দেবতাদের বাসস্থান হিসেবে কল্পিত হিমালয় (Himalayas) পর্বত। তার তুষারশুভ্র, হিমশীতল চূড়ায় সূর্যরশ্মির স্বর্ণছটা হয়ত এই কল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এই রূপ কত কাব্য-কাহিনিই না সৃষ্টি করেছে! কিন্তু সময়ের ফেরে চিরচেনা সেই হিমালয়ের ছবিটা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। আধুনিক সভ্যতা তাকে গ্রাস করেছে। হিমালয়ের সাম্প্রতিক রূপ দেখে হতবাক পাহাড়প্রেমীরা। এ কি হিমালয় নাকি সুউচ্চ টিলামাত্র? বরফের লেশমাত্র নেই, ধু ধু করছে পাথুরে শৃঙ্গ। বলা হচ্ছে, এবছর শীতে নাকি তুষারপাতের হার ভীষণ কম। আর তাই হিমালয়ের এমন দুর্দশা। হায়! প্রকৃতির এ কেমন কৃপণতা?
হিমালয়ের সাম্প্রতিক রূপ দেখে হতবাক পাহাড়প্রেমীরা। এ কি হিমালয় নাকি সুউচ্চ টিলামাত্র? বরফের লেশমাত্র নেই, ধু ধু করছে পাথুরে শৃঙ্গ। বলা হচ্ছে, এবছর শীতে নাকি তুষারপাতের হার ভীষণ কম। আর তাই হিমালয়ের এমন দুর্দশা।
হিমালয়ের এহেন রূপবদল এত অকস্মাৎ মোটেই নয়। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাচ্ছে, ১৯৮০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যেই গিরিরাজের শরীরে উপুর্যুপরি আঘাত নেমে এসেছে। আসলে সেই সময় থেকেই উষ্ণায়নের অভিশাপে সবে প্রকৃতির রূপবদল পর্ব শুরু হয়েছিল। প্রথমে হিমালয়ের পাদদেশে অতিরিক্ত বৃষ্টি শুরু হয়, বরফপাত কমে যায়। তখন থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে এল নতুন শব্দ - Snow drought বা তুষারখরা। এরপর ধীরে ধীরে একুশ শতকে প্রবেশ করলাম আমরা। সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি নির্ভরতা বেড়েছে। সেইসঙ্গে পরিবেশের প্রতি যথেচ্ছ অবিচার চলছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে হিমবাহ গলনের হার বেড়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে গড় উষ্ণতাও।
প্রথমে হিমালয়ের পাদদেশে অতিরিক্ত বৃষ্টি শুরু হয়, বরফপাত কমে যায়। তখন থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে এল নতুন শব্দ - Snow drought বা তুষারখরা।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা, সারাবছর হিমালয়ের উপরিতলে উষ্ণতা যত কমই থাকুক, আসল বরফপাতের সময়টা শীতকালই। এ সময়ে এত বেশি পরিমাণ বরফ জমা হতো যে সারাবছরই তা দেখা যেত পর্বতের গোটা শরীরজুড়ে। সেটাই ছিল সৌন্দর্য। কিন্তু সময়ের চাকায় বদলে গিয়েছে সব। এখন প্রশ্ন করা যেতেই পারে - 'শীতকাল কবে আসবে, সুপর্ণা?' কারণ, গোটা দেশেই এখন শীতের সময়কালই কম। ঋতুর বিচার করলে হিমালয়ে এখন বেশিরভাগ সময় বসন্ত অর্থাৎ নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া। তাতে বরফপাতের কোনও সম্ভাবনাই প্রায় নেই। আর ভাঁড়ারে যা ছিল, সেই বরফও গলে জল। পাহাড়ে বুক চিরে ঝরনা হয়ে নেমে এসেছে। ফলে গিরিসম্রাট হিমালয় এখন শ্বেতমুকুট হারিয়ে শ্রীহীন! বুকে বাসা বেঁধেছে রুক্ষ্মতা। ধু ধু করছে আকাশছোঁয়া পাহাড়শ্রেণি। নগ্ন পাথর এখন তার সারা শরীরজুড়ে।
