লম্বা হচ্ছে দিন। 'সৌজন্যে' বিশ্ব উষ্ণায়ন! জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে যেভাবে মেরুপ্রদেশে বরফ গলছে তাতেই এই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বলে দাবি করলেন গবেষকরা। ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইটিএইচ জুরিখের গবেষকরা জানিয়েছেন, ৩৬ লক্ষ বছরের মধ্যে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি।
কিন্তু বরফ গলার সঙ্গে দিন লম্বা হওয়ার কী সম্পর্ক? বলা হচ্ছে মেরুপ্রদেশের হিমবাহ ও বরফ যেভাবে গলতে শুরু করেছে তার ধাক্কাতে সমুদ্রতল উপরে উঠে এসেছে। আর এর ফলে প্রতি শতাব্দীর হিসেবে ১.৩৩ মিলিসেকেন্ড করে সময় যুক্ত হচ্ছে দিনের হিসেবে! আপাতভাবে এই পরিবর্তনকে তেমন বড় মনে না হলেও বিজ্ঞানীরা সতর্ক করছেন। তাঁরা জানাচ্ছে, এর প্রভাব হতে পারে অভাবনীয়। আসলে সমুদ্রতল উঠে আসায় পৃথিবীর উপরের স্তরের পুনর্বিন্যাস হয়েছে। আর এর ফলে পৃথিবীর ঘূর্ণনের গতি কমছে। সেই কারণেই দিনের গতি বাড়ছে।
বলে রাখা ভালো, পৃথিবী কিন্তু একেবারে নিখুঁত অপরিবর্তনীয় গতিতে ঘুরে চলেছে এমন নয়। বরং চাঁদের মহাকর্ষীয় টান, গ্রহের অভ্যন্তরের গতিবিধি এবং বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার কারণে গ্রহটির ঘূর্ণন সব সময়ই পরিবর্তিত হতে থাকে। তবে মানব-সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এই সমীকরণে এক প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে। আর তারই জেরে এহেন পরিস্থিতি।
কিন্তু লক্ষ লক্ষ বছর আগে যখন মানুষ পৃথিবীতে ছিল না, তখনকার অবস্থা কী ছিল তা কী করে জানা গেল? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, সামুদ্রিক এক এককোষী প্রাণীর জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যার রাজনৈতিক গড়ন খতিয়ে দেখে সে সমুদ্র-স্তরের কোনও অবস্থানে ছিল সেটা বের করা হয়েছে। এরপর গাণিতিক হিসেবের মাধ্যমে জানা গিয়েছে সেই সময়ের দিনের দৈর্ঘ্য। আর তাতেই বর্তমান সময়ের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব হয়েছে। সামনে এসেছে ভয়ংকর পরিবর্তনের হিসেব।
কিন্তু পৃথিবীর ঘূর্ণন ধীর হওয়ার কী প্রভাব পড়বে মানবজীবনে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ছোট ছোট পরিবর্তনও আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে। জিপিএস সিস্টেম থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের উপর নজরদারি- সবেতেই সমস্যা তৈরি হবে। এই শতাব্দী শেষ হতে হতে এই পরিবর্তন আরও বড় প্রভাব ফেলবে সভ্যতায়, সতর্ক করছেন গবেষকরা।
