সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ। বর্তমান সময়ে পরকীয়া যেন জল-ভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে মুক্তি পেতে বন্ধুত্বের হাতছানিতে সাড়া দিয়ে বহু মানুষ জড়িয়ে পড়েন পরকীয়ায়। আর এক্ষেত্রে সংখ্যার নিরিখে এগিয়ে মহিলারাই। এমনটাই বলছে পরকীয়া অ্যাপ (Extramarital Dating App) গ্লিডেন। হু হু করে নাকি ওই অ্যাপে বাড়ছে মহিলা সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা। ওই অ্যাপের মোট সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা পেরল ৪০ মিলিয়ন, যা অবাক করছে সকলকে।
হু হু বাড়ছে পরকীয়া অ্য়াপের সাবস্ক্রাইবার।
বলা হয়, বিয়ের বয়স বাড়লে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেকার সেই রসায়ন আর থাকে না। বরং সবটা গিলে নেয় সাংসারিক জটিলতা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সামান্য কথা থেকেই অশান্তি তৈরি হয়। তখন প্রয়োজন হয় একটা বন্ধুর। এবার সমস্যা হচ্ছে, চেনা বন্ধুদের কাছে ব্যাক্তিগত সমস্যা জানালে তা নিয়ে সমালোচিত হওয়ার একটা আশঙ্কা থাকে। আর এই ফাঁকফোকর থেকেই জীবনে ঢুকে পড়ে জীবেনে ঢুকে পড়ে ডেটিং অ্যাপ। বিবাহিতরাও খোলা বাতাস পেতে ডেটিং অ্যাপে বন্ধুত্ব পাতান। যা পরবর্তীতে মোড় নেয় প্রেমের। গ্লিডেন অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৬৫ শতাংশ পুরুষ এবং বাকি ৩৫ শতাংশ নারী। পুরুষের সংখ্যা এখনও বেশি হলেও গত কয়েকবছরে হু হু করে বেড়েছে মহিলা সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা। গত দুই বছরে নাকি মহিলা সাবস্ক্রাইবার বেড়েছে প্রায় ১৪৮ শতাংশ। যা শুধু মহিলাদের একাকীত্ব নয় বরং স্বাধীনচেতা হওয়ার প্রমাণও।
তথ্য বলছে, এই অ্যাপের ১৮ শতাংশ মহিলা ব্যবহারকারী বেঙ্গালুরুর। তারপরই রয়েছে হায়দরাবাদ। রাজধানী দিল্লির প্রায় ১১ শতাংশ বাসিন্দা এই অ্যাপ ব্যবহার করেন। জানা যাচ্ছে, এই অ্যাপ ব্যবহারকারীদের আচরণেও কিছু নির্দিষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে। সদস্যরা প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘণ্টা চ্যাট করেন। তা দুপুরে ও রাত ১০ টার পরে। একটি প্রতিবেদন বলছে, বেশিরভাগ পুরুষই ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীদের খোঁজেন। নারীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষরা। শুধু তাই নয়, গল্প করার জন্যও কিন্তু আর্থিকভাবে এগিয়ে থাকা মানুষকেই পছন্দ করেন সকলে।
