহজলভ্য। চলুন টাইম মেশিনে চেপে আজ দেখে আসা যাক সেই দশ জিনিসের তালিকায় ঠাঁই পেল কী কী।
নয়ের দশকের খুদেদের কাছে সাইকেল চালানো ছিল একটা উৎসবের সমান। রীতিমতো সাহস সঞ্চয় করে সাইকেল কেনার আবদার করত খুদেরা। কোনওক্রমে যদি বাবা-মা রাজি হতেন তারপর অনুমতি নিতে হত জেঠু-কাকুদেরও। প্রতিবেশীরা খবর পেলেই পরামর্শ দিতেন কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ। দীর্ঘ আলোচনা শেষে সাইকেল কেনা হত। তারপর ছিল সাইকেল সাজানোর প্ল্যান। বাস্কেট, বেল-আরও কত কী! তাও মিলত না সহজে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সাইকেলের সেই গুরুত্বই নেই। তারা ইলেকট্রিক স্কুটারেই অভ্যস্ত।
সেই সময় স্মার্টফোন আর কোথায়! মধ্যবিত্ত বাড়িতে থাকত ল্যান্ডফোন। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যেত গোটা পাড়ার ভরসা একটা বাড়ির একটা ফোন। খুদে বন্ধুদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুমতি জোগাড় করতে রীতিমতো কাঠ-খড় পোড়াতে হত! হোমওয়ার্ক-সহ আরও কতশত মিথ্যের বিনিময়ে মিলত ২-১ মিনিট বন্ধুর সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুমতি। আর জেন জির পকেটে পকেটে স্মার্টফোন।
দীর্ঘদিন আর্জি জানানোর পর হয়তো ভিডিও গেম কিনে দিতে রাজি হতেন বাবা। কিন্তু তাতেও থাকত একগুচ্ছ শর্ত। শুধু রবিবারই ছিল খেলার অনুমতি। তাও আবার ঘড়ি ধরে ১ ঘণ্টা। সারাসপ্তাহ অপেক্ষার পর রবিবার সঠিক সময়ে হোমওয়ার্ক শেষ না হলে ভিডিও গেমের আশপাশেও যাওয়ার সাহস ছিল না খুদেদের। এখন ক্লাসের মাঝে ছোট্ট বিরতিতেও ফোনে গেমে মজে ওঠে জেন জি।
ইচ্ছে হলেই এক ক্লিকেই গান! নাহ, এসব যে হতে পারে তা ভাবনাতেও ছিল না নয়ের দশকের খুদেদের। তাদের কাছে গান মানে ওয়াকম্যান অথবা টেপ রেকর্ডার। তাতে গান শোনা কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না! এখন জেন জির হাতের মুঠোয় বিশ্বের সব শিল্পীর সমস্ত গান।
সেই সময় টিভি বলতে দূরদর্শন। তারপর এল কেবল। কার্টুন চ্যানেল, স্টার প্লাসের মতো চ্যানেলের হাতছানি। কিন্তু তার খরচও নেহাত কম নয়। রীতিমতো সম্পত্তি কেনাবেচার মতো দরদাম করে চ্যানেল বাছাই করতেন অভিভাবকরা। একটা কার্টুনের চ্যানেলের জন্য রীতিমতো কান্নাকাটি করতে হত খুদেদের। তাতেও যে সবসময় চাহিদা পূরণ হত, তা কিন্তু একেবারেই নয়। বর্তমান প্রজন্মের খুদেদের হাতে হাতে ফোন, তাতে ইউটিউব কিডস।
পছন্দের ব্যাগ, জলের বোতল, টিফিন বক্স পেতেও কি কম লড়তে হত! ব্যাগে একটু বেশি কম্পার্টমেন্ট, উপরে স্টিকার দেওয়া ব্যাগের জন্য রীতিমতো বাবা-মায়ের নানারকম শর্তপূরণ করতে হয়। কোনওমতে পছন্দের ব্যাগ পেলে না ছেঁড়া পর্যন্ত তা বদলানোর কোনও প্রশ্নই ছিল না। এখনকার বাচ্চারা এসব ভাবতেও পারে না। তাদের কাছে একটার জায়গায় ৫ টা ব্যাগ।
এখন কতরকমের বাহারি খেলনা। অধিকাংশ বাড়িতে দেখা যায়, খেলনায় ভরা একটা ঘর। নব্বইয়ের দশকে কিন্তু এসব ভাবতেও পারত না খুদেরা। হয়তো কোনও ক্লাসে দুর্দান্ত রেজাল্ট করলে উপহার মিলত একটা রিমোর্ট কন্ট্রোল গাড়ি। যদিও তা কেউই ঠিক মতো চালাতে পারত না। কিছু না কিছু গন্ডগোল লেগেই থাকত। আর ভেঙে যেন না যায়, প্রতি মুহূর্তে সতর্ক করতেন মা।
নব্বইয়ের দশকের খুদেদের কাছে জেল পেন, গ্লিটার পেনসিল, সুগন্ধী ইরেজার হাতে পাওয়া ছিল চাঁদ পাওয়ার সমান। তবে নাগালে পেলেও সবসময় ব্যবহারের অনুমতি মিলত না। বিশেষ বিশেষ দিনে জেল পেনে লেখার অনুমতি দিতেন মা।
এখন ঘুরতে যাওয়া মানেই ফ্লাইট বা ট্রেনের এসি কামরা। গরমের ছুটিতে খুদেরা বাবা-মায়ের সঙ্গে দেশ-বিদেশ পাড়ি দেয়। আজ থেকে ৩০ বছর আগে কিন্তু এমনটা ছিল না একেবারেই। বছরে হয়তো একবার ট্রেনে করে মামাবাড়ি যাওয়া হতো। সেই ট্রেন সফর নিয়ে উন্মাদনার শেষ ছিল না। জানলার পাশের সিটে বসে চলন্ত ট্রেন থেকে বাইরের দৃশ্য দেখা, ঝালমুড়ি খাওয়া, ওসবের স্বাদই ছিল আলাদা।
ছোট বলে কি গোপন কথা থাকতে নেই? নিশ্চয়ই আছে। কিন্তু তা বড়দের বোঝাবে কে? নব্বইয়ের দশকে মনের গোপন কথা জমানোর সুরক্ষিত ঠিকানা ছিল লকড ডায়েরি। কিন্তু তা হাতে পাওয়া ছিল কঠিন। কারণ আবদার করলেই প্রশ্ন উঠত, লকের প্রয়োজনীয়তা কী? কী গোপন করার চেষ্টা চলছে? জেন জি'র সেসবের বালাই নেই। হাতে হাতে ফোন, তাতে পাসওয়ার্ড। গোপন কথার হদিশ পাওয়াও দুষ্কর।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 08:35 PM Jan 12, 2026Updated: 08:57 PM Jan 12, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
