Advertisement
'যৌন' হেনস্তা প্রতিবেশী দাদার, ঠকিয়েছে উভকামী প্রেমিক! ক্ষত বুকে নিয়েই নেটদুনিয়ার 'বাদশা' লাফটারসেন
হঠাৎ একদিন নিরঞ্জন জানতে পারেন সপ্তাহখানেক পর বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন প্রেমিক।
লাফটারসেন। এই নামটার সঙ্গে পরিচয় নেই, এমন মানুষ বোধ হয় নেই। নিজ গুণে সকলের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। ভিডিও তো অনেকেই তৈরি করেন। সামাজিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টাও করেন অনেক ক্রিয়েটরই। কিন্তু নিজের যোগ্যতায় আর পাঁচজনকে পিছনে ফেলে নেটদুনিয়ার মনে জায়গা করে নিয়েছেন লাফটার সেন। কিন্তু তার লড়াইটা কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। এক ধাক্কাই কার্যত আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিয়েছে তাঁর কাছে।
নেটদুনিয়ায় তিনি লাফটারসেন। খুব মজার ছলেও কঠিন বাস্তব বুঝিয়ে দিতে তাঁর জুরি মেলা ভার। আসলে কে এই যুবক? সকলের প্রিয় লাফটার সেনের আসল নাম নিরঞ্জন মণ্ডল। কলকাতায় বেড়ে ওঠা। ছোটবেলায় অঙ্ক ভুল করায় শিক্ষক প্রবল বকাঝকা করেছিলেন তাঁকে। কে জানত, একটা সময় শুধু বাংলা নয়, বিশ্ববাসীর মনে রাজত্ব করবে সেই নিরঞ্জন।
একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে জীবনের কঠিন সময়ের গল্প করেছিলেন নিরঞ্জন। সেখানেই তিনি জানান ছেলেবেলার ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা। তখন ষষ্ঠশ্রেণির ছাত্র নিরঞ্জন। প্রতিবেশী এক দাদার কাছে অঙ্ক করতে যেতেন তিনি। সেই সুযোগকেই কাজে লাগান যুবক। নিরঞ্জন বলেন, একাধিকবার জোর করে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন ওই প্রতিবেশী যুবক। বয়স এতটাই কম যে তাঁর সঙ্গে ঠিক ঘটছে তাও বুঝতে পারেননি। তবে যা হচ্ছে ঠিক হচ্ছে না, তা বুঝেছিলেন।
একে মনে ভয়, তার উপর মা-বাবা নিজেদের নানারকম সমস্যায় জর্জরিত থাকায় তাঁদের বলতে পারেননি নিরঞ্জন। আতঙ্ক কুঁড়ে কুঁড়ে খেত তাঁকে। এরপর ধীরে ধীরে বয়স বাড়তেই একাকিত্ব অনুভব করতে শুরু করেন তিনি। একজন বন্ধুর সন্ধান শুরু করেন নিরঞ্জন। এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নিরঞ্জনের কথায় ওই যুবক ছিলেন উভকামী।
নিরঞ্জন জানান, হঠাৎ একদিন তিনি জানতে পারেন সপ্তাহখানেক পর বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন প্রেমিক। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর গোটা দুনিয়া মুহূর্তে অন্ধকার হয়ে যায়। তবে কেউ চলে যেতে চাইলে তাঁকে আটকে রাখবে এমন সাধ্যি কার! তাই নিরঞ্জনকেও সরতে হয়। তিনি অনুভব করেন, উভকামী মানুষদের পরিস্থিতিটা ঠিক কী। আর তা নিয়েই একটি ভিডিও তৈরি করে আপলোড করেন সোশাল মিডিয়ায়।
নাহ, প্রথম ভিডিওতেই ভাইরাল হননি নিরঞ্জন। তবে বন্ধুরা প্রশংসা করেছিল। তাঁরা বুঝিয়েছিল এই পথেই কেরিয়ার গড়ার জন্য। তবে যে কোনও মধ্যবিত্ত পরিবারই চায় একটা স্থায়ী উপার্জন। ফলে নিরঞ্জনের ভিডিও করাতে যে প্রথম থেকে পরিবারের অনুমতি ছিল তা একেবারেই নয়। তবে নিজেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন নিরঞ্জন। আজ একডাকে সকলে চেনে ঝাঁকরা চুলের সদাহাস্য লাফটার সেনকে।
Published By: Tiyasha SarkarPosted: 07:45 PM Aug 25, 2026Updated: 07:46 PM Aug 25, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
