Advertisement
শাহরুখকে নোটিস, 'তালা' ঝুলিয়েছেন ব্লিঙ্কিট-ডমিনোজে! সবজি বিক্রেতার পুত্র 'সিংহম' তুখারামকে চেনেন?
২১ বছরের মধ্যে ২৫ বার বদলি হয়েছেন এই সিংহম। সেটার মূল কারণ হল তাঁর 'অতিসক্রিয়তা'।
মহারাষ্ট্রের 'স্বাস্থ্য' ফেরাতে রীতিমতো আদাজল খেয়ে নেমেছেন। কখনও 'ভেজাল' পনিরের উপর নিষেধাজ্ঞা বসাচ্ছেন, কখনও কেড়ে নিয়েছেন ডমিনোজ-পিজ্জা হাটের মতো বিখ্যাত খাবারের দোকানের লাইসেন্স। তাঁর কড়া শাসনের কোপ পড়েছে স্বয়ং শাহরুখ খানের উপরেও। কিং অফ রোম্যান্সকে আইনি নোটিস ধরিয়েছেন। নেটদুনিয়ায় চর্চা চলছে, মহারাষ্ট্রজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো এই 'সিংহম' আসলে কে? কেন হঠাৎ খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন তিনি?
নাম তাঁর তুখারাম মুন্ডে। বর্তমানে তিনি রয়েছেন মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কমিশনার পদে। গত ২৫ মে তিনি দায়িত্ব নেন। তারপর দুই মাসের মধ্যে প্রায় গোটা রাজ্য চষে ফেলেছেন। তিন হাজারেরও বেশি হোটেল-রেস্তরাঁয় হানা দিয়েছেন। তার মধ্যে ১৬৫টি লাইসেন্স সটান বাতিল করেছেন। গ্রেপ্তার করেছেন সাড়ে তিনশোর বেশি। প্রায় ৩০ লক্ষ কেজি ভেজাল খাবার বাজেয়াপ্ত করেছেন।
রাজ্যে ভেজাল খাবারের রমরমা রুখতে একেবারে কড়াহাতে আসরে নেমেছেন তুখারাম। সম্প্রতি মহারাষ্ট্র ‘অ্যানালগ’ পনিরের উৎপাদন, বিতরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিলেন। উদ্ভিজ্জ চর্বি সমৃদ্ধ নকল পনির আগামী একবছরের জন্য নিষিদ্ধ। নিয়ম ভাঙলে জেলযাত্রাও হতে পারে। কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর কোপ পড়ে দুই জনপ্রিয় খাবারের দোকান ডমিনোজ এবং পিজ্জা হাটের উপর। এই রেস্তরাঁগুলোয় ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি নেই, এমনটাই অভিযোগ।
তবে তুখারামকে নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে শাহরুখ খানকে নোটিস পাঠানোর পর থেকে। ‘বিমল পান মশলা’র পরোক্ষ প্রচারের অভিযোগে শাহরুখের পাশাপাশি অজয় দেবগণ এবং টাইগার শ্রফকেও নোটিস পাঠিয়েছে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। তিন তারকাকেই অবিলম্বে এই বিজ্ঞাপনের প্রচার থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকেই তুখারামকে 'সিংহম' আখ্যা দিয়ে সোশাল মিডিয়ায় চলছে চর্চা।
প্রবল দারিদ্র থেকে উঠে এসেছেন এই তুখারাম। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে চাষের খেতে কাজ করতেন। সপ্তাহে একবার সবজি বিক্রিই ছিল তাঁদের পরিবারের আয়ের একমাত্র পথ। তুখারামের স্বপ্ন ছিল, বড় হয়ে প্রশাসনের খোলনলচে পালটে দেবেন। কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশোনা শেষ করেন। ২০০৫ সালে আইএএস অফিসার হিসাবে যোগ দেন। ২১ বছর কাজ করছেন তুখারাম। অন্যায়ের সঙ্গে আপসহীন ব্যক্তিত্ব হিসাবে আমলা মহলে যথেষ্ট পরিচিত।
২১ বছরের মধ্যে ২৫ বার বদলি হয়েছেন তুখারাম। সেটার মূল কারণ হল তাঁর 'অতিসক্রিয়তা'। কেরিয়ারের শুরু থেকে যেখানে পোস্টিং পেয়েছেন, সর্বত্রই পদক্ষেপ করেছেন অন্যায় এবং নিয়মভঙ্গ নিয়ে। শোলাপুরের কালেক্টর থাকাকালীন শতাধিক গ্রামে বিনামূল্যে জলের ব্যবস্থা করেছিলেন। নবি মুম্বইয়ের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার হয়ে বেআইনি নির্মাণ এবং হোর্ডিং নিয়ে কড়া পদক্ষেপ করায় সরকারের রোষানলেও পড়েছিলেন।
বারবার বদলিকে ইতিবাচকভাবেই দেখেন তুখারাম। তাঁর মতে, বদলিতে নতুন কাজের সুযোগ মেলে। তাই যখন যে দায়িত্ব পান, মাঠে নেমে কাজ শুরু করেন। জনতার তরফ থেকে বাহবা কুড়োন। যদিও তুখারাম মনে করেন, আইএএস অফিসার হিসাবে এটা তাঁর কর্তব্য। তাই জনতার বাহবা দেওয়ার কোনও কারণ নেই। ২০২২ সালে হেলথ কমিশনার পদে বসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাঁকে বদলি করে দেওয়া হয়েছিল।
মহারাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করবেন না, সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তুখারাম। তাই বলি তারকাদের নোটিস দিতেও দ্বিধা করেননি। তারপর থেকে জনতার দরবারে বীরের সম্মান পেয়েছেন তুখারাম। অনেকেই চাইছেন, এই 'নো-ননসেন্স' আদর্শ নিয়ে রাজনীতির ময়দানে আসুন এই আমলা। কিন্তু তুখারামের মতে, আইএএস অফিসার হিসাবে যেটুকু তাঁর করণীয়, সেটুকুই করবেন। তাঁকে নিয়ে মাতামাতিটা এড়িয়েই চলতে চাইছেন নতুন 'সিংহম'।
Published By: Anwesha AdhikaryPosted: 06:15 PM Aug 17, 2026Updated: 06:15 PM Aug 17, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
