Advertisement
এই নদের তীরে রাখা অজস্র জুতো অবাক করে পর্যটকদের, চোখে জল এনে দেয় নেপথ্য কারণ
ইউরোপের ড্যানিউব নদের পাড়ে সার সার জুতোর সারি। কোনওটা ছোট বাচ্চার। কোনওটা মেয়েদের চটি, আবার কোনওটা ফ্যাকাশে পুরনো লোহার বেড় দিয়ে তৈরি বুট। দেখলে মনে হয়, যেন এই মাত্র কেউ জুতো খুলে জলে নামলেন। কিন্তু না! এই নির্জীব জুতোগুলো নদীর দুই পাড়ের শহর বুদাপেস্টের বুকে এক রক্তঝরা ইতিহাসের সাক্ষী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয় এই নির্বাক স্মারক। দেখে অবাক হন পর্যটকরা।
ইউরোপের ড্যানিউব নদের পাড়ে সার সার জুতোর সারি। কোনওটা ছোট বাচ্চার। কোনওটা মেয়েদের চটি, আবার কোনওটা ফ্যাকাশে পুরনো লোহার বেড় দিয়ে তৈরি বুট। দেখলে মনে হয়, যেন এই মাত্র কেউ জুতো খুলে জলে নামলেন। কিন্তু না! এই নির্জীব জুতোগুলো নদীর দুই পাড়ের শহর বুদাপেস্টের বুকে এক রক্তঝরা ইতিহাসের সাক্ষী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সেই ভয়াবহ দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয় এই নির্বাক স্মারক। দেখে অবাক হন পর্যটকরা।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টের ড্যানিউব নদীর পাড়ে গেলে চোখে পড়বে ষাট জোড়া লোহার জুতো। এই অদ্ভুত দৃশ্যটি আসলে একটি স্মৃতিসৌধ, যার নাম ‘শুশ অন দ্য ড্যানিউব ব্যাংক’। ১৯৪৪-৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্তিমলগ্নে ঘটা এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মরণে এই জুতোগুলো নদীর কিনারে সারিবদ্ধ ভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক কাহিনির নেপথ্যে রয়েছে হাঙ্গেরির তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শক্তি ‘অ্যারো ক্রস পার্টি’। তারা বুদাপেস্টের হাজার হাজার ইহুদিকে ধরে এনে ড্যানিউব নদীর পাড়ে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করত। গুলি করার ঠিক আগে তাঁদের আদেশ দেওয়া হত জুতো খুলে রাখার জন্য। সেই সময়ের নিরিখে জুতো ছিল খুবই মূল্যবান সম্পদ।
ঘাতক সেনারা জুতোগুলো খুলে নিত যাতে সেগুলো পরবর্তীকালে কালোবাজারে বিক্রি করা যায়। খালি পায়ে নদীর ধারে সার দিয়ে দাঁড় করানো হত নারী-পুরুষ এবং শিশুদের। তারপর একে একে গুলি করে দেহগুলো ভাসিয়ে দেওয়া হত ড্যানিউবের শীতল স্রোতে। মুহূর্তের মধ্যে নদী রক্তে লাল হয়ে উঠত। আর পাড়ে পড়ে থাকত খোলা জুতো।
এই শোকগাথাকে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছিলেন হাঙ্গেরীয় চলচ্চিত্র পরিচালক ক্যান তোগে। তাঁর ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হন ভাস্কর গিউলা পাউয়ার। প্রথাগত কোনও বড় মিনার বা স্থাপত্য না গড়ে তাঁরা চেয়েছিলেন এমন কিছু তৈরি করতে, যা সাধারণ মানুষের শেষ মুহূর্তের অসহায়তাকে সরাসরি ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হবে।
২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল এই স্মৃতিসৌধটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। নদীর পাড়ে প্রায় ৪০ মিটার দীর্ঘ অঞ্চল জুড়ে এই জুতোগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা আছে। ১৯৪০-এর সেই সময়কার জুতোর আদলেই লোহা দিয়ে এগুলো তৈরি। প্রতিটি জুতোর নকশা যেন এক একটি হারিয়ে যাওয়া জীবনের গল্প বলে।
আপনি যদি সেখানে যান, দেখবেন ছোট জুতোর পাশে জ্বলছে মোমবাতি কিংবা পড়ে আছে কিছু ফুল। কোনও পর্যটক সেখানে গিয়ে একজোড়া জুতোর ভেতরে পাথর গুঁজে দিচ্ছেন শ্রদ্ধায়। জুতোগুলো এমন ভাবে বসানো হয়েছে যেন মনে হয় মানুষগুলো এখনও সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে, শুধু তাঁদের অস্তিত্বটুকু নেই।
কাছেই একটি পাথরের বেঞ্চে হাঙ্গেরীয়, ইংরেজি এবং হিব্রু ভাষায় লেখা আছে সেই সব অভাগা মানুষের স্মৃতিতে উৎসর্গ করা কিছু কথা। পার্লামেন্ট ভবনের খুব কাছেই অবস্থিত এই জায়গাটি এখন পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এখানে ভিড় থাকলেও রয়েছে অদ্ভুত এক নীরবতা। গভীর বিষাদে ভরে ওঠে মন।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 08:01 PM Mar 11, 2026Updated: 08:06 PM Mar 11, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
