সঙ্গীকে ভীষণ ভালোবাসেন, সেও ফিরিয়ে ভালোবাসে আপনাকে। যে কোনও ছোট জিনিস সবার আগে তার সঙ্গেই ভাগ করে নেন। একই আচরণ তার দিক থেকেও পান। কোথাও তো ভ্রান্তি নেই কোনও, তবু যেন সুর কাটছে আজকাল। অন্যদিকের মানুষটি স্পেস চাইছে, আপনার কাছে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে কোনও কারণে অস্বস্তি পাচ্ছে যেন। এতেই যে তাকে ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বলে দাগিয়ে দেওয়া যায় একেবারে, তাও নয়। কোথায় সমস্যা হয়েছে তবে? দু'জনেই ‘এনমেশমেন্ট’-এ (enmeshment) জড়িয়ে পড়েননি তো?
আপনি কখনও নিজের মতো সময় কাটাতে চাইলে তার মন খারাপ হয়ে যায়।
জানার জন্য আগে বুঝতে হবে প্রেমের সম্পর্কে এনমেশমেন্ট ঠিক কী! এমন এক সম্পর্ক, যেখানে তথাকথিত দূরত্ব নেই দুটি মানুষের মধ্যে। আর স্বেচ্ছাতেই নেই। দুজনেই অন্যজনের জীবনে পথপ্রদর্শক। ‘কেমন জামা পড়লে ভালো লাগবে’ থেকে শুরু করে, জীবনের বড় কোনও সিদ্ধান্ত পর্যন্ত একে অপরের পাশে থাকেন অনায়াসেই। অন্যজনের থেকে কোনও কথা লুকিয়ে রাখতে হবে, এমনটাও মনে করেন না দুজনের কেউই। এই পর্যন্ত সমস্যা নেই কোনও, বরং আর দশটি দম্পতি হয়তো খানিক হিংসাই করে আপনাদের। সমস্যা হল, এমন সম্পর্কেও রয়েছে ভুরি ভুরি নেতিবাচক দিক।
- ‘এনমেশমেন্ট’-এ মানুষের ব্যক্তিগত বাউন্ডারি বলে যেন আর কিছুই থাকে না। ফলে আপনি কখনও নিজের মতো সময় কাটাতে চাইলে তার মন খারাপ হয়ে যায়। আপনি একা ভালো কিছু খেলে, নিজেই ভোগেন অপরাধবোধে। এমনভাবে চলতে থাকলে এক সময় তার ভালো-খারাপ লাগার কথা ভেবেই হয়তো বিভিন্ন কথা লুকাতে শুরু করবেন!
- তার পরামর্শ আপনার কাজে লাগে, তাই কোনও বিষয়ে তার পরামর্শ অনুযায়ী না চললে হয়তো সঙ্গী কষ্ট পেয়ে যাবে, এই ভয় থেকে যায় আপনার মনে। তাকে কষ্ট দেবেন না বলে কিছু কাজ অনিচ্ছে সত্ত্বেও করেন। অথচ তেমনটা করে সত্যিই খুশি হতে পারছেন কি?
- এ নিয়ে কথা বলতে গেলে, পার্সোনাল স্পেস চাইলে, অন্যজনের হয়তো নিজেকে অবাঞ্ছিত বলে মনে হচ্ছে সম্পর্কে। ফলত, ঝগড়া ঝামেলা কথা কাটাকাটি।
পার্সোনাল স্পেস চাইলে, অন্যজনের হয়তো নিজেকে অবাঞ্ছিত বলে মনে হচ্ছে সম্পর্কে।
কী করবেন?
নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া যতই ভালো থাকুক না কেন, এমন সমস্যা সাধারণত কথা বলে ঠিক হওয়ার মতো নয়। জটিলতা বাড়ছে বুঝলে অবশ্যই মনোবিদের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনে কাপল কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা করুন। মনোমালিন্য যাই হোক না কেন, ভালোবেসেই কাছে এসেছিলেন এককালে, সে কথা ভুললে চলবে না।
