Advertisement
পাকিস্তানের পক্ষে বিপজ্জনক ডোরেমন! কেন নিষিদ্ধ করতে চেয়েছিল পড়শি দেশ
এমন চমৎকার বন্ধুত্বের এই মাঙ্গা সিরিজকে মোটেই 'সহজ সরল' বলে মনে করে না পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল পিটিআই।
ডোরেমনকে চেনে না গোটা বিশ্বে এমন শিশু বিরল। জনপ্রিয় এই জাপানি অ্যানিমে চরিত্রটির সঙ্গে নোবিতার বন্ধুত্ব কেবল শিশু নয়, তাদের অভিভাবকদেরও কমবেশি প্রিয়। কিন্তু এমন চমৎকার বন্ধুত্বের এই মাঙ্গা সিরিজকে মোটেই 'সহজ সরল' বলে মনে করে না পাকিস্তান। প্রায় এক দশক আগে সেদেশে দাবি উঠেছিল ডোরেমনের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার।
‘ডোরেমন’-এর মূল চরিত্র নোবিতা ও সিজুকা। নীল বেড়াল ডোরেমনের রয়েছে একটি পকেট। সেই পকেট থেকে যাবতীয় অদ্ভুত সব জিনিস (পড়ুন গেজেট) বেরিয়ে আসে। ব্যাম্পু কপ্টার থেকে এনিহোয়্যার ডোর সবই পাওয়া যায়। সমস্যা সমাধান হয়ে যায় এক তুড়িতে। এহেন শিশুসুলভ অ্যানিমে নিয়ে কেন আপত্তি পাকিস্তানের?
২০১৬ সালের আগস্টে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ তথা পিটিআই দাবি তোলে এই সিরিজ নিষিদ্ধ করতে হবে। যদিও তা নিষিদ্ধ হয়নি শেষমেশ। তবে বিতর্ক আজও রয়ে গিয়েছে। সেই সময় এর জন্য ইমরানের দলকে প্রবল ট্রোলিং সহ্য করতে হয়েছিল নেট ভুবনে। পাকিস্তানি নাগরিকরাও ছিলেন সেই দলে।
কিন্তু কেন? কী কারণে এমন দাবি? ইমরানের দলের বক্তব্য, নোবিতা ডোরেমন ও তার গেজেটের উপরে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। কোনও সমস্যায় পড়লেই সে জানে তার 'গিজমো' ঠিক কোনও না কোনও উপায় বের করবেই। এমন সিরিজ পরপর দেখতে থাকলে খুদে দর্শকদের মনে এর প্রভাব পড়বে। তারা আত্মনির্ভরতা ও কঠোর শ্রমের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।
পিটিআই নেতা মালিক তৈমুর পাঞ্জাব প্রদেশের বিধানসভায় যে প্রস্তাব পেশ করেন, তাতে বলা হয় কার্টুন চ্যানেলগুলি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হোক। বিশেষ করে ডোরেমনের মতো কার্টুন। তাঁর দাবি ছিল, ''শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ছে ২৪ ঘণ্টার চ্যানেলগুলির দৌলতে।''
এরপরই শুরু হয় রসিকতা। নেট ভুবনে অনেকেই এমন নিষেধাজ্ঞার দাবিকে ব্যঙ্গ করেন। প্রকাশিত হয় নানা মিম, জোকস। পাকিস্তানের বিখ্যাত সংবাদপত্র 'দ্য ডন' একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করে সাতটি কারণ দেখানো হয় ডোরেমনকে নিষিদ্ধ করার সপক্ষে। যদিও সব ক'টি যুক্তিই ছিল আসলে ব্যঙ্গ। পক্ষান্তরে এই দাবিকেই খোঁচা দিতে ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
সেখানে এমনও দাবি করা হয়, ডোরেমনকে হয়তো অন্য দেশের গুপ্তচর মনে করছে পিটিআই। তাই তারা তা ব্যান করতে চায়। পাশাপাশি দাবি করা হয়, শিশুদের অলস করে তোলা নয়, বরং নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করে ফেলার অনুপ্রেরণাই জোগায় এই মাঙ্গা সিরিজ। যা থেকে পরিষ্কার, পিটিআই এমন দাবি করলেও পাকিস্তানেই কিন্তু সেই দাবির যথেষ্ট বিরোধিতা করা হয়েছিল।
তবে এই বিতর্ক যে কেবল পাকিস্তানেই ঘনিয়েছিল তা নয়। ভারতেও কিন্তু এমন দাবি উঠেছে। রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মীরা দাবি করেছিলেন, ডোরেমন শিশুমনে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এই ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করে দেওয়া হোক। তবে এরপরও এদেশে রমরমিয়ে চলেছে এই শো। আজও তা শিশুদের অত্যন্ত প্রিয়।
মনে করা হয় কেবল অদ্ভুত সব গেজেট, রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চারই নয়... শিশুদের কাছে এর আকর্ষণ এত বেশি কারণ এখানে আমরা পাই গভীর বন্ধুত্বের আখ্যানও। নোবিতা এক দশ বছরের বালক। তার সঙ্গে মোলাকাত হয় দ্বাবিংশ শতাব্দীর এক রোবটের অচিরেই তারা বন্ধু হয়ে ওঠে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই বন্ধুত্বের কাহিনিতেই বুঁদ।
সম্প্রতি প্রয়াত হয়েছেন ‘ডোরেমন’-এর পরিচালক শিবায়ামা সুতোমু। দীর্ঘদিনে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন তিনি। গত ৬ মার্চ তাঁর মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ‘নবিতা অ্যান্ড দ্য ক্যাসেল আন্ডারসি ডেভিল’, ‘ডোরেমন: নবিতা ইন দ্য ওয়ান ন্যান স্পেসটাইম ওডিসি’, ‘চিবি মারুকো’, ‘নিন্তামা রান্তারো’, ‘মাজিমে নি ফুমাজিমে’, ‘কাইকেসু জোরোরি’র মতো একাধিক অ্যানিমে ছবি পরিচালনা করেছেন তিনি।
Published By: Biswadip DeyPosted: 10:30 PM Mar 19, 2026Updated: 10:30 PM Mar 19, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
