Advertisement
রাখির দিনেই নৌকো সাজিয়ে সমুদ্রপুজো করেন মৎসজীবীরা, কী এই ব্রত? মাহাত্ম্য জানেন
শুক্রবার রাখি পূর্ণিমা। যদিও আগের দিনই শুরু হচ্ছে তিথি। ভাই-বোনের স্নেহের সুরক্ষার এ এক অনন্য উদযাপন। কিন্তু ওই একই দিনে সমুদ্র উপকূলবর্তী মানুষেরাও উদযাপন করেন এক বিশেষ উৎসব। নাম জানেন?
শুক্রবার রাখি পূর্ণিমা। যদিও আগের দিনই শুরু হচ্ছে তিথি। ভাই-বোনের স্নেহের সুরক্ষার এ এক অনন্য উদযাপন। কিন্তু ওই একই দিনে সমুদ্র উপকূলবর্তী মানুষেরাও আপদে-বিপদে নিজেদের সুরক্ষায় প্রার্থনা জানান পরম করুণাময়ীর কাছে। এক প্রান্তের উৎসব রূপ নেয় অন্য প্রান্তের লোকায়ত বিশ্বাসে। আর সেই বিশ্বাসের নাম নারালি পূর্ণিমা। কোথায় পালিত হয় এই অনুষ্ঠান?
মহারাষ্ট্র, গোয়া এবং কোঙ্কণ উপকূলের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের কাছে রাখি পূর্ণিমা অত্যন্ত পবিত্র এক দিন। সমুদ্রই তাঁদের একমাত্র জীবিকা ও আশ্রয়। তাই এই দিনে নীল জলরাশিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় তাঁদের মূল পুজো এবং আরাধনা। বিপদ-আপদে রক্ষা পেতে মানুষ সমুদ্রের শরণাপন্ন হন।
স্থানীয় ভাষায় 'নারালি' শব্দের মূল অর্থ হল নারকেল। এই বিশেষ উৎসবে নারকেলই পুজোর প্রধান উপকরণের ভূমিকা পালন করে। তাই তিথিটি 'নারালি পূর্ণিমা' নামে খ্যাতি পেয়েছে। ভক্তেরা ভক্তিভরে নারকেল অর্পণ করে মহাসমুদ্রের আশীর্বাদ ও কৃপা কামনা করেন।
রাখির সকালেই ঘাটজুড়ে শুরু হয় রঙিন নৌকার শোভাযাত্রা। মৎস্যজীবীরা তাঁদের কাজের নৌকাগুলিকে ফুল, মালা ও নানা অলঙ্কারে জমকালোভাবে সাজিয়ে তোলেন। নতুন মরশুমে যাতে সমুদ্রে যাত্রাপথ নিরাপদ থাকে, তার জন্য নৌকায় চলে বিশেষ আরাধনা।
সমুদ্রে আপদ-বিপদ বলে-কয়ে আসে না। তাই নারালি পূর্ণিমায় সমুদ্রের ঢেউয়ের বুকে নারকেল নিবেদন করা হয়। উদ্দেশ্য একটাই, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে যেন রক্ষা পাওয়া যায়। জীবিকার উৎস সমুদ্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মৎস্যজীবীরা পরিবার ও নিজেদের নিরাপদ জীবনের ব্যাকুল প্রার্থনা জানান এ দিন।
কেবল ধর্মীয় নিষ্ঠাই নয়, এই দিন ঘিরে থাকে সামাজিক আনন্দের ঢল। উৎসবের আনন্দে মহিলারা সুন্দর রঙিন শাড়ি ও গয়নায় সাজেন। সকলে মিলে পুজো দিয়ে নাচ-গানে মেতে ওঠেন। নারকেল দিয়ে তৈরি মিষ্টি ও বিশেষ প্রসাদ ঘরে ঘরে বিতরণ করা হয়। সামাজিক মিলনের এক অপূর্ব রূপ ফুটে ওঠে।
একই পূর্ণিমা তিথি সারা ভারতে ধারণ করে ভিন্ন ভিন্ন মহিমা। দক্ষিণ ভারতের কেরালা, কর্নাটক ও তামিলনাড়ুতে এই শুভ দিনটি 'অবনি অবিত্তম' নামে উদযাপিত হয়। আবার উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিসগড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে মানুষ একে 'কজরি পূর্ণিমা' নামে শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করে।
ভারতবর্ষের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অপূর্ব রূপ নারালি পূর্ণিমা। ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে এখানে মিলেমিশে গিয়েছে নীল সমুদ্র, জলবায়ু ও মানুষের দৈনন্দিন জীবিকা। প্রকৃতিকে পুজো করার এই ভারতীয় ঐতিহ্য স্পষ্ট করে দেয়, মানুষের জীবন কতটা গভীরভাবে বাঁধা রয়েছে প্রকৃতির উদারতার সঙ্গে। শ্রাবণের পূর্ণিমায় তাই মিলেমিশে যায় ভক্তি ও জীবন।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 09:03 PM Aug 25, 2026Updated: 09:03 PM Aug 25, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
