বারমুডার গোলাপি সৈকত। রঙের ছটার অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য গোটা পৃথিবীর ভ্রমণপিপাসুকে আকর্ষণ করে এই সৈকত। কিন্তু এই মুহূর্তে তা বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই দ্বীপটির জন্ম অন্যান্য আগ্নেয় দ্বীপের মতো হয়নি। আর এই নতুন আবিষ্কার পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে আমাদের এতদিনের ধারণাকে নস্যাৎ করে দিতে পারে!
এতদিন গবেষকরা মনে করতেন যে, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ সৃষ্টির পেছনে যেমন 'ম্যান্টল হটস্পট' কাজ করেছিল, ঠিক সেভাবেই বারমুডারও সৃষ্টি হয়েছে। তবে বারমুডার শিলা নিয়ে সাম্প্রতিক রাসায়নিক গবেষণায় এমন কিছু অস্বাভাবিক মৌলের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, যা সাধারণত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোর শিলার সঙ্গে মেলে না। বিজ্ঞানীরা সেখানকার আগ্নেয় শিলাগুলোর অভ্যন্তরে বিপুল পরিমাণ জল এবং ভারী সিসা আইসোটোপের সন্ধান পেয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, এই সব উপাদান ভূগর্ভের ২৫০ থেকে ৪০০ মাইল গভীরে পাওয়া যায়।
বিজ্ঞানীরা আরও মনে করেন যে, এদের কিছু অংশ হয়তো প্রাচীন মহাসাগরীয় ভূত্বকেরই টুকরো। যা কোটি কোটি বছর আগেই পৃথিবীর সব মহাদেশকে জুড়ে একটিই ভূখণ্ড বানিয়ে রেখেছিল। পাশাপাশি এই আবিষ্কার বুঝিয়ে দিচ্ছে, পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ কোনো সরল বা সমসত্ত্ব স্তর নয়। বরং, এর ভিতরে ভিন্ন ভিন্ন রাসায়নিক অঞ্চল এবং গোপন ভাণ্ডার রয়েছে। একে পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তরভাগের একটি 'প্রাকৃতিক নথিপত্র' বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
মনে করা হচ্ছে, দ্বীপটি সমুদ্রের তলদেশের এমন একটি স্ফীত অংশের ওপর অবস্থিত, যেখানে সমুদ্রপৃষ্ঠের ভূত্বক এর চারপাশের তুলনায় উঁচু। তবে এই স্ফীতি সৃষ্টির পেছনে বর্তমানে কোনও সক্রিয় আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ চলছে, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। দ্বীপটিতে শেষবার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছিল ৩ কোটি ১০ লক্ষ বছর আগে। মনে করা হচ্ছে, মাটির অনেক গভীরে হয়তো এমন বেশ কিছু গোপন রাসায়নিক অঞ্চল রয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
