শ্রাবণ মাসের কৃষ্ণা দ্বাদশী তিথি। এই তিথি পেরিয়ে পূর্ণিমার ঠিক আগের শুক্রবার দক্ষিণ ভারতে পালিত হয় এক অত্যন্ত পবিত্র উৎসব। এই ব্রত বরলক্ষ্মী বা বরমহালক্ষ্মী (Varalakshmi Vratham 2026) নামে সুপরিচিত। গৃহস্থের মঙ্গল, পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি এবং ধনধান্য বৃদ্ধির কামনায় বিবাহিত নারীরা এই ব্রত পালন করেন। লোকবিশ্বাস, নিষ্ঠাভরে এই দিনে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করলে অষ্টলক্ষ্মী পূজার সমান ফল লাভ হয়। কেবল ধন নয়; শান্তি, শক্তি, কীর্তি ও বিদ্যা প্রাপ্তি ঘটে দেবীর কৃপায়।
ছবি: সংগৃহীত
শুভ যোগ ও পূজার মাহাত্ম্য
চলতি বছর আগামী ২১ আগস্ট, শুক্রবার পড়েছে এই মহাশুভ তিথি। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, এ বার বরমহালক্ষ্মী ব্রতের দিনে তৈরি হচ্ছে ইন্দ্র যোগ ও সুকর্ম যোগের মতো বিরল ও শুভ সংযোগ। সনাতন ধর্মে দেবী লক্ষ্মী হলেন ঐশ্বর্য ও শান্তির প্রতীক। তাঁর কৃপাদৃষ্টি থাকলে সংসারের সব অভাব দূর হয়। দক্ষিণ ভারত ও মহারাষ্ট্রে এই ব্রতের বিপুল প্রচলন রয়েছে।
পূজা প্রস্তুতির শুভ সময়
শ্রাবণ শুক্রবারের এই পূজায় শুভ মুহূর্ত বেছে নেওয়া অত্যন্ত আবশ্যক। দিনভর প্রধানত তিনটি লগ্নে পূজার বিধান রয়েছে।
- সিংহ লগ্ন (সকাল): ভোর ৬টা ২৩ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৪৮ মিনিট।
- বৃশ্চিক লগ্ন (দুপুর): দুপুর ১২টা ৬ মিনিট থেকে দুপুর ২টো ২০ মিনিট।
- কৈবর্ত/কুম্ভ লগ্ন (সন্ধ্যা): সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিট থেকে রাত ৭টা ৫২ মিনিট।
তবে মনে রাখতে হবে, রাহুকালের সময় পূজার আয়োজন একেবারে নিষিদ্ধ। সূর্য ডোবার আগেই পূজা ও আরতি সম্পন্ন করা উত্তম।
ছবি: সংগৃহীত
কীভাবে গৃহ সাজাবেন?
পূজার আগের দিনই সমগ্র বাড়ি পরিষ্কার করা জরুরি। পূজার দিন সকালে প্রবেশদ্বারে আমপল্লব ও পুষ্পমালা দিয়ে তোরণ বাঁধতে হয়। এতে গৃহের পরিবেশ পবিত্র ও উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। মণ্ডপ সাজানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ নিয়ম। স্নান করিয়ে মণ্ডপের চার কোণে কলাগাছ বাঁধতে হবে। আমপল্লব ও ফুল দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়ে তা পূর্বমুখী করে স্থাপন করা নিয়ম।
ঘট স্থাপন ও শাস্ত্রীয় বিধি
সোনা, রূপো, তামা বা অন্য ধাতুর কলসে চাল, হলুদ, সুপারি, ধান্য ও মুদ্রা দিতে হয়। কলসের মুখে পাঁচটি পানের পাতা সাজিয়ে তার উপর নারকেল স্থাপন করা বিধি। এরপর দেবী লক্ষ্মীর রূপ বা ছবি ঘটের পেছনে রেখে লাল বস্ত্র, অলঙ্কার ও ফুলে দেবীকে সুসজ্জিত করা হয়। ঘটের দু'পাশে প্রদীপ জ্বালিয়ে ব্রতকথা পাঠ ও আরতি সম্পন্ন করতে হয়।
ছবি: সংগৃহীত
দেবীকে নিবেদনের জন্য কডুবু, চকুলি, বেসন লাড্ডু ও চিত্রান্নের মতো ঐতিহ্যবাহী পদ প্রস্তুত করা হয়। পূজা শেষে সধবা নারীদের সিঁদুর-হলুদ ও 'বাগিনা' (উপহার সামগ্রী) প্রদান করতে হয়। বিশ্বাস, এতে দেবীর চিরন্তন আশীর্বাদে সংসার ধনধান্যে ভরে ওঠে।
