Advertisement
চোরে চোরে বেয়াই! টুলুর মেয়ের শ্বশুর 'সোনা পাচারের ডন', ১৫০ কোটির বিয়েতে তারকার মেলা
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বসে টুলুর মেয়ের বিয়ের আসর।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস। বীরভূমে তখন আলোচনার বিষয় ছিল এক বিয়ের অনুষ্ঠান। পাথর ব্যবসায়ী টুলুর মেয়ের বিয়েকে ঘিরে যে এলাহি আয়োজন হয়েছিল, তা অনেকের কাছেই যেন রূপকথার গল্পের মতো মনে হয়েছিল। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সেই অনুষ্ঠানের পিছনে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। তবু বিয়ের জাঁকজমক দেখে এমনই আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা জেলায়।
টুলুর জামাই বারিক বিশ্বাসের ছেলে। ২০০৪-০৫ সাল থেকে উত্তর ২৪ পরগনার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিভিন্নভাবে গরু পাচার শুরু হয়। এই ব্যবসার মূল কাণ্ডারি ছিলেন বারিক। ২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারি তাঁর বাড়িতে কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে সিবিআই তল্লাশি চালায়। দুবছর পর, ২০২৩ সালের গোড়ায় রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হয় বারিক বিশ্বাস। বেশ কয়েক মাস জেলে কাটিয়ে জামিনে মুক্তি।
সেই বিয়ের আসর ছিল তারকাখচিত। টলিউড থেকে বলিউড - দুই ইন্ডাস্ট্রির একাধিক পরিচিত মুখ উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে। অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা, দর্শনা বণিক, আরবাজ খান, জারিন খান, আসরানি, আফতাব শিবদাসানি-সহ একাধিক তারকা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এছাড়াও বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা মোনালি ঠাকুর মঞ্চে লাইভ পারফরম্যান্স করেন, যা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
বিয়ের আগেই সোশাল মিডিয়ায় একাধিক তারকার শুভেচ্ছাবার্তা দেন। সেই তালিকায় ছিলেন অঙ্কুশ হাজরা, দর্শনা বণিক, প্রেম চোপড়া, জারিন খান, আরবাজ খান এবং সুমিত গাঙ্গুলির মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বরা। ফলে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরুর আগেই তা নিয়ে জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছিল।
শুধু বিনোদন জগতের তারকারাই নন, প্রশাসন, ব্যবসা এবং রাজনীতির বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বও সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত নজরকাড়া। অনুষ্ঠান ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে বীরভূমের বিভিন্ন প্রান্তে চলেছিল আলোচনা। জেলার চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যম - সর্বত্রই ছিল এই বিয়ের আয়োজনের প্রসঙ্গ।
আয়োজনের চাকচিক্যও ছিল চোখধাঁধানো। বিশাল এলাকা জুড়ে তৈরি হয়েছিল রাজপ্রাসাদের আদলে সুসজ্জিত অস্থায়ী মণ্ডপ। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেই প্যান্ডেলে আধুনিক আলোকসজ্জা, দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা এবং বিশেষ অতিথিদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
অতিথিদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল প্রায় ৩০টি স্থায়ী শৌচালয়, যা সাধারণত এক দিনের অনুষ্ঠানে খুব কমই দেখা যায়। খাবারের ব্যবস্থাও ছিল নজিরবিহীন। প্রায় ৭০ রকমের খাবারের স্টল বসানো হয়েছিল, যেখানে দেশি-বিদেশি নানা পদ পরিবেশন করা হয়। অতিথিদের প্রবেশও ছিল নিয়ন্ত্রিত। বাইরে থেকে আনা একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার দেওয়া বিশেষ রিস্ট ব্যান্ড থাকলেই কেবল অনুষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি মিলত।
বিয়ের এই নজিরবিহীন আয়োজনের পর থেকেই জেলার একাংশের মানুষ টুলু মণ্ডলকে আড়ালে আবডালে 'বীরভূমের আম্বানি' বলেও উল্লেখ করতে শুরু করেন। কারণ, এমন বিপুল ব্যয়ে অভূতপূর্ব জাঁকজমকে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘটনা এই জেলায় কার্যত বিরল। সেই বিয়েই অনেকের কাছে টুলু মণ্ডলের আর্থিক সামর্থ্য ও প্রভাবের প্রদর্শন ছাড়া কিছুই নয়।
Published By: Sayani SenPosted: 04:59 PM Jul 30, 2026Updated: 05:10 PM Jul 30, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
