নাসা থেকে অবসর নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস। যবনিকা পড়ল ২৭ বছরের সোনালি এক কেরিয়ারের। ৬০ বছর বয়সে রোমাঞ্চকর এই পেশা থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি। মাত্র কয়েক মাস আগেই তাঁকে ঘিরে সংশয় তৈরি হয়েছিল। মহাকাশে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়েছিল। তবে শেষপর্যন্ত সব সংশয় সরিয়ে রেখে পৃথিবীতে ফিরে আসেন তিনি। এবার মার্কিন মহাকাশ সংস্থা থেকে অবসর নিলেন সেই সুনীতা।
সুনীতার অবসরের কথা জানিয়ে নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান তাঁকে একজন অগ্রদূত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ করেছেন, সুনীতা মানব মহাকাশ অনুসন্ধানের ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রেখেছেন। তাঁর কথায়, “সুনি উইলিয়ামস মানব মহাকাশযাত্রায় একজন পথপ্রদর্শক।” কিংবদন্তি সুনীতা সব মিলিয়ে ৬০৮ দিন কাটিয়েছেন অন্তরীক্ষে! যা নাসার মহাকাশচারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নজির। কেবল তাই নয়, একটি মিশনে একটানা ২৮৬ দিন মহাকাশে থেকেও তিনি রেকর্ড গড়েছেন। মার্কিন নভশ্চর হিসেবে এটা ষষ্ঠ নজির। তিনি মোট ন'টি স্পেসওয়াক সম্পন্ন করেছেন। মহাকাশযানের বাইরে মোট ৬২ ঘণ্টা ৬ মিনিট সময় কাটিয়েছেন। এর ফলে তিনিই মহাকাশে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে হাঁটা নারী! এই ব্যাপারে সর্বকালের তালিকায় তিনি চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। মহাকাশে ম্যারাথন দৌড়ানো প্রথম ব্যক্তি হওয়ার গৌরবও তিনিই অর্জন করেছেন।
কিংবদন্তি সুনীতা সব মিলিয়ে ৬০৮ দিন কাটিয়েছেন অন্তরীক্ষে! যা নাসার মহাকাশচারীদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নজির। কেবল তাই নয়, একটি মিশনে একটানা ২৮৬ দিন মহাকাশে থেকেও তিনি রেকর্ড গড়েছেন।
প্রসঙ্গত, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারীকে ঘিরে কৌতূহলের শেষ নেই। শেষ অভিযানে বারবার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষপর্যন্ত সুনীতা উইলিয়ামসদের পৃথিবীতে ফিরতে ফিরতে লেগে যায় ২৮৬ দিন। অবশেষে ভারতীয় সময় ১৬ মার্চ ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ ফ্লোরিডার সমুদ্রে অবতরণ করে ‘ড্রাগন ফ্রিডম’। পৃথিবীতে ফেরার পর প্রথমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, মহাকাশ থেকে ভারতকে কেমন দেখলেন? প্রশ্ন শুনেই মহাকাশচারীর জবাব, ভারত অসাধারণ। হিমালয় পর্বতমালা থেকে শুরু করে গুজরাট-মুম্বইয়ের মতো শহর- সমস্তকিছুই নজর করেছেন সুনীতারা। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহাকাশচারী জানান, “যখনই হিমালয়ের উপর দিয়ে গিয়েছি, অসাধারণ দৃশ্য দেখেছি। উপর থেকে দেখে মনে পর্বতমালা যেন তরঙ্গ হয়ে ভারতে নেমে গিয়েছে। হিমালয়ের নিচেই প্রচুর রং। পূর্ব থেকে গুজরাট বা মুম্বইয়ের দিকে গেলে মাছধরা নৌকাও দেখতে পেয়েছি, সেটা অবশ্য ছোট্ট একটা পাখির মতো দেখতে লাগে। আলো ঝলমলে বড় শহর থেকে ধীরে ধীরে ছোট শহর হচ্ছে, বোঝা যায়। দিন হোক বা রাত, সবসময়ই ভারতকে দেখতে অসাধারণ লাগে।”
