Advertisement
অনস্ক্রিন স্বমেহন থেকে 'টক্সিক', কিয়ারার উষ্ণতায় ফের ঘায়েল পুরুষমন
দক্ষিণী সুপারস্টার যশ এবং কিয়ারার রসায়ন ফুটে উঠবে ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোনআপস’ ছবিতে।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রুপোলি পর্দা থেকে দূরে থেকেও শিরোনামে উঠে এসেছিলেন কিয়ারা আডবানি। ‘ওয়ার ২’ ছবিতে তাঁর বিকিনি লুকে ঘায়েল হয়েছিলেন দর্শক-অনুরাগীরা। সেই ধারা এবারেও অব্যাহত রাখলেন কিয়ারা।
আগামী ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোনআপস’ ছবিতে কিয়ারার নতুন লুক দেখে রীতিমতো চমকে গিয়েছে দর্শককুল। মা হওয়ার পর এই ছবির মাধ্যমে কাজে ফিরেছেন তিনি। যদিও শুটিং করেছেন অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি নিজেই লিখেছিলেন, ‘এ এমন একটা চরিত্রে যা আমার থেকে অনেক বেশি চেয়েছিল। অনেক কঠিন পরিশ্রম জড়িয়ে রয়েছে এর সঙ্গে। আমার নতুন ছবির এই লুক দেখে সত্যিই আমি ভীষণ খুশি।’ এমনকি কিয়ারা এও জানিয়েছেন যে, শুটিংয়ের দিনগুলো খুব কঠিন ছিল। সেইসময়ে গর্ভের সন্তানের সঙ্গে কথা বলতেন কিয়ারা। তাকে শান্ত করতেন। আর এভাবেই নাকি শুটিং সেরেছিলেন অভিনেত্রী।
গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোনআপস’ নিয়ে অবশ্য বিতর্কের শেষ নেই। এই ছবিতে উগ্র পৌরুষ প্রদর্শন করা হয়েছে বলেই অভিযোগ। হিংসা, রক্তারক্তি ও উদ্দাম যৌনতার ছবি ধরা পড়েছে পরতে পরতে। ছবিতে কিয়ারার চরিত্রের নাম ‘নাদিয়া’। এছাড়াও রয়েছেন নয়নতারা এবং তারা সুতারিয়া। ছবিতে অভিনয় করছেন হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত এবং নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে ছবির দ্বিতীয় ঝলক মুক্তি পায়। সেখানে যশকে গাড়িতে এক নারীর সঙ্গে সঙ্গমে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এমনভাবে দেখানো হয়েছে যেন সঙ্গমে শক্তি সঞ্চয় করে তিনি লড়াই করতে নেমেছেন। সবমিলিয়ে ওঠে সমালোচনার ঝড়।
তার আগে প্রথম ঝলকে দর্শকদের সামনে ধরা দেন কিয়ারা আডবাণী। কালচে নীল রঙের মণীশ মালহোত্রার ডিজাইন করা অফ শোল্ডার পোশাকে সেজে এক্কেবারে অন্যভাবে ধরা দেন কিয়ারা। আর তা দেখে অনুরাগীদের যেন মাথা ঘুরছে। কিয়ারাকে এই রূপে দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ কিয়ারার স্বামী সিদ্ধার্থ মালহোত্রা। সোশাল মিডিয়ায় আদুরে পোস্টও করেছিলেন তিনি। লেখেন, ‘আমি জানি এই কাজের পেছনে তোমার কতটা কঠিন পরিশ্রম রয়েছে। এই ছবিটা দেখার জন্য আমি অপেক্ষায় রয়েছি।’
সম্প্রতি ছবির প্রথম গান 'তাবাহি'র পোস্টার প্রকাশ্যে এসেছে। দক্ষিণী সুপারস্টার যশ এবং কিয়ারার রসায়ন ধরা পড়েছে ওই পোস্টারে। যা দেখে নেটিজেনদের উত্তেজনার পারদ যেন আরও তুঙ্গে। ওই পোস্টারে দেখা যাচ্ছে সমুদ্র সৈকতে এক রোমান্টিক মুহূর্তে মগ্ন যশ ও কিয়ারা। নীল জলরাশির পটভূমিতে তাঁদের এই রসায়ন দেখে মুগ্ধ অনুরাগীরা। যশের রাফ-অ্যান্ড-টাফ লুক আর কিয়ারার স্নিগ্ধতা-সব মিলিয়ে এই নতুন জুটি বড় পর্দায় যে আগুন ধরাবে, তা বলাই বাহুল্য।
