Advertisement
লাভ বাইট থেকে সঙ্গীর সঙ্গে আধো আধো বুলিতে কথা, ভালোবাসায় কেন অদ্ভুত কাণ্ড ঘটান যুগলরা?
এমন অদ্ভুত আচরণ কারও চোখে বিরক্তিকর। কেউবা বলেন, আদিখ্যেতা। তবে তাতে কী-ই বা আসে যায়?
সদ্য মনে ধরেছে কাউকে। মন উথালপাথাল। তাঁকে নিয়ে তখন কতই না ভাবনাচিন্তা। যেন মনে হচ্ছে এক মুহূর্ত তাঁকে ছাড়া থাকাই দায়। ভিড়ের মাঝে সেই মনের মানুষকে ছাড়া একেবারেই একলা আপনি। মন জুড়ে শুধুই তাঁর রাজত্ব। আর আপনি সেই রাজত্বের একজন বাধ্য সৈনিক। ঠিক যেমনভাবে তিনি চালাবেন, আপনিও সেভাবেই চলতে রাজি। সেখানে না আছে কোনও মতবিরোধ। না কোনও সমস্যা।
প্রেমে পড়লে যেন জীবনই বদলে যায়। কথায় বলে, সেই সময় আকাশ যেন মনে হয় আরও রঙিন। বাতাস একেবারে ফুরফুরে। গোটা দুনিয়াই মনে হয় একেবারে অন্যরকম। কত কিছুই না করেন সকলে। অনেক সময় হয়তো তা অন্যের চোখে বিরক্তিকরও হয়ে উঠতে পারে। কেউবা বলেন, আদিখ্যেতা। তবে তাতে কী আসে যায়? ওই যে বলে না, 'কুছ তো লোক কহেঙ্গে, লোগো কা কাম হ্যায় কেহেনা...'।
প্রেমের সঙ্গে শরীরী খেলা একে অপরের পরিপূরক। ভালোবেসে দু'জনে একাত্ম হয়ে যাওয়া। একে অপরের শরীরে ডুব দেওয়া। তারই ফাঁকে কেউ কেউ সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনীকে কামড় দেন। যা 'লাভ বাইট' নামেই পরিচিত। কানে, কাঁধে, ঘাড়ে 'লাভ বাইট' দেখা যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। ভালোবাসার কামড়ে বেশ কষ্টও পান মনের মানুষ। আবার কখনও কখনও লোকলজ্জার শিকার হতে হয় তাঁকে।
একে অপরকে জাপটে ধরেন অনেকেই। তাতে নাকি যুগলরা মনে করেন, একে অপরের শরীরের গন্ধ অনুভব করতে পারছেন। তার ফলে তাঁর অক্সিটোসিন বা লাভ হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে। যা শরীর ও মনকে দিনভর চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। তা-ই ক্লান্তিকর দিনে একবার হলেও মনের মানুষকে আষ্টেপৃষ্টে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরুন। দেখবেন নিমেষে সব ক্লান্তি গায়েব। মনে হবে, যেন নতুন করে শুরু হল দিনটি।
কখনও আবার দেখা যায় অকারণেই সঙ্গী কিংবা সঙ্গিনীকে মারধর করেন। চুল টেনে দেন। চিমটি কাটেন। এককথায় নানা উপায়ে তাঁকে বিরক্ত করাই যেন প্রধান লক্ষ্য। তার ফলে অপর দিকের মানুষ বিরক্ত হন। বিশেষত প্রেমিকারা কখনও কখনও কান্নাকাটিও জুড়ে দেন। মিষ্টি মধুর এই সম্পর্ক ঠিক যেন টম আর জেরির মতো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নাকি সম্পর্কে বন্ধুতা বাড়ে। ভিত হয় আরও শক্তপোক্ত।
প্রেমের সম্পর্কে বাঁধা পড়া হয় মানে হয় ঘন ঘন ফোনালাপ কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজিং। ভয়েস মেসেজও পাঠান কেউ কেউ। আর তাতেই মনের মানুষের সারাদিনের সমস্ত আপডেট অপর পক্ষের একেবারে হাতের মুঠোয়। প্রেমে পড়লে নাকি মনের মানুষের সঙ্গে আধো আধো বুলিতে কথা বলেন কেউ কেউ। অনেকে আবার ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বেশ জোরে জোরেও কথা বলেন। এভাবেই নাকি একে অপরের মধ্যে টান বাড়ে অনেকটা।
মনের মানুষ মানে সে একেবারে নিজের। তাঁর আর আপনার সম্পর্ক একেবারে স্বচ্ছ। সেখানে আলাদা করে কোনও আদবকায়দা মেনে চলার ব্যাপার নেই। আবার তাঁর কাছে কিছু প্রমাণ করারও নেই। যাকে বলে তিনি আপনার 'কমফোর্ট জোন'। তাই অনেকেই একেবারে অবলীলায় মনের মানুষের সামনে বাতকর্ম করেন। সম্পর্কের গভীরতা না থাকলে অবশ্য তা সম্ভব নয়। বহুক্ষেত্রেই যুগলের মধ্যে ঝগড়াঝাটিও বাঁধে। অশান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
প্রেমে পড়লে অনেক সময় সঙ্গীর পোশাক পরার ইচ্ছা বেড়ে যায়। তাই অনেক সময় দেখা যায় মহিলারা তাঁর প্রেমিকের শার্ট কিংবা শীতে পরার জন্য হুডি নিয়ে নেন। যদিও পুরুষরা মহিলাদের পোশাক পরার সুযোগ পান না। তাই তাঁরা বহুক্ষেত্রেই দেখা যায় সঙ্গিনীর সুগন্ধী ব্যবহার করেন। কখনও রুমাল কিংবা চিরুনি, তোয়ালে ব্যবহার করতে দেখা যায়। বহুক্ষেত্রেই দেখা যায়, মহিলারা তা পছন্দ করেন না।
এমন অদ্ভুত আচরণ অনেকেই পছন্দ করেন না। কেউ কেউ নাক সিঁটকোন। একটু বয়স্করা অনেক সময় টিপ্পনি কেটে বলেন, "বাবা, আমরা কী আর প্রেমে পড়িনি। নাকি ভালোবেসে বছরের পর বছর সংসার করিনি।" অনেকে আবার বাঁকা চোখে দেখেন কেউ কেউ। 'আদিখ্যেতা' বলেও দাগিয়ে দেন কেউ কেউ। তবে কেউ কেউ আবার এমন দুষ্টু-মিষ্টি রসায়ন উপভোগও করেন।
তবে প্রশ্ন একটাই, প্রেমে পড়ে কেন এমন অদ্ভুত আচরণ করেন যুগলরা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেমে পড়লে নাকি অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরণ হয়। যা লাভ হরমোন নামেও পরিচিত। আর তার জেরেই নানা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেন যুগলেরা। যা প্রেমের বয়স বাড়ার পর ভাবনাচিন্তা করলে হয়তো ওই যুগলেরাও অবাক হবেন। ভাববেন, এমন কাজ আবার কেউ করে নাকি?
Published By: Sayani SenPosted: 09:19 PM Mar 27, 2026Updated: 09:33 PM Mar 27, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
