Advertisement
মমতার 'কালারফুল বয়' থেকে ঋতর 'রোনাল্ডিনহো', কেন 'সুখের পালঙ্ক ছেড়ে খাটিয়া'য় মদন?
মমতার প্রথম মন্ত্রিসভায় ক্রীড়ামন্ত্রী এবং পরিবহণ মন্ত্রীও ছিলেন। সেই একনিষ্ঠ সৈনিকের শিবির বদলের সিদ্ধান্ত মমতার জন্য যন্ত্রণাদায়ক, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
চোখে রঙিন চশমা। সাজগোজে ভিড়ের মাঝে সবসময় আলাদা। তৃণমূলের একেবারে শুরুর সঙ্গী মদন মিত্র। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার দু’বছরের মাথাতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক। মমতার প্রথম মন্ত্রিসভায়, ক্রীড়ামন্ত্রী এবং পরিবহণ মন্ত্রীও ছিলেন তিনিই। মমতার 'কালারফুল বয়'ই এখন ঋত-তৃণমূলে।
বুধবার তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ভাঙনের মরশুমে হাত ধরেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। 'সুখের পালঙ্ক ছেড়ে খাটিয়া'য় কামারহাটির বিধায়ক। তিনিই এখন ঋতব্রতর 'রোনাল্ডিনহো'। তার ফলে স্বাভাবিকভাবেই আরও নিঃসঙ্গ মমতা।
মদন মিত্রের স্ত্রী ও দুই পুত্রকে তলব করে ইডি। মদনের দাবি, মমতাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন তলবের কথা। 'দিদি' নাকি সেভাবে পাশে দাঁড়াননি। পরিবর্তে বলেছেন, 'লাগেজ, ব্যাগেজ থাকলেই মুশকিল।' তাতেই নাকি মন ভাঙে দীর্ঘদিনের সৈনিকের। তারপরই সিদ্ধান্ত নেন 'দিদি'র হাত ছাড়ার। মেসেজে 'সরি' লিখেই মুখ ফেরান।
মঙ্গলবার রাতে এন্টালির প্রাক্তন বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে যান। দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়। বুধবার দক্ষিণেশ্বরের বাড়ি থেকে সোজা বিধানসভায় আসেন। দেখা যায় ঋতব্রত শিবিরের পাশে। সুর চড়ান অভিষেকের বিরুদ্ধে।
তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক চ্ছিন্ন করার কথা সাফ জানিয়ে দেন। বলেন, তিনি শুধু তৃণমূল বিধায়ক নন। এই রাজ্যের বিধায়ক। বিধানসভার সদস্য। আরও বলেন, "ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।" তিনি দাবি করেন, "দীর্ঘদিন তৃণমূলের পাশে ছিলাম। থাকার চেষ্টা করেছি।" প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগেও ঋত তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন মদন।
শিবির বদলের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বোমা ফাটান মদন। তিনি বলেন, "অভিষেক আর যাই হোক তৃণমূলের মুখ নয়। আর আইপ্যাক খায় না মাথায় দেয়, সেটাও বোঝা যায়নি। জটিল ব্যাপার ছিল একটা। একজনের জন্য দল নয়। দল সকলের। অভিষেকের সঙ্গে তৃণমূল ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।" আরও অনেকেই দল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে পারেন বলে ভবিষ্যদ্বাণীও করেন তিনি। ঋত তৃণমূলের বৈঠকে যোগ দেওয়া অনুব্রতর গলাতেও শোনা যায় একই সুর।
সেই একনিষ্ঠ সৈনিকের শিবির বদলের সিদ্ধান্ত মমতার জন্য যথেষ্ট যন্ত্রণাদায়ক, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মমতার দাবি, অভিষেক নিয়ে এত অভিযোগ ভিত্তিহীন। আদতে ইডির তলবের পর 'আতঙ্কিত' মদন 'নিরাপত্তা'র খোঁজে ঋত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। তা নিয়ে অবশ্য মতবিরোধ রয়েছে মদনের।
মদন মিত্র অবশ্য বরাবরই ঠোঁটকাটা। ‘দমদম দাওয়াই’ প্রসঙ্গ হোক কিংবা ‘যতই নাড়ো কলকাঠি, কিচ্ছু হবে না কামারহাটি’! কামাল করা দামাল ডায়লগ হরবখত তাঁর জিভের ডগায় লম্ফঝম্প। তার ফেসবুক লাইভে 'এম এম' ম্যাজিকে মুগ্ধ সকলে। ফিল্মি কায়দায় মদনের বলা 'ওহ লাভলি'র জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। সেই মদনের শিবির বদল নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলছে জোর চর্চা।
Published By: Sayani SenPosted: 08:44 PM Jul 15, 2026Updated: 08:52 PM Jul 15, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
