Advertisement
স্রেফ গোবর থেকেই তৈরি হবে রান্নার গ্যাস! সংকটের মধ্যে শিরোনামে মোদি সরকারের 'গোবর্ধন' প্রকল্প, জানুন খরচ
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে দেশে রান্নার গ্যাসের সংকট। বুকিং করেও মিলছে না সিলিন্ডার।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে দেশে রান্নার গ্যাসের সংকট। বুকিং করেও মিলছে না সিলিন্ডার। রাজ্যে রাজ্যে গ্যাসের দোকানগুলির সামনে লম্বা লাইন। সরকার বারবার গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে আশ্বস্ত করলেও বাস্তব বলছ, বহু ক্ষেত্রে সমস্যা রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বিকল্প জ্বালানিতে জোর দেওয়ার কথা বলছেন।
সেই বিকল্প জ্বালানি হিসাবে শহরাঞ্চলে বিকল্প জ্বালানি হিসাবে অনেকে ব্যবহার করছেন ইনডাকশন কুকার। কেউ ব্যবহার করছেন কয়লার উনুন। গ্রামাঞ্চলে কেউ কেউ জ্বালানি হিসাবে কাঠ ব্যবহার করছেন। কিন্তু এসবের মধ্যে সবচেয়ে সাশ্রয়ী-ভরসাযোগ্য এবং পরিবেশবান্ধব রান্নার উপায় হতে পারে বায়ো গ্যাস, বা গোবর গ্যাস।
বহু বছর ধরেই গ্রামাঞ্চলে এই বায়োগ্যাস বা গোবর গ্যাস ব্যবহার করে রান্নার চল রয়েছে। বিশেষ করে যে সব বাড়িতে একাধিক গবাদি পশু রয়েছে বা পশুর খাটাল রয়েছে সেসব বাড়িতে এই বায়ো গ্যাস ব্যবহারের চল রয়েছে।
সব প্রাণির মল থেকেই প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এ গ্যাস তৈরি করা যায়। পশুর গোবর ও অন্যান্য পচনশীল পদার্থ বাতাসের অনুপস্থিতিতে পঁচানোর ফলে যে গ্যাস তৈরি হয় বায়োগ্যাস। তবে গৃহপালিত বা বাণিজ্যিকভাবে পালিত পশুপাখির মল সহজলভ্য বলে এগুলোই বেশি ব্যবহার করা হয়।
বায়োগ্যাস উৎপাদনের জন্য প্রধানত দুধরনের প্ল্যান্ট ব্যবহৃত হয়। ফিক্সড ডোম বায়োগ্যাস প্লান্ট। ভাসমান ডোম বায়োগ্যাস প্লান্ট। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ফিক্সড ডোম বায়োগ্যাস প্লান্ট বেশ জনপ্রিয়। দেশের গ্রামাঞ্চলে দুই ধরনের ডোমই চলে।
যে সব বাড়িতে খাটাল রয়েছে, সেখানে গোবর থেকে রান্নার গ্যাস তৈরিতে উৎসাহিত করছে কেন্দ্র সরকারও। এ জন্য চালু হয়েছে ‘বায়ো-গ্যাস’ প্রকল্পও। প্রকল্পটির তত্ত্বাবধান করছে ‘খাদি ভিলেজ ইনডাস্ট্রিজ কমিশন’। সেই ২০১৭ সাল থেকেই এই প্রকল্প চালাচ্ছে কেন্দ্র। এর অধীনে বহু পরিবারকে বায়ো গ্যাস প্ল্যান্ট লাগাতে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হয়।
তাছাড়া মোদি সরকারের আনা গোবর্ধন প্রকল্পেও গোবর থেকে গ্যাস উৎপাদন এবং জৈব সার উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হয়। এই প্রকল্পে গত অর্থবর্ষেও অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। মূলত ডেয়ারি এবং সমবায়ের মাধ্যমে এই প্রকল্প চালানো হয়।
বায়ো গ্যাসের সুবিধা অনেক। সাধারণ রান্নার গ্যাসের তুলনায় খরচ প্রায় অর্ধেক। কাঁচা গোবরের দুর্গন্ধ, মশা-মাছির সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে। গ্যাস বেরনোর পরে গোবরের যে অংশ পড়ে থাকবে, তা উন্নত মানের সার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। সর্বোপরি দূষণ থেকেও মুক্তি মিলবে।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হল, এই বায়োগ্যাস প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎও উৎপাদন হয়। অক্সিজেন এবং ব্যাকটিরিয়ার অনুপস্থিতিতে প্রাণীজ বর্জ্যপদার্থ ব্যবহার করে গ্যাস উৎপাদন করা হয়। প্রধানত মিথেন এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের একটি গ্যাস মিশ্রণ তৈরি হয়। এর ফলে গ্রিন হাউস গ্যাস উৎপাদন অনেক কম হয়। ফলে পরিবেশ দূষণ কম হয়।
বায়ো গ্যাসে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও অনেক কম। এই গ্যাসে বিস্ফোরণের আশঙ্কা নেই। ইচ্ছামতো ব্যবহার করা যায়। এমনও নয় যে এই গ্যাসে রান্নার আঁচ কম হয়, বা রান্নায় কোনওরকম অসুবিধা হয়। ফলে বায়ো গ্যাস বেশ উপযোগী হতে পারে।
বিভিন্ন মাপের বায়ো গ্যাস প্ল্যান্ট বাড়িতে বসানো যায়। মোটামুটিভাবে মাপ অনুযায়ী বায়ো গ্যাস প্ল্যান্ট বসাতে ৯৮০০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এর বাইরে পানীয় জলের পাম্প এবং কিছু আনুষঙ্গিক খরচ রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সরকারি ভরতুকিও পাওয়া যায়। স্থানীয় সমবায় বা দুগ্ধ সমবায়, বা স্থানীয় কৃষি অধিকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বায়ো গ্যাস প্ল্যান্ট বসানো যায়।
Published By: Subhajit MandalPosted: 05:18 PM Mar 26, 2026Updated: 05:29 PM Mar 26, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
