ভুল-ত্রুটি নিয়েই জীবন। চলার পথে কেউই পারফেক্ট নন। তা সত্ত্বেও কেউই উলটো দিকের মানুষটার ভুল ধরতে দ্বিধা করেন না। পার্টনারে দোষ-ত্রুটি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণই দেখা যায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, স্বাভাবিক নিয়মেই কথায় কথা বাড়ে। আর দিনভর অশান্তি কারই বা ভালো লাগে! অনেককেই দেখা যায়, স্রেফ পারফেক্ট পার্টনারের খোঁজে বারবার সঙ্গী বদল করেন। কিন্তু জানেন কি আসলে সমস্যাটা রয়েছে নিজের অন্দরেই। নিজের আচরণে সামান্য বদল আনতে পারলেই যে কোনও সম্পর্কই হতে পারে পারফেক্ট। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক সেগুলোই।
১. মাথায় রাখবেন সব তর্কে যে আপনাকে জিততেই হবে তা কিন্তু নয়। যুগলের মধ্যে লড়াইয়ে একজন জিতে যাওয়া মানে আদতে সম্পর্কের হেরে যাওয়া। সঙ্গী ভুল, আপনি ঠিক এটা প্রমাণের চেষ্টা না করে কী বলতে চাইছেন তা বুঝিয়ে বলুন। মাথায় রাখবেন, আপনার আচরণে যেন কোনওভাবেই সঙ্গী অপমানিত বোধ না করে।
ফাইল ছবি।
২. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সঙ্গী না বলা কথা বুঝবে এই আশা করেন সকলে। আর তা না বুঝতে পারলেই সমস্যা শুরু। এই ধারণাটা থেকে বেরিয়ে আসুন। না বলা কথা বুঝে নিলে তা ভালো, কিন্তু বুঝতে না পারলেও তা কিন্তু অপরাধ নয়। বরং সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা ভাবে কথা বলুন। তাঁকে জানান, কী চাইছেন।
৩. সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়। প্রথম দিকে সঙ্গীর সঙ্গে প্রতিমুহূর্ত জুড়ে থাকে সকলেই। প্রতিমুহূর্তে ফোন, টেক্সট করলেই সঙ্গে সঙ্গে মেলে উত্তর। একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, ডিনার-এসব চলতেই থাকে। কিন্তু একটা সময়ের পর ব্যস্ততার কারণে একইভাবে এফোর্ট দিতে পারে না কেউই। আর এতেই চিড় ধরে সম্পর্কে। চেষ্টা করুন সম্পর্কের বয়স বাড়লেও ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে স্পেশাল করে তোলার।
ফাইল ছবি।
৪. ভুলেও সঙ্গীর সঙ্গে কারও তুলনা টানবেন না। মনে রাখবেন প্রতিটা সম্পর্কই প্রতিটির থেকে আলাদা। নিজেদের সুন্দর মুহূর্তগুলোকে উদযাপন করুন।
৫. মতবিরোধ ভীষণ স্বাভাবিক বিষয়। যে কোনও ইস্যুতেই মতানৈক্য তৈরি হতে পারে। কিন্তু তা যেন অসম্মানের পর্যায়ে না পৌঁছয়। জেনেশুনে সঙ্গীকে আঘাত করবেন না। ভুল করে ফেললে ক্ষমা চেয়ে নিন।
৬. ভালোবাসা মানে একটা দায়িত্ব। একজনের নির্ভরতা কাঁধ। ভালো দিনে না থাকলেও তাঁর খারাপ সময়ে অবশ্যই পাশে থাকুন। বেঁধে বেঁধে থাকুন।
