গ্রহ-নক্ষত্রের আবর্তনে মাটির পৃথিবীও নাকি বদলে যায়। এ বার রাখি (Raksha Bandhan 2026) পূর্ণিমায় ঠিক তেমনই এক অলৌকিক সমাপতন। কালপুরুষ আর গ্রহমণ্ডলের বিরল চালচিত্রে মিলছে এক অনন্য বার্তা। পুরনো বিবাদ, ভুল বোঝাবুঝি আর দূরত্বের বরফ এবার গলতে চলেছে। ভাই-বোনের স্নেহের বন্ধন এবার আর শুধুই একটি সুতোয় আটকে থাকবে না, তাকে আরও শক্ত ও সুদৃঢ় করতে হাজির হচ্ছে তিন-তিনটি পরম শুভ যোগের ত্রিবেণী সঙ্গম।
রবি যোগ। ছবি: সংগৃহীত
রবি যোগ
জ্যোতিষশাস্ত্রের গণনা অনুযায়ী, এ বারের রাখি পূর্ণিমায় উদিত হচ্ছে শক্তিশালী ‘রবি যোগ’। গ্রহরাজ সূর্যের প্রত্যক্ষ প্রভাবজাত এই মহাযোগকে শাস্ত্রে ‘সর্বদোষ বিনাশক’ বলা হয়। অমঙ্গল ও অশুভ শক্তিকে ভস্ম করার অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে এই যোগে। এই শুভ লগ্নে বোনেদের হাতের স্পর্শে ভাইদের হাতে সুতো উঠলে জীবনের সমস্ত বাধা-বিপত্তি কেটে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয় কোষ্ঠীর বিচার। রাহু কিংবা শনির অশুভ নজর থেকে মুক্তির এ এক অপূর্ব লগ্ন।
সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ। ছবি: সংগৃহীত
সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ
মহাজাগতিক এই ক্যানভাসে দ্বিতীয় পরম মুহূর্তটি হল ‘সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ’। বৈদিক জ্যোতিষ অনুযায়ী, এটি এমন এক মহতী লগ্ন, যখন যে কোনও সৎ ইচ্ছা ও কাজ পূর্ণতার দিকে ধাবিত হয়। জ্যোতিষীদের মতে, এই সময়ে শুভ আচার পালিত হলে ভাইয়ের জীবনে আসবে সৌভাগ্য, কর্মক্ষেত্রের উন্নতি এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি। কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার পথ আরও মসৃণ হয়ে উঠবে।
প্রতীকী ছবি
শোভন যোগ
সম্পর্কের অন্দরে জমে থাকা তিক্ততা গলিয়ে দেওয়ার আসল অনুঘটক হল ‘শোভন যোগ’। এই জ্যোতিষ-বিন্যাস মূলত পারস্পরিক প্রীতি, ভালোবাসা এবং সুসম্পর্কের দ্যোতক। যদি অতীতের অভিমান বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে সম্পর্কে ফাটল ধরে থাকে, তবে এই যোগের শুভ প্রভাবে তা অনায়াসে জুড়ে যেতে পারে। সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য এটি এক অলৌকিক ক্ষণ।
যদিও শাস্ত্রীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই এই তিনটি যোগের গুরুত্ব অপরিসীম এবং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ঊর্ধ্বে, তবে উৎসবের মূল সুরটি কিন্তু পরম ভালোবাসারই। রবি, সর্বার্থ সিদ্ধি ও শোভন—তিন যোগের প্রভাবে ঘরে ঘরে ফিরে আসুক সম্প্রীতির আবহাওয়া। সুতোর বাঁধনে আর গ্রহের আশিসে দীর্ঘায়ু লাভ করুক চিরন্তন ভাই-বোনের সম্পর্ক।
