পাতালের গভীর থেকে উঠে এল এমন এক প্রাণী যাকে দেখে চমকে উঠলেন বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার সোনার খনির অন্দর থেকে উদ্ধার হওয়া জীবটির দৈর্ঘ্য অবশ্য বেশি নয়। বড়জোর একটা চালের দানার মতো। কিন্তু বিশেষত্ব তার বাসস্থানের গভীরতায়। নেমোটাডো পর্বের এই কৃমি জাতীয় প্রাণীটি এতই গভীরে বাস করে, যেখানে থাকার কথা খুব দুরূহ অবস্থানে বসবাসকারী প্রাণীদের পক্ষেও সম্ভব নয়।
তবে এই আবিষ্কার নতুন নয়। ২০১১ সালে পৃথিবীর গর্ভে ১.৩ কিমি গভীর থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। গভীরতা কতটা, তা বোঝাতে জানানো হয়েছিল চারটি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং পরপর দাঁড় করালে যে উচ্চতা হবে, তার সমান। গত দেড় দশক ধরে এই নিয়ে চর্চা চলেছে। আসলে মাটির অত গভীরে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাসের মতো আদ্যপ্রাণী থাকতেই পারে। কিন্তু বহুকোষী প্রাণী? এর আগে তেমন কারও দেখা মেলেনি।
জীবটির দৈর্ঘ্য অবশ্য বেশি নয়। বড়জোর একটা চালের দানার মতো। কিন্তু বিশেষত্ব তার বাসস্থানের গভীরতায়। নেমোটাডো পর্বের এই কৃমি জাতীয় প্রাণীটি এতই গভীরে বাস করে, যেখানে থাকার কথা খুব দুরূহ অবস্থানে বসবাসকারী প্রাণীদের পক্ষেও সম্ভব নয়।
আর এখানেই বিস্ময়। আসলে দক্ষিণ আফ্রিকার ওই খনিও কোনও সাধারণ অন্ধকার গহ্বর মাত্র নয়। তা যত্রতত্র পাথর ও আদিম ভূকোষীয় জলে ভরা। যা লক্ষ লক্ষ বছরের আদিম অন্ধকারে ঢাকা। সূর্যের আলো এখানে কখনওই পৌঁছতে পারে না। কোনও খাদ্য শৃঙ্খলও তাই তৈরি হয়নি। সেই সঙ্গে প্রবল চাপ ও তাপ! অক্সিজেনও প্রায় নেই বললেই চলে। এমন এক অঞ্চলে কী করে ওই প্রাণী টিকে রয়েছে তা সত্যিই অবাক করার মতোই ব্যাপার।
২০১৯ সালে 'নেচার কমিউনিকেশনস'-এ প্রকাশিত হয়েছিল এই সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র। যা থেকে জানা যায়, এই ধরনের প্রাণীকে 'ডেভিল ওয়ার্ম' বলা হয়। সেই সঙ্গে এও বলা হয়েছে, যে তাপমাত্রায় অন্য জীবেরা 'ভাজা ভাজা' হয়ে যাবে এই প্রাণীটি সেখানে দিব্যি টিকে থাকতে পারে। যার নেপথ্যে রয়েছে এদের জিনের গঠন ও আণবিক মডেল।
