সর্বক্ষণ মনে হচ্ছে, একের পর এক খারাপ ঘটনা ঘটে চলেছে আপনার সঙ্গেই। কোথাও যেন ভুলভাল হয়ে রয়েছে সব। ঠিক কী ভুল, তা বুঝতে পারছেন না যদিও। অথবা হয়তো নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তির সঙ্গে খানিক সময় কাটানোর পরেই একেবারে দ্রুত হতাশায় ডুবে যেতে লাগলেন। ঠিক কোন কারণে এই হতাশা, তাও ঠাওর করতে পারছেন না কিছুতেই!
এক্ষেত্রে হতে পারে কোনও অন্য কারও নেগেটিভ এনার্জি (negative energy) গ্রহণ করে ফেলছেন আপনি! হতে পারে আপনি এমন কোনও সহকর্মীর সংস্পর্শে রয়েছেন, যে সবেতেই ভুল বের করে। অথবা এমন কোনও বন্ধু, যে কেবল দুঃখ-দুর্দশার কথাই বলে চলে ক্রমাগত। অথবা পরিবারেরই এমন কোনও সদস্য যে সরাসরি আপনাকে দোষারোপ করে। নেগেটিভ এনার্জির প্রভাব কিন্তু শরীর-মনের গভীর ক্ষতি করতে পারে!
কোনও মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর পর, তার সাহচর্য আপনাকে কীভাবে প্রভাবিত করল, সে বিষয়ে সচেতন হন।
কী থেকে বুঝবেন সত্যিই এমন অশুভ শক্তিকে শোষণ করে ফেলেছেন কি না? রইল বোঝার উপায়।
১। অন্যের দুঃখে সমব্যথী হওয়া অবশ্যই মানবিকতার পরিচয়। কিন্তু চেষ্টা করতে হবে, তা কেবল ঘটনা হিসেবে শুনে, একপাশে সরিয়ে রাখা। যদি অন্যের সমস্যাকে নিজের সমস্যার মতো গুরুত্ব দিতে শুরু করেন, তবে তাতে আদতে আপনারই ক্ষতি।
২। কোনও কাজ বা কথায় সায় দিতে ইচ্ছে না করলে, জোর করে ‘হ্যাঁ’ বলার দরকার নেই। আমাদের অনেকেরই এমন অভ্যেস থাকে যে অন্যকে আহত করব না বলে অনিচ্ছে সত্বেও রাজি হয়ে যাই কোনও ক্ষেত্রে। এমনটা করা কিন্তু নেগেটিভ এনার্জিকে আহ্বান জানানোরই সমার্থক।
৩। কোনও মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর পর, তার সাহচর্য আপনাকে কীভাবে প্রভাবিত করল, সে বিষয়ে সচেতন হন। আপনি কি খুশি হলেন? নাকি সে চলে যাওয়ার পর হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন, এমনটা মনে হল? যদি কারও সঙ্গে মিশে ক্রমাগত বিরক্তির সৃষ্টি হয়, তবে তেমন সঙ্গ ত্যাগ করাই শ্রেয়।
আমাদের অনেকেরই এমন অভ্যেস থাকে যে অন্যকে আহত করব না বলে অনিচ্ছে সত্বেও রাজি হয়ে যাই।
৪। এক কাজ থেকে অন্য কাজে ঝাঁপ দেবেন না। অফিসের ক্লান্তি কাটাতে, বাড়ি এসেই মাত্র আরেক ক্লান্তিকর কাজে নিজেকে ছুড়ে দেবেন না। নিজেকে সময় দিন। কিছুক্ষণ চুপ করে বসুন। মনে মনে সমস্ত ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করুন। তারপর শুরু করুন নতুন করে।
৫। কেবল মানুষ নয়, সারাদিনব্যাপী যদি দুর্ঘটনার খবর দেখেন, তবে তাও আপনাকে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সোশাল মিডিয়া থেকে দূরে, কিছুটা সময় কাটান ভালো জিনিসের মধ্যে। বই পড়ুন, গাছে জল দিন, বাড়ির পোষ্যদের সঙ্গে সময় কাটান। নেগেটিভ এনার্জির থেকে দূরত্ব রাখতে পারছেন কি না, সে দায়িত্ব কিন্তু অনেকখানি আপনার নিজের।
