Advertisement
বিদেশি প্রজাতি নয়, বাড়ির জন্য আদর্শ ইন্ডিয়ান পরিয়াই! কারণ জানলে অবাক হবেন
কী বলছে গবেষণা?
চারপেয়েদের প্রতি ভালোবাসা নেই, এমন লোকের দেখা পাওয়া কঠিন। কারণ, ওদের কাছেই আছে মন খারাপের ওষুধ। ম্যাজিকের মতো সারাদিনের ক্লান্তি নিমেষে দূর করে দিতে পারে ওরা। সময় যত এগোচ্ছে দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ বাড়িতেই নিয়ে আসা হচ্ছে চারপেয়ে সদস্য। তবে এক্ষেত্রে বেশিরভাগেরই পছন্দ বিদেশি প্রজাতি। কেউ বাড়ি নিয়ে যান লাসা, কেউ গোল্ডেন রিট্রিভার, কেউ ল্যাব, কেউ আবার অন্যকিছু।
কিন্তু জানেন কি গবেষণা বলছে অন্য কথা। কী বলা হচ্ছে? বাড়িতে পোষার জন্য বিদেশি নয়, বরং ইন্ডিয়ান পারিয়াই নাকি আদর্শ। তবে একথা বলার পিছনে রয়েছে বেশ কিছু কারণও। চলুন আজ জেনে নেওয়া যার সেগুলো কী কী।
কুকুর মাত্রই প্রভুভক্ত। ওদের একবার খাবার ও ভালোবাসা দিলে সারাজীবন তাঁকে মনে রেখে দেয়। ৫ বছর পর দেখা হলেও আচরণে বুঝিয়ে দেয় ভালোবাসা। কিন্তু গবেষণা বলছে, এক্ষেত্রেও অন্য যে কোনও প্রজাতির তুলনায় অনেকটা এগিয়ে ভারতীয় কুকুর অর্থাৎ পথেঘাটে দেখা যায় যাদের। একবার যদি ওদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেন, আপনার জন্য জীবন দিতেও পিছপা হবে না।
বিদেশি কুকুরেরা ভারতের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেয় ঠিকই, তবে সমস্যা থাকেই। ওদের জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হয় মনিবকে। কিছু প্রজাতি রয়েছে যাদের জন্য এসি বা কুলার বাধ্যতামূলক। কিন্তু যদি ইন্ডিয়ান পারিয়াকে সন্তানস্নেহে নিয়ে আসেন বাড়িতে সেক্ষেত্রে এই সমস্যা থাকে না। কারণ, ওরা ভারতের আবহাওয়ার সঙ্গে পরিচিত ও অভ্যস্ত।
গবেষণা বলছে, ভারতীয় পথকুকুরদের ইমিউনিটি পাওয়ার বিদেশি প্রজাতির থেকে অনেক বেশি। সামান্য সমস্যা কাহিল করতে পারে না ওদের। সেই কারণেই চিকিৎসকের কাছেও যেতে হয় না বিশেষ। কিন্তু বিদেশি প্রজাতির কুকুরদের ক্ষেত্রে পান থেকে চুন খসলেই ছুটতে হয় ডাক্তারের কাছে। যা রীতিমতো খরচ সাপেক্ষও।
কুকুর মাত্রই বুদ্ধিমান হয়। সেই কারণেই পুলিশ-সেনাবাহিনীতে ওদের ব্যবহার করা হয়। গবেষণা বলছে, ইন্ডিয়ান পারিয়া বুদ্ধিতে বলে বলে টেক্কা দিতে পারে বাকিদের। ওরা ভীষণ স্মার্ট, খুব সহজেই সবকিছু শিখে নিতে পারে। বলা হয়, ট্রেনিং দিলে বাকি যে কোনও প্রজাতির থেকে আগে শিখে নিতে পারে ওরা।
ভারতে বিদেশি কুকুর কিনে এনে আদর যত্ন করা হলেও অধিকাংশক্ষেত্রেই দেখা যায় দেশিয় প্রজাতির সারমেয়রা অবহেলায় পড়ে থাকে রাস্তায়। গরমে একটু জল, পেটভরা খাবার, শীতে একটু উষ্ণতা, কিছুই মেলে না। ফলে প্রতিদিন কয়েক হাজার পথকুকুরের মৃত্যু হয় শুধুমাত্র যত্নের অভাবে। সেখানে যদি একজনও পথকুকুরকে ভালোবেসে ঘরে নিয়ে যান তাহলে একটা প্রাণ নতুন করে বাঁচার সুযোগ পায়।
ভালোবাসার সঙ্গে দামের কোনও সম্পর্ক নেই। তাই যাঁরা নিখাদ ভালোবাসা থেকে বাড়িতে পোষ্য আনতে চান, তাদের জন্য বিদেশি প্রজাতি আর দেশি, সবই সমান। কারণ, চেহারা দিয়ে ভালোবাসার বিচার করা যায় না। আর ইন্ডিয়ান পরিয়াও দেখতে অত্যন্ত মিষ্টি। আর তাদের আচরণ..., তা তো প্রতিনিয়তই সকলে দেখতে পান পথেঘাটে। একবার ডাকলেই বাধ্য সন্তানের মতো হাজির হয়ে যায় আদরের লোভে।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 03:46 PM Apr 19, 2026Updated: 04:08 PM Apr 19, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
