Advertisement
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ বাসুকি, গুজরাটে মিলেছে সন্ধান! ওজন হাজার কেজি
পুরাণে এই সাপের কথাই বলা হয়েছে?
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সাপ! গুজরাটের কচ্ছ উপকূলরেখার কাছে একটি স্থানে মিলেছিল যে সাপের জীবাশ্ম। হিন্দু পুরাণের বাসুকি নাগের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে এই অতিকায় সাপের নামকরণ করা হয়েছে বাসুকি।
এই সাপের ওজন ছিল ১০০০ কেজি। দৈর্ঘ্য ৪৯ ফুট। এর আগে জানা ছিল টাইটানবোয়াই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রকাণ্ড সাপ। কিন্তু বাসুকি ইন্ডিকাসের জীবাশ্ম সেই ধারণাকে চূর্ণ করে দিয়েছে। ২০০৫ সালে কচ্ছের লিগনাইট খনির পাললিক স্তরের মধ্যে আবিষ্কৃত হয়েছিল সেই জীবাশ্ম। দুই দশক ধরে প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর এক বিস্ময় হয়ে বিরাজ করছে ওই অতিকায় সাপ! বিজ্ঞানীরা সাপটির মেরুদণ্ডের হাড়ের ২৭টি অংশ উদ্ধার করেছেন।
গত কুড়ি বছর ধরে ওই অতিকায় জীবাশ্ম খতিয়ে দেখেছেন আইআইটি রুরকির বিজ্ঞানীরা। জানা গিয়েছে, ডাইনোসররা অবলুপ্ত হয়ে গেলেও এই প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীরা টিকে গিয়েছিল। ১৬ কোটি বছরেরও বেশি সময় ধরে এরা রাজত্ব করেছে এই গ্রহে।
টাইটানবোয়ার সঙ্গে বাসুকির অদ্ভুত মিল রয়েছে। আবার পার্থক্যও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, উভয়ের মেরুদণ্ডের হাড়ে পার্থক্য ছিল। তবে বাসুকি সত্যিই টাইটানবোয়ার চেয়েও লম্বা ছিল কিনা সেবিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা। তবে ২০০৯ সালে কলম্বিয়ার একটি কয়লা খনিতে টাইটানোবোয়ার জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়। সেটি প্রায় ৪২ ফুট লম্বা ছিল। কিন্তু বাসুকির দৈর্ঘ্য অন্তত ৪৯ ফুট বলেই মনে করা হচ্ছিল।
হিন্দু পুরাণের এক বিস্ময়ের নাম বাসুকি নাগ! সমুদ্র মন্থনের গল্পে যে সাপের ভূমিকা ছিল বিরাট। এর সাহায্যে মন্দার পর্বতকে চাকার মতো মন্থন করা হয়েছিল। সহজ ভাবে বললে ঘোরানো হয়েছিল। আর তারপরই সমুদ্রের গর্ভ থেকে অমৃত ও গরল দুই-ই উঠে এসেছিল। সেই অমৃত নিয়ে দেবাসুরে কী কাণ্ড হয়েছিল তা সকলেরই জানা।
মহাভারতে উল্লিখিত নাগবংশের রাজা অর্থাৎ নাগরাজ ধরা হয় বাসুকিকে। এই সাপই শিবের শিবের গলা পেঁচিয়ে থাকে। তার বোন মনসা। প্রাগৈতিহাসিক যুগের অতিকায় সাপটির সঙ্গে পুরাণের এই সাপের আশ্চর্য মিল রয়েছে। যা দেখে তার নামকরণ করা হয়েছে এই সাপের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে।
সমুদ্রের দেবতা বরুণের প্রাসাদে বাস করে বাসুকি। তার উল্লেখ রয়েছে বৌদ্ধধর্মেও। বলা হয়, বুদ্ধের অনেক ধর্মোপদেশের সময় দর্শকাসনে উপস্থিত থাকত এই সাপ। সঙ্গে থাকত অন্য নাগরাজরাও। যাদের কর্তব্য ছিল বুদ্ধকে রক্ষা করা।
বাসুকির ফসিলস খুঁটিয়ে দেখেছেন বিজ্ঞানীরা। আসলে পৃথিবীতে মানুষের কোনও অস্তিত্বই ছিল না যখন, তখনকার পরিবেশ সম্পর্কে জানতে এই জীবাশ্মরাই যেন অতীতের চিঠি। ডাইনোসর-সহ বহু আশ্চর্য প্রাণীদের দেখা আমরা এভাবেই পেয়েছি। বাসুকি নাগও সেই তালিকার এক অন্যতম সংযোজন।
তবে জীবাশ্ম দেখে কোনও প্রাণীকে চিহ্নিত করার কাজ সহজ নয়। তাই দুই দশকের গবেষণার পরে বিজ্ঞানীরা বাসুকির সম্পর্কে ধারণা করতে পেরেছেন। প্রমাণ করাও সম্ভব হয়েছে যে, অতিকায় সাপটি সত্যিই একদিন এই পৃথিবীতে ছিল।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বাসুকি অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারত। কিন্তু কীভাবে এই অতিকায় প্রাণীগুলি পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেল তা আজও রহস্যে ঘেরা। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই তা জানা যাবে। পাশাপাশি আরও একটা বিষয় খুবই কৌতূহলোদ্দীপক। ভারতেই যেহেতু এই সাপগুলি ছিল, তাহলে কি পুরাণে এই সাপগুলির কথাই বলা হয়েছে?
Published By: Biswadip DeyPosted: 09:36 PM Mar 27, 2026Updated: 09:36 PM Mar 27, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
