হিন্দুধর্মে রাখিবন্ধন এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ভাই-বোনের আত্মিক টান, অকৃত্রিম বিশ্বাস ও সুরক্ষার চিরন্তন প্রতীক। শুভ লগ্নে বোন যখন ভাইয়ের কবজিতে পরম স্নেহে 'রক্ষাসূত্র' বেঁধে দেয়, তখন সেই সুতোর প্রতিটি বাঁধনে উচ্চারিত হয় মঙ্গলকামনা ও আজীবন পাশে থাকার নীরব প্রতিশ্রুতি। ভাইবোনের অটুট সম্পর্কের এ যেন এক চিরন্তন বাঁধন। এ বছর কবে পড়েছে রাখি?
ফাইল ছবি
কবে পড়েছে রাখিবন্ধন ২০২৬ উৎসব?
শাস্ত্রীয় নিয়ম ও 'উদয় তিথি' অনুসারে এই বছর ২৮ আগস্ট, শুক্রবার উদযাপিত হবে রাখিবন্ধন উৎসব (Raksha Bandhan 2026)। পঞ্জিকা মতে, ২৭ আগস্ট সকাল ৯টা ৯ মিনিটে পূর্ণিমা তিথির সূচনা হলেও তা বজায় থাকবে ২৮ আগস্ট সকাল ৯টা ৪৯ মিনিট পর্যন্ত। ফলে সনাতন রীতি মেনে ২৮ আগস্টের সূর্যোদয়ের পর থেকেই পালন করা হবে এই পুণ্য পর্ব।
ফাইল ছবি
এ দিন কোন শাস্ত্রীয় মেনে চলবেন?
উৎসবের শুভ সকালে স্নান সেরে গৃহদেবতা ও ইষ্টদেবতার চরণে প্রথম রক্ষাসূত্র নিবেদন করার বিধান রয়েছে। এরপর ভাইয়ের কপালে চন্দন বা সিঁদুরের শ্রীতিলক ও অক্ষত অর্পণ করে ডান হাতে রাখি বাঁধার নিয়ম প্রচলিত। রাখিবন্ধনের সময়ে ভাইয়ের মুখ পূর্বদিকে থাকা অত্যন্ত শুভ। পরিশেষে মিষ্টিমুখ ও বোনকে উপহার প্রদান এই মাঙ্গলিক অনুষ্ঠানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে শাস্ত্র মতে, এই বিশেষ দিনে ভাই-বোন কারওই কৃষ্ণবর্ণ বা কালো বস্ত্র পরিধান করা উচিত নয়। কটুভাষণ ও কলহ ত্যাগ করে ভক্তি ও ভালোবাসার আবহ বজায় রাখাই এই পর্বের মূল সারকথা।
ফাইল ছবি
রাখিবন্ধনের পৌরাণিক আখ্যান জানেন?
রাখিবন্ধনের নেপথ্যে রয়েছে কালজয়ী পৌরাণিক ঐতিহ্য। ধর্মগ্রন্থ মতে, দেবী লক্ষ্মী অসুররাজ বলির কবজিতে রক্ষাসূত্র বেঁধেছিলেন। আবার মহাভারতে পাই শ্রীকৃষ্ণ ও দ্রৌপদীর পরম পবিত্র সম্পর্কের কথা। কৃষ্ণের রক্তাক্ত আঙুলে দ্রৌপদী নিজের শাড়ির আঁচল ছিঁড়ে বেঁধে দিলে, দ্রৌপদীর সংকটকালে বস্ত্রহরণের সময় শ্রীকৃষ্ণ সেই ঋণের মর্যাদা রক্ষা করেছিলেন। এই পবিত্র আখ্যানগুলিই স্মরণ করিয়ে দেয় রাখি কেবল অলংকার নয়, সম্পর্কের এক স্বর্গীয় অঙ্গীকার।
