Advertisement
মদ ছোঁন না, তবু বিপদ! সাবধান, এই ৭ লক্ষণ মানেই লিভারের সমস্যা শুরুর ইঙ্গিত
লিভারের সমস্যা মানেই মদ্যপান, এই ধারণা অনেকের মনেই গেঁথে আছে। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। আধুনিক জীবনযাপন, অনিয়মিত ঘুম, প্রসেসড খাবার আর মানসিক চাপ- সব মিলিয়ে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের লিভারে সমস্যা বাসা বাঁধছে, অথচ তাঁরা এক ফোঁটাও অ্যালকোহল ছোঁয় না। সমস্যা হচ্ছে, লিভারের সমস্যায় প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনও লক্ষণই থাকে না।
ভারতে লিভারের অসুখ ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, এখন আর শুধু বয়স্কদের নয়, তরুণ এমনকী শিশুদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। ক্লান্তি, পেটের মেদ, রক্তে শর্করার ওঠানামা- এই লক্ষণগুলোকে অনেকেই সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এগুলিই হতে পারে লিভারের সমস্যার প্রাথমিক ইঙ্গিত।
লিভার শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির একটি। এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে ফেলে, হজমে সাহায্য করে এবং বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এই অঙ্গের সামান্য সমস্যাও ধীরে ধীরে পুরো শরীরের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আর তাই লিভারের সংকেতগুলো সময়মতো বুঝে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রথম লক্ষণটি হল অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা ক্লান্তি। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাক্ষণ অবসন্ন লাগে, তাহলে সেটাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। লিভার ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে টক্সিন জমতে থাকে, যার ফলে দেখা দিতে পারে দুর্বলতা। অনেকেই এটাকে কাজের চাপ বা মানসিক ক্লান্তি ভেবে ভুল করেন।
দ্বিতীয়ত, হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া বা ওজন কমাতে সমস্যা হওয়া। নিয়ম মেনে ডায়েট আর ব্যায়াম করেও যদি ওজন না কমে, তাহলে সেটা লিভারের বিপাকক্রিয়ার সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমা হওয়া ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
তৃতীয়ত, হজমের সমস্যা ও বারবার পেট ফাঁপা। লিভার পিত্তরস তৈরি করে, যা চর্বি বা ফ্যাট হজমে সাহায্য করে। এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে খাওয়ার পর অস্বস্তি, গ্যাস বা পেট ফুলে থাকার মতো অনুভূতি তৈরি হয়। অনেকেই এটাকে সাধারণ গ্যাস, অম্বল ভেবে এড়িয়ে যান, যা ভুল।
চতুর্থত, ডান দিকের পেটে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি। লিভার ডানদিকে থাকে, তাই সেখানে চাপ বা ভারী লাগা কখনও কখনও লিভারের অসুখের ইঙ্গিত দেয়। ব্যথা খুব তীব্র না হলেও এটাকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
পঞ্চমত, ত্বকের পরিবর্তন। হঠাৎ চুলকানি, ত্বক নিস্তেজ হয়ে যাওয়া বা অকারণে পিগমেন্টেশন দেখা দিলে সতর্ক হোন। লিভার ঠিকমতো টক্সিন বা ক্ষতিকর বর্জ্য বের করতে না পারলে তার প্রভাব ত্বকে পড়ে। অনেক সময় এই লক্ষণগুলোই প্রথমে দেখা দেয়।
ষষ্ঠত, ব্রেন ফগ বা মনোযোগ কমে যাওয়া। কাজ করতে গিয়ে ভুলে যাওয়া, মাথা ঝিমঝিম করা বা মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা, এই সবই লিভারের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। শরীরের ভেতরের ভারসাম্য নষ্ট হলে মস্তিষ্কেও তার প্রভাব পড়ে।
সপ্তমত, রক্তে শর্করা বা কোলেস্টেরলের অস্বাভাবিকতা। লিভার বিপাকক্রিয়ার মূল নিয়ন্ত্রক হওয়ায় এর সমস্যা হলে ব্লাড সুগার ও কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে। নিয়মিত রিপোর্টে হঠাৎ পরিবর্তন দেখলে তা গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 08:27 PM Apr 14, 2026Updated: 08:27 PM Apr 14, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
