সাতপাকে বাঁধা পড়ার পর কত বসন্তই তো পেরিয়েছে একসাথে। চার হাত এক হওয়ার পর থেকে সুখে-দুঃখে কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের অনেকটা সময়। অথচ, হঠাৎ করেই যেন তাল কাটল সুরের! চল্লিশ কিংবা পঞ্চাশের কোঠায় এসে, বহু বছরের চেনা সংসারটা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল অকস্মাৎ। কী অবাক হচ্ছেন খুব? আজকাল মাঝবয়সে এসে বিবাহবিচ্ছেদের এই প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। সম্পর্কের এই অদ্ভুত ভাঙনের নামই ‘মেনোডিভোর্স’।
প্রতীকী ছবি
কী এই ‘মেনোডিভোর্স’?
শব্দটা নতুন হলেও, এর পেছনের কারণটা কিন্তু একেবারেই নতুন নয়। ‘মেনোপজ’ এবং ‘ডিভোর্স’— এই দুই শব্দের মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে ‘মেনোডিভোর্স’। সহজ কথায় বলতে গেলে, মহিলাদের পেরিমেনোপজ বা মেনোপজ চলাকালীন দম্পতিদের মধ্যে যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে, তাকেই এই নামে ডাকা হচ্ছে।
সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্যে মহিলাদের মেনোপজ হয়ে থাকে। আর ঠিক এই বয়সেই অনেক চেনা সম্পর্কের সমীকরণ ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে।
প্রতীকী ছবি
শরীরের হরমোন, মনের দূরত্ব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেনোপজ সরাসরি ডিভোর্সের কারণ নয়। তবে এটি সম্পর্কের ভাঙনে অনুঘটকের কাজ করে। এই সময়ে শরীরে হরমোনের মাত্রার ব্যাপক ওঠানামা হয়। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর। মেজাজ খিটখিটে হওয়া, হঠাৎ রাগ, অবসাদ বা প্রচণ্ড ক্লান্তি এই সময়ের চেনা লক্ষণ।
অনেক সময় শারীরিক ঘনিষ্ঠতার প্রতিও আগ্রহ কমে যায়। স্বামী হয়তো বুঝতেই পারেন না, তাঁর আজীবনের সঙ্গী ঠিক কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন? ফলে, তিল তিল করে বাড়তে থাকে ভুল বোঝাবুঝি।
এই বয়সে এসে অনেক নারীই নিজের জীবন, কেরিয়ার এবং সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়ন করতে শুরু করেন। তাঁরা নতুন করে স্বাধীনতা খোঁজেন, নিজেদের মানসিক চাহিদা নিয়ে ভাবেন। সঙ্গী সেই চাহিদা বুঝতে না পারলে একাকিত্ব আর ক্ষোভ জমে জমে পাহাড় হয়। আর সেখান থেকেই আসে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত।
প্রতীকী ছবি
ভাঙন রুখতে কী করণীয়?
১) খোলামেলা কথা বলুন: মনের কষ্ট লুকিয়ে না রেখে সঙ্গীর সঙ্গে স্পষ্ট আলোচনা করুন।
২) সহানুভূতিশীল হোন: পুরুষদেরও সচেতন হতে হবে। স্ত্রীর আচরণকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না ভেবে, তাঁর শারীরিক কষ্টটা বোঝার চেষ্টা করুন।
৩) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: হরমোনের সমস্যা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ সামলাতে গাইনোকোলজিস্ট বা থেরাপিস্টের সাহায্য নিন।
৪) কোয়ালিটি টাইম: সংসারের চেনা ছকের বাইরে বেরিয়ে দু’জনে একসঙ্গে কিছুটা সময় কাটান। নতুন করে একে অপরকে চেনার চেষ্টা করুন।
সম্পর্কের বাঁধন আলগা হতে না দিয়ে, একে অপরের পাশে থাকাই এই বিপন্ন সময়ের আসল চাবিকাঠি।
