অর্ধশতক পরে চন্দ্রাভিযানে ইতিহাস! আর্তেমিস ২ অভিযানে চার মহাকাশচারী পৃথিবী থেকে ৪,০৬,৭৭৮ কিলোমিটার পাড়ি দেন। আজ অবধি মহাকাশ অভিযানে সবচেয়ে দূরবর্তী পথ অতিক্রম করে শনিবার নির্বিঘ্নে পৃথিবীতে ফিরে এলেন চার মহাকাশ বিজ্ঞানী। প্যারাশুটে করে প্রশান্ত মহাসাগরে নামলেন তাঁরা। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা সরাসরি সেই দৃশ্য তুলে ধরেছে গোটা বিশ্বের সামনে।
ইতিহাস গড়ে পাঁচ দশক পর চন্দ্রাভিযানে নভোশ্চরদের পাঠায় নাসা। গত ২ এপ্রিল ভোরে তিন মার্কিন এবং এক কানাডীয় মহাকাশচারীকে নিয়ে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘দানবীয়’ কমলা-সাদা মহাকাশযানটি চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেন। ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় তা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছায়। নাসার পরিকল্পনা, পরবর্তী দিনগুলিতে প্রায় ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে মহাকাশযানটি চাঁদে ঘুরে পরীক্ষানিরীক্ষা চালান। তবে আর্তেমিস ২ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ ঘিরে চক্কর কেটেই ফিরে এসেছে, চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেনি।
প্রথম থেকেই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের দিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ভেদ করে পৃথিবীতে প্রবেশ করার সময় মহাকাশযানটির গতবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪০,০০০ কিমি। তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একটা সময় প্রায় ছ’মিনিটের জন্য মহাকাশচারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত সব কিছু ভালভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। প্রশান্ত ওরিওন প্রশান্ত মহাসাগরে নামার পর হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন চার মহাকাশচারী কম্যান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তাঁরা চাঁদের বুকে মানুষ পাঠানোর আগে সেখানকার পরিস্থিতি এবং খুঁটিনাটি দেখে এলেন। প্রত্যেকেই সুস্থ আছেন বলেই জানা গিয়েছে।
এর আগে নিজের গন্তব্যে পৌঁছে প্রথমেই আর্তেমিস ২ পাঠিয়েছিল নীলগ্রহের দারুণ ছবি। তার মধ্যে একটি ছবি ছিল কালো অন্তরীক্ষে নীল রঙের ঝলমলে পৃথিবী। মহাকাশযানের জানালা দিয়ে তোলা আরেকটি চমৎকার ছবিতে প্রশান্ত মহাসাগর ও মেঘমালার ঘূর্ণায়মান নীল-সাদা বিন্যাসে হাই-রেজোলিউশনে পৃথিবীকে দেখা যাচ্ছে। এর পর পাঠায় চাঁদের অন্ধকার পিঠ এবং তার ‘খুঁত’।
