প্রেম বা বিয়ের প্রথম কয়েকটি বছর উদ্দাম অনুভূতির মধ্য দিয়ে কেটে যায়। কিন্তু সময় যত গড়ায়, নিত্যদিনের ব্যস্ততার টানাপোড়েনে সেই রেশ ফিকে হতে সময় লাগে না। চিরাচরিত স্বামী-স্ত্রীর সামাজিক সম্পর্কের বাইরে গিয়ে কীভাবে জিইয়ে রাখা যায় দাম্পত্যের এই উষ্ণতা? সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে খোলাখুলি কথা বললেন বলিউড অভিনেত্রী করিনা কাপুর খান (Kareena Kapoor Khan)। স্বামী সইফ আলি খানের সঙ্গে তাঁর এক যুগেরও বেশি সুখী দাম্পত্যের মূল মন্ত্র আসলে কী? তা নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য জানালেন তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
করিনার কথায়, 'আমরা ঠিক টিপিক্যাল স্বামী-স্ত্রী নই।' তাঁর মতে, বিয়ের এতগুলো বছর পর আজও তাঁদের মধ্যে প্রেম অটুট। রয়েছে একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সান্নিধ্য উপভোগের আনন্দ। দিন শেষে ক্লান্ত শরীরে ঘরে ফিরে কফির কাপ হাতে কিংবা এক গ্লাস ওয়াইন নিয়ে যার কথা সবচেয়ে আগে মনে পড়ে, তিনি সইফ। অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, কোনও সুখ-দুঃখের কথা ভাগ করে নিতে বন্ধুকে ফোন করার আর প্রয়োজন পড়ে না তাঁর। জীবনসঙ্গীর মধ্যেই সেই পরম বন্ধুকে খুঁজে পান তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, দাম্পত্যে এই বন্ধনই আসল। সামাজিক বাধ্যবাধকতা বা একঘেয়ে নিয়ম পালনের নাম সংসার নয়। সেখানে প্রয়োজন খোলামেলা যোগাযোগ। প্রয়োজন বন্ধুত্ব। কাপুর ও পতৌদি— দুই বিখ্যাত পরিবারের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন করিনা নিজেই। সইফের মতো খানিকটা লাজুক ও আভিজাত্যপূর্ণ স্বভাবের মানুষের সঙ্গে তিনি যে ভাবে সম্পর্কের ভিত গড়েছেন, তা অনেকের কাছেই প্রেরণা।
মনোবিদদের মতে, জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের মাঝে সম্পর্ক রিফ্রেশ করা প্রয়োজন। মানসিক চাপ কমাতে, দ্বিমত মেটাতে কিংবা জরুরি মুহূর্তে সঙ্গীর পাশে থাকতে খোলাখুলি কথা বলার বিকল্প নেই। কেবল একই ছাদের নিচে বাস করা নয়, পরস্পরকে কোয়ালিটি টাইম দেওয়াই হল দীর্ঘস্থায়ী অনুভূতির আসল চাবিকাঠি।
ছবি: সংগৃহীত
রোজকার ব্যস্ততায় যখন সম্পর্কের সবুজ ফিকে হতে শুরু করে, তখন বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেওয়াটাই সেরা উপায়। করিনা-সইফের এই বার্তা অন্তত সেই কথাই মনে করিয়ে দেয়।
