Advertisement
২৫ বছর পর দেশের মাটিতে চুনকাম থেকে ৬০০-র বেশি রান হজম, গম্ভীর-আগরকর জমানায় লজ্জার সাতকাহন
গম্ভীরের আমলে 'ব্যথাদাগ' লেগেছে ভারতীয় ক্রিকেটে।
অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল গৌতম গম্ভীরকে। তিনি তাঁর পছন্দমতো 'টিম' নিয়েই যাত্রা শুরু করেছিলেন। নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকরও কার্যত গম্ভীরের পছন্দমতো দল করেছেন। গম্ভীর-আগরকর জুটিতে ভারত অনেক রেকর্ড ভাঙছে। কিন্তু সেসব জয়ের রেকর্ড নয়। তাঁদের আমলে একাধিক হতাশার নজির গড়ে ভারতীয় ক্রিকেট বারবার লজ্জার মুখে পড়েছে। যার সর্বশেষ সংযোজন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাটিতে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ হার। সিলেক্টর আগরকর এবং কোচ গম্ভীরের আমলে আর কতবার ভারতীয় ক্রিকেটে 'ব্যথাদাগ' লেগেছে? আসুন ঝালিয়ে নেওয়া যাক।
গুরু গম্ভীর জমানার প্রথম ওয়ানডে সিরিজের কথাই ধরা যাক। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেই সিরিজে লজ্জাজনক পারফরম্যান্স করে টিম ইন্ডিয়া। তিন ম্যাচের সিরিজে একটাও ম্যাচ জিততে পারেনি ভারত। প্রথম ম্যাচ কোনওমতে টাই হওয়ার পরে টানা দুই ম্যাচে হেরে বসে গম্ভীর বাহিনী। ২-০ ফলে সিরিজ জিতে নেয় শ্রীলঙ্কা। গত ২৭ বছরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ হারেনি ভারত। কিন্তু গৌতম গম্ভীর কোচিংয়ের শুরুতেই সেই রেকর্ড ভেঙে যায়।
কিউয়িদের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে চুনকাম হয় টিম ইন্ডিয়া। তিন টেস্টেই তারা হারিয়ে দেয় গৌতম গম্ভীরের ভারতকে। ২০০০ সালে হ্যান্সি ক্রোনিয়ের দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল টিম ইন্ডিয়া।
অর্থাৎ ২৪ বছর পর লজ্জাজনক পরাজয়ের শিকার হয় ভারত। একই সঙ্গে ঘরের মাঠে ১২ বছর পর সিরিজ হারে ভারত। একই সঙ্গে ৪৭ বছরে প্রথমবার ঘরের মাটিতে টানা তিন টেস্ট হারে গম্ভীর বাহিনী।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিন টেস্টের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুই টেস্টে হার স্বীকার করে গম্ভীরের ভারত। ইডেন এবং গুয়াহাটি টেস্ট হেরে যায় টিম ইন্ডিয়া। ইডেনে আড়াই দিনে আত্মসমর্পণের পর প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের শেষ ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যায় ভারত। টানা ৯ ম্যাচ জেতার পর ৮ বছর পর কলকাতায় হারে ভারত। ইডেনে ১২৪ রান করতে পারেনি ভারত। এটাই দেশের মাটিতে সবচেয়ে কম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হার ভারতের। এরপর গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচে ৪০৮ রানে ধরাশায়ী হয় গম্ভীর বাহিনী। ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে-নেতৃত্বে সব দিক থেকে পর্যুদস্ত টিম ইন্ডিয়া।
২০২৪-এ নিউজিল্যান্ড, ২০২৫-এ দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ত যায় ভারতের দেশের মাটিতে টেস্ট আধিপত্যের গর্ব। ২৫ বছর পর ভারতের মাটিতে ভারতকেই হোয়াইটওয়াশ করে টেম্বা বাভুমার দল। আরও একটা তথ্য হল ঘরের মাটিতে প্রথমবারের মতো ২০০-র কম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে হার স্বীকার করে ভারত। তাছাড়াও ভারতের মাটিতে ১৫ বছর পর টেস্ট জেতে দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভারতকে হারিয়ে ১০ বছর পর বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি জেতে অস্ট্রেলিয়া। গত বছরের শুরুতেই ১-৩ ব্যবধানে সিরিজ হারতে হয়েছিল টিম ইন্ডিয়াকে। ২০১৪-১৫ মরশুমের পর ট্রফি জয়ের স্বাদ পেয়েছিল অজিরা। এই সিরিজেই ১৩ বছর পর মেলবোর্নে হার মানে ভারত। তাছাড়াও ১২ বছর পর অজি বাহিনী ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি টেস্ট জেতে।
এখানেই শেষ নয়। লজ্জা আরও রয়েছে। প্রথমবার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হল টিম ইন্ডিয়া। এর আগে দু'বার ফাইনালে উঠেছিল ভারত। তৃতীয়বার ফাইনাল খেলল অস্ট্রেলিয়া বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা। স্টিভ স্মিথদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় টেম্বা বাভুমার দল।
প্রথমবার ভারতের মাটিতে সিরিজ জিতেছে নিউজিল্যান্ড। ফলাফল ২-১। কোহলির ফর্ম ছাড়া অনেক কিছু নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের বছর শুরু হল। ওয়ানডেতে অধিনায়ক শুভমান গিল এখনও সিরিজ জিততে পারেননি। বরোদায় প্রথম ম্যাচে ভারত জিতলেও রাজকোট এবং ইন্দোরে (প্রথমবার পরাজয়) হেরে যায় টিম ইন্ডিয়া।
গম্ভীর-আগরকরের আমলে একে একে লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, চেতেশ্বর পূজারা, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো ক্রিকেটাররা। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, 'অন্দরমহলে'র চাপেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। তবে এখনও ওয়ানডে খেলছেন রো-কো। বাকি দু'জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
মহম্মদ শামির মতো বোলারের কেরিয়ার শেষের পথে। অনেকে মনে করেন আরও সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল বাংলার পেসারের। যেটা গম্ভীর জমানায় হচ্ছে না। ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্স সত্ত্বেও অজানা কোনও কারণে জাতীয় নির্বাচকদের মন ভরাতে পারেননি তিনি। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বাংলার পেসার আগরকরদের কাছে ‘ব্রাত্য’ই রয়ে গিয়েছেন।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 05:09 PM Jan 19, 2026Updated: 05:32 PM Jan 19, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
