Advertisement
সব শৈশব কাটে না 'দুধে-ভাতে', মা-বোনের মুখে খাবার তুলে দিতে ৮ বছরেই ট্রেনের হকার শুভঙ্কর!
মা আর ছোট্ট বোনের 'অভিভাবক' শুভঙ্কর।
বাবা-মায়েরা চান, 'সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে।' সাধ্যের বাইরে গিয়েও বাচ্চাকে খুশি করার চেষ্টা করে যান সারাজীবন। কারণ, বাবা-মায়ের কাছে তারা চিরদিন ছোটই থেকে যায়। কিন্তু চারপাশে থাকা বহু শিশুর পরিস্থিতি প্রমাণ করে দেয় সব অভিভাবকের ভাবনা এক নয়। তাদেরই একজন আট বছরের শুভঙ্কর গিরি। ছেড়ে গিয়েছে বাবা। মা আর ছোট্ট বোনের 'অভিভাবক' এখন সে।
যারা শিয়ালদহ-বনগাঁ শাখার ট্রেনে যাতায়াত করেন তাঁরা প্রায় সকলেই চেনেন শুভঙ্করকে। কাঁধে পয়সা ব্যাগ, হাতে কোনওদিন চকোলেট, কোনওদিন লেবু, কোনও দিন থাকে অন্যকিছু। ট্রেন দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ঢুকলেই দৌড়ে ট্রেনে উঠে পড়ে শুভঙ্কর। বেচাকেনা করতে করতে চলে যায় বারাসত পর্যন্ত। আবার ফেরে দমদম ক্যান্টনমেন্টে। সারাদিনে যা আয় হয় তার একটা অংশ দিয়ে মাছ-সবজি বাজার করে ফেরে সে।
শুভঙ্করের বয়স এখন সবে ৮। তার বয়সি বাচ্চারা দিনভর কিছু না কিছুর আবদার করতেই থাকে। কিন্তু শুভঙ্কর আরও ছোট বয়সেই বুঝে গিয়েছিল যে আবদার করার অধিকার তার নেই। বরং কাঁধে রয়েছে আবদার মেটানোর দায়িত্ব। কয়েকবছর আগেই ছেড়ে যান বাবা। সংসারের সদস্য বলতে মা, বোন আর শুভঙ্কর। আগে শুভঙ্করের মা ট্রেনে হকারি করতেন। অসুস্থতার কারণে তা বন্ধ করতে বাধ্য হন। শুরু করে লোকের বাড়িতে কাজ।
কিন্তু তাতে তো তিনজনের পেট চলবে না! সেই সঙ্গে দুই সন্তানের পড়াশোনার একটা খরচও রয়েছে। সেই সময়ই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় ছোট্ট শুভঙ্কর। বর্তমানে সে তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া। সকালে ঘুম থেকে উঠে চলে যায় স্কুলে। এরপর বাড়ি ফিরে সামান্য কিছু খেয়ে বেরিয়ে পড়ে কাজে। প্রথমে বাজার থেকে জিনিস কেনে, তারপর উঠে পড়ে ট্রেনে।
বেচাকেনা শেষে যা আয় হয়, লাভের অংশ দিয়ে বাজার করে শুভঙ্কর। প্রায় রোজ রাতে তার জন্য প্ল্যাটফর্মে বসে অপেক্ষা করেন মা ও বোন। দাদার দায়িত্ব তো অনেক। তা বেশ ভালোই জানে খুদে। তাই মাঝে মধ্যেই বোনের আবদার পূরণ করতে কিনে দেয় খেলনা বা পছন্দের খাবার। দিনশেষে একসঙ্গে বাড়ি ফেরে তিনজন। সকাল থেকে ফের শুরু জীবনযুদ্ধ। শুভঙ্কর জানে, সে কাজ না করলে মা-বোন খেতে পাবে না।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 01:43 PM Sep 02, 2026Updated: 01:43 PM Sep 02, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