২০২৬ সালের আগামী ১৯ মার্চ এই ছবি বড়পর্দায় মুক্তির কথা। আরও একবার কিয়ারার স্নিগ্ধ ও রোম্যান্টিক ম্যাজিক বড়পর্দায় দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন অনুরাগীরা। হিন্দি ও ইংরেজিতে তো বটেই একইসঙ্গে তেলুগু, তামিল, মালয়লম ও কন্নড় ভাষায় মুক্তি পাবে ছবিটি।
আব্বাস-মস্তানের ‘মেশিন’ ছবি থেকে বলিউডে পরিচিতি বাড়ে কিয়ারার। এরপর ‘এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’-তে নজর কাড়েন তিনি। এরপর আসে ওয়েব সিরিজ ‘লাস্ট স্টোরিজ’। এখানে অভিনয়ের সূত্রে তো রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছিলেন কিয়ারা।
'লাস্ট স্টোরিজ' সিরিজের একটি দৃশ্যে তাঁকে ভাইব্রেটর ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। ওই দৃশ্য নেটদুনিয়ায় ঝড় তোলে। চরম যৌনসুখ উপলব্ধি করার যে সাবলীল ভঙ্গিমা তা যেমন প্রশংসিত। আবার তেমনই ওয়েব সিরিজে এমন খোলামেলা দৃশ্যের ব্যবহার নিয়ে অনেকে রক্তচক্ষুও দেখান। সবমিলিয়ে ওই দৃশ্য যে নেটদুনিয়ায় ঝড় তোলে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বলা যায়, এখান থেকেই কেরিয়ারের মোড় ঘুরে যায় কিয়ারার।
হস্তমৈথুনের দৃশ্যে শুটিং করতে তাঁর মোটেই অস্বস্তি হয়নি। চিত্রনাট্য অনুযায়ী শুটিং হয়েছে, এ কথা আগেই জানিয়েছিলেন কিয়ারা। তবে অভিনেত্রী যে দিন সেই দৃশ্য শুট করছিলেন গোটাটাই সামনে থেকে দেখেন সিদ্ধার্থ। আসলে অভিনেতা করণ জোহরের মারফত আগে থেকেই জানতেন এমন একটা দৃশ্যের শুটিং হতে চলেছে। চিত্রনাট্যের চিত্রায়ণ সিদ্ধার্থের মনোগ্রাহী মনে হয়েছিল বলেই শুটিং দেখতে যান। তখনই কাজ দেখে কিয়ারাকে মেয়ে হিসাবে বড্ড ঘরোয়া বলেই ঠাওর হয় অভিনেতার।
ডাব্বু রত্নানির ক্যালেন্ডার শুটেও সাহসী কিয়ারা ধরা দেন। সেই ছবিতে ঊর্ধ্বাঙ্গে সুতোও ছিল না অভিনেত্রী। কলাপাতা দিয়ে ঢাকা স্তন। মোমপালিশ ত্বক দেখে উৎসুক নেটিজেনরা প্রশংসার ঝড় বইয়ে দেয়।
কিয়ারা আডবানী অভিনীত আরেক ওয়েব সিরিজ ‘গিলটি’ নিয়েও আলোচনাও কম হয়নি। সেখানে উন্মুক্ত বক্ষ বিভাজিকায় ট্যাটু করে লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি গানের লাইন- ‘একলা চলো রে’। আর এই নিয়েই নেটদুনিয়ায় কটাক্ষের শিকার হন কিয়ারা। গানের ট্যাটু বানানো নিয়ে অবশ্য আপত্তি নেই নেটিজেনদের। তাদের সমস্যা ট্যাটুর জায়গা নিয়ে। উন্মুক্ত বক্ষ বিভাজিকায় ‘একলা চলো রে’ লেখা অপসংস্কৃতির পরিচয় বলে মন্তব্য করেন কেউ কেউ।
Published By: Sayani SenPosted: 08:17 PM Mar 01, 2026Updated: 09:25 PM Mar 01, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
